২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা শুরু হয়েছে। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বুধবার (৭ জুন) সংসদে এ আলোচনা শুরু হয়।
গত ১ জুন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সংসদে ৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি ১৫ লাখ ৭৮ হাজার টাকার বাজেট পেশ করেন।
বুধবার প্রথম দিনের বাজেট আলোচনার সরকারি ও বিরোধী দলের আট সংসদ সদস্য আলোচনায় অংশ নেন। তারা হলেন সরকারি দলের রমেশ চন্দ্র সেন, মো. মোতাহার হোসেন, নাজিম উদ্দিন আহমেদ, কাজী মনিরুল ইসলাম, রত্না আহমেদ, খালেদা খানম ও জাতীয় পার্টির রুস্তম আলী ফরাজী।
এর আগে দুই দিন আলোচনা শেষে মঙ্গলবার (৬ জুন) চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেট পাস হয়।
বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারি দলের সদস্যরা বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলায় উত্তরণের পথে দেশ আরেক ধাপ এগিয়ে যাবে।
প্রস্তাবিত বাজেটকে দেশ ও জণগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলনের রূপরেখা বলে উল্লেখ করে তারা বলেন, এ বাজেট বর্তমান সরকার আমলের বিগত বাজেটগুলোর ধারাবাহিকতায় সফলভাবে বাস্তবায়িত হবে।
আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা প্রস্তাবিত বাজেটের সমালোচনার জবাবে বলেন, উন্নত, সমৃদ্ধ ও স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে সরকার এবার ৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকার বিশাল বাজেট প্রস্তাব করেছে। গতবারের চেয়ে এই বাজেট ২০ শতাংশ বেশি। এ বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ উন্নত-সমৃদ্ধির দিকে আরও এগিয়ে যাবে। যতই ষড়যন্ত্র করুক না কেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নয়নের মহাসড়কে দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাবে।
আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের গত প্রায় ১৫ বছরের উন্নয়ন-অগ্রগতির খতিয়ান বিস্তারিত তুলে ধরে তারা বলেন, কৃষিতে সার-সেচসহ চাষের উপকরণ কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ায় দেশ বর্তমানে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। বৈশ্বিক মহামারি করোনার মধ্যে দেশের মানুষের খাওয়া-পরার কোনও অভাব হয়নি। তার ওপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা, অর্থ ও খাদ্যসহায়তার ফলে জনগণের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে।
সদস্যরা বলেন, এত অর্জন ও সাফল্যের পরও দেশে ষড়যন্ত্র থেমে নেই। উন্নয়ন-অগ্রগতি থামিয়ে দিয়ে দেশকে আবার পেছনের দিকে নিয়ে যাওয়া, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধ্বংস, স্বাধীনতার ইতিহাস আবার বিকৃত করার জন্য ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। অতীতের মতোই জনগণ এ ষড়যন্ত্রের জবাব দেবে। আবারও আওয়ামী লীগ জনগণের ভোটে সরকার গঠন করে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করবে।
বাজেটের ওপর দীর্ঘ আলোচনা শেষে আগামী ২৬ জুন সংসদে পাস হওয়ার কথা আছে। এবার বাজেটের ওপর ৪০ ঘণ্টা আলোচনারে সিদ্ধান্ত হয়েছে সংসদের কার্য-উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে।









