ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার এ এফ রহমান হল প্রভোস্টের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ ও ভাঙচুর করেছে হলের শিক্ষার্থীরা। এসময় তারা হল প্রভোস্ট ও জীব প্রযুক্তিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. আফতাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে স্বৈরাচারী মনোভাব, ছাত্রদের সঙ্গে অশোভন আচরণ, বিনা নোটিশে পুলিশি অভিযান এবং ছাত্রদের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করার অভিযোগ আনেন।
বুধবার রাত সোয়া ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। হলে পুলিশি অভিযানের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা এ বিক্ষোভ ও ভাঙচুর করেন। এর আগে অভিযান চালিয়ে বহিরাগত সন্দেহে পুলিশ ৩ শিক্ষার্থীকে আটক করে।
অন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বলেন, হলের প্রভোস্ট যেকোনও জায়গায়, যেকোনও পরিস্থিতিতে তাদের অপমান ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। আবার ছাত্রদের চেহারা ও পোশাক নিয়ে মন্তব্য করে হেয় প্রতিপন্ন করেন তিনি।
এ বিষয়ে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর সিদ্দিক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গতকাল রাতে ওই হল থেকে বহিরাগত ৩ জনকে আটক করা হয়। তবে কিছুক্ষণ আগে মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’
তবে হল প্রভোস্ট শিক্ষার্থীদের অভিযোগ অস্বীকার করে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি চাই প্রত্যেকটা জেনুইন ছাত্র ভালো থাকুক। আমি তো সাধারণ ছাত্রদের কাছে যাই। তাদের সঙ্গে কথা বলি। এই ধরনের অভিযোগ ও ভাঙচুর জেনুইন ছাত্ররা করতে পারে না। অছাত্ররাই এসব করেছে।’
হলের ছাত্ররা জানায়, রাতে প্রভোস্ট একদল পুলিশ নিয়ে হলে প্রবেশ করেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি বিভিন্ন সময় যেকোনও বিষয়েই পুলিশ ডেকে ছাত্রদের ধরিয়ে দেন। গতকাল রাতে পুলিশ নিয়ে প্রবেশ করতে দেখে প্রভোস্টের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে ছাত্ররা। পরে তারা হল থেকে বের হয়ে প্রভোস্টের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করতে থাকেন।
এসময় বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা প্রভোস্টের অপসারণ দাবি করে ‘এক দফা এক দাবি, প্রভোস্ট তুই কবে যাবি’, ‘আবাসিক হলে পুলিশ কেন, প্রশাসন জবাব চাই।’- নামে স্লোগান দিতে থাকেন।
পরে শিক্ষার্থীরা হলের অভ্যন্তরীণ খেলার কক্ষের জানালা ভাঙচুর করে। হলের প্রবেশমুখে ও পেছনের দিকের ৬টি সিসি ক্যামেরা ভেঙে ফেলেন বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা। এসময় আলো বন্ধ ছিল বলে ভাঙচুরকারীদের শনাক্ত করা যায়নি।
এ বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক এম আমজাদের সঙ্গে মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে সংযোগ ব্যস্ত পাওয়া যায়।
/এসআর/এনএস/এএইচ/








