সমাজের সকল পেশার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সারাদেশের পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশের আইজি এ কে এম শহীদুল হক। বুধবার পুলিশ সদর দফতরে বিশেষ অপরাধ পর্যালোচনা সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন।
আইজিপি বলেন,আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নিরলস পরিশ্রমের কারনে দেশে জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সবসময় সতর্ক থাকতে হবে। এজন্য কমিউনিটি পুলিশিংকে কাজে লাগাতেও আহ্বান জানান তিনি।
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ র্নিবাচনে সব ধরনের সহিংসতা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণের জন্য মাঠ পর্যায়ের সকল কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন আইজিপি। তিনি বলেন, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ,ঝুঁকি পর্যালোচনা এবং প্রতিকারে সব ধরনের ব্যবস্থা নিতে হবে। গোলযোগকারীদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির প্রার্থিতা বাতিলের জন্য রিপোর্ট দিতে হবে।
ত্রৈমাসিক অপরাধ সভায় আইজিপি আরও বলেছেন, শুধু মামলা নিয়ে, তদন্ত করে, চার্জশিট দিয়ে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। এজন্য জনগণ তথা কমিউনিটি পুলিশকে সম্পৃক্ত করে অপরাধ প্রতিহত করতে হবে। স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসায় গিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদেরকে মাদকসহ অন্যান্য অপরাধ প্রতিরোধে সচেতন করতে হবে। ভাড়াটিয়া, ভাসমান,অস্থায়ী আগন্তকদের সঠিক পরিচয় নির্ধারণ করে অপরাধী সনাক্ত করতে হবে।
পুলিশ সদর দফতরের এডিশনাল ডিআইজি নজরুল ইসলাম জানান, সভায় পুলিশ সদর দফতরের ডিআইজি (প্রশাসন) বিনয় কৃষ্ণ বালা বিগত বছরের শেষ তিন মাসের সার্বিক অপরাধ পরিস্থিতি তুলে ধরেন। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের তুলনায় ভালো জানিয়ে বলা হয়, ২০১৪ সালের অক্টোবর, নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে মোট মামলা হয় ৪৬ হাজার ৮৪০টি। ২০১৫ সালের একই সময়ে মামলার সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৪৪ হাজার ২শ ১৫টি। আইনশৃঙ্খলা জনিত পরিস্থিতি মোকাবেলার সময় পুলিশ আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (কাউন্টার টেররিজম) মো. মনিরুল ইসলাম “সন্ত্রাসবাদের সাম্প্রতিক ধারা এবং বাংলাদেশ পুলিশের ভূমিকা তুলে ধরেন।দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এ সভায় উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা ছাড়াও সকল পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি, পুলিশ সুপার, ঢাকাস্থ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন।
জেইউ/এপিএইচ/








