X
রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪
৮ বৈশাখ ১৪৩১

আন্দোলন করুন, দুর্বৃত্তায়ন করলে ছাড় দেওয়া হবে না: প্রধানমন্ত্রী

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
২১ অক্টোবর ২০২৩, ১৫:২৭আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২৩, ১৮:৫৬

আন্দোলনের নামে অগ্নিসন্ত্রাস, দুর্বৃত্তায়ন ও ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ হলে ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আন্দোলনের নামে বিএনপি, জামায়াত এবং আরও অনেকেই মাঠে নামতে চায়। আন্দোলন করুন, আমাদের কোনও মাথাব্যথা নেই। কিন্তু তারা যদি আবার ওই রকম অগ্নিসন্ত্রাস, ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ করে আমরা কিন্তু ছেড়ে দেবো না। এটা বাস্তবতা।

বার কাউন্সিলের নবনির্মিত ভবন উদ্বোধন এবং আইনজীবী মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী অগ্নিসন্ত্রাসের সঙ্গে জড়িতদের বিচার দ্রুত শেষ করতে আইনজীবীসহ সরকারি কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এরা এত অন্যায় করেছে। এদের বিচারকাজ কেন দ্রুত হবে না। এ ব্যাপারে নজর দিতে হবে। কারণ অন্যায়কে প্রশ্রয় দিলে এরা বাড়বে। এদের অনেকে আন্ডারগ্রাউন্ডে ছিল এখন আন্দোলনের সুযোগ সামনে আসছে। আমরা তাদের বাধা দিচ্ছি না। এই অপরাধীরা যাতে যথাযথ সাজা পায় সেই ব্যবস্থা নিতে হবে। বিচারহীনতা যেন না চলে, ন্যায়বিচার যেন মানুষ পায়।

আইনজীবী ও বিচারকের ওপর বিএনপি জামায়াত হামলা করেছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ বিএনপি জামায়াত এদেশে মানুষের ওপর আক্রমণ করে। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালায়। জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করে তাদের লেলিয়ে দেয়। অবশ্যই তাদের বিচার বাংলাদেশে হতে হবে।

তিনি বলেন, অর্থনৈতিকভাবে সারা বিশ্বব্যাপী কিছু মন্দা ভাব যাচ্ছে। তার হাত থেকে বাংলাদেশও রেহাই পায়নি। তবে আমরা প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ, স্যাংশন পাল্টা স্যাংশন সেই সঙ্গে নতুন করে ফিলিস্তিনের ওপর  হামলা হয়েছে। হাসপাতালে হামলা করে নারী শিশুদের নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে। এর ফলে আবারও বিশ্বব্যাপী তেল ও জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাচ্ছে। উন্নত দেশগুলোও হিমশিম খাচ্ছে।

শেখ হাসিনা বলেন, অনেকে আছেন রিজার্ভ নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন। অথচ জাতির পিতা ১৯৭২ সালে যখন শাসনভার হাতে নেন কোনও রিজার্ভ মানি ছিল না। কোনও মুদ্রা ছিল না। খাদ্য ছিল না।

সরকার প্রধান বলেন, জাতির পিতার হাত ধরে বাংলাদেশের বিচার কাঠামোর গোড়াপত্তন ঘটে। জাতির পিতা আইনজীবীদের কল্যাণ ফান্ড করে দিয়ে যান। জাতির পিতা আমাদের যে পদক্ষেপ দিয়ে গেছেন সেই পথ ধরে আমরা চলি।

তিনি বলেন, জাতির পিতাকে হত্যার পর বেইমান মুনাফিক খন্দকার মোশতাক জিয়াউর রহমানের সহায়তায় ক্ষমতা দখল করে, কিন্তু টিকতে পারেনি। পেছন থেকে যারা কলকাঠি নাড়ায় তারা বেইমানদের ব্যবহার করে, রাখে না। মোস্তাককে বিদায় নিতে হয়। আসল চেহারা বেরিয়ে আসে জিয়াউর রহমানের। একাধারে সেনাপ্রধান সঙ্গে সঙ্গে আবার নিজেকে রাষ্টপতি ঘোষণা দেয়। জিয়াউর রহমান জনগণের ভোট চুরি করে, নির্বাচনি প্রক্রিয়া ধ্বংস করে, এরপর দল গঠন করে। জনগণের ভোট কারচুপি করে দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠ দিয়ে সংবিধানকে ক্ষতবিক্ষত করেছে।

অনুষ্ঠানে অতিথিদের একাংশ

শেখ হাসিনা বলেন, আইনের শাসন, বিচার পাওয়ার অধিকার প্রতিটি মানুষ যাতে পায় সেই ব্যবস্থা আমরা করেছি। বিচার ব্যবস্থার মান উন্নয়নে আমরা অবকাঠামোগত উন্নয়ন করি।

তিনি বলেন, ২০০১ সালে বিএনপি যখন ক্ষমতায় এসেছিল বাংলাদেশ ছিল সন্ত্রাসীদের দেশ। জঙ্গিদের দেশ, দুর্নীতির দেশ। দুর্নীতির দুর্গন্ধ ছড়িয়েছে। তারা দেশের অর্থপাচার করেছে।

তিনি বলেন, আমাকে বারবার মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হয়েছে। কিন্তু আমি দমে যাইনি। আমি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের মেয়ে। দমে যাওয়ার না। নিজের জীবনের চাওয়া-পাওয়া নিয়ে রাজনীতি করি না। রাজনীতি করি এদেশের মানুষের জন্য। কাজেই আমার সংগ্রাম আমি চালিয়ে যাই।

শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার সব জেলায় আইনজীবীদের জন্য ভবন নির্মাণ করে দেবে। এজন্য তিনি আইনজীবীদের পক্ষ থেকে ফান্ড গঠনেরও আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৭৫ এর বঙ্গবন্ধু হত্যার পেছনে জিয়াউর রহমান এবং তার স্ত্রী খালেদা জিয়া জড়িত এটা প্রমাণিত সত্য। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর সবচেয়ে বেনিফিশিয়ারি জিয়াউর রহমান।

তিনি বলেন, জুডিশিয়ারি যাতে স্মার্ট হয় সেজন্য প্রতিটি আইন ডিজিটালাইজড করা রায়গুলো ডিজিটালাইজড করা, ইংরেজি রায়গুলো যাতে বাংলায় অনুবাদ যাতে হয়, সেটা যেন অনলাইনে পরিচালিত হয় মানুষ যাতে দেখতে পারে সেটা চাই।

তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশকে সার্বিকভাবে উন্নত করবো, পাশাপাশি আইনের শাসন চলবে। আত্মসামাজিক অবস্থার উন্নতি হবে, দেশকে আমরা এগিয়ে নিয়ে যাবো। একটা রাষ্ট্রকে সকলে মিলে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে পারি। মনে রাখতে হবে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কোনোরকম যেন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না হয়। মানুষের কল্যাণ যেন আমরা করে যেতে পারি। সেটাই আমাদের লক্ষ্য।

শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় এসেছে দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করেছে। আমাদের লক্ষ্য কীভাবে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবো। আমরা সকলের জন্য কাজ করি।

প্রধানমন্ত্রী সর্বজনীন পেনশন স্কিমে অন্তর্ভুক্ত হতে সকলের প্রতি আহ্বান জানান।  

তিনি বলেন, কেউ যেন বাংলাদেশি মানুষের ভাগ্য নিয়ে খেলতে না পারে। যেটা আগে করেছিল। সেদিকে লক্ষ্য রেখে আমার অনুরোধ কোথাও যেন এক ইঞ্চি জমিও অনাবাদি না থাকে।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক চেতনার দেশ। এই দেশে হিন্দু-মুসলমান-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান প্রত্যেকে যার যার ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করবে। যার যার ধর্ম সে সে পালন করবে। এক্ষেত্রে কেউ কারো ধর্মের ওপর আঘাত হানবে না। বাংলাদেশে এ ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে সে দিকে সবার বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে।

আরও পড়ুুন-

বার কাউন্সিলের নবনির্মিত ভবন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

শুধু বড় শহরে নয়, অন্যান্য শহরেও আইনজীবীদের ভবন হবে: প্রধানমন্ত্রী

/ইএইচএস/আরআইজে/
সম্পর্কিত
খেলাধুলার মধ্য দিয়ে আমরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি: প্রধানমন্ত্রী
বিএনপির বিরুদ্ধে কোনও রাজনৈতিক মামলা নেই: প্রধানমন্ত্রী
প্রাণিসম্পদ উন্নয়নে বেসরকারি খাতকে উদ্যোক্তা হিসেবে দেখতে চান প্রধানমন্ত্রী
সর্বশেষ খবর
এক পদে ৯০ জনকে নিয়োগ দেবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস
এক পদে ৯০ জনকে নিয়োগ দেবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস
ঈদ নাটক: ভিউতে এগিয়ে থাকা ১০
ঈদ নাটক: ভিউতে এগিয়ে থাকা ১০
গরমের কারণে অনলাইন ক্লাসে যাচ্ছে ঢাবি
গরমের কারণে অনলাইন ক্লাসে যাচ্ছে ঢাবি
প্রিয় দশ
প্রিয় দশ
সর্বাধিক পঠিত
সোনার দাম কমেছে, আজ থেকেই কার্যকর
সোনার দাম কমেছে, আজ থেকেই কার্যকর
মুখোমুখি ইরান-ইসরায়েল, পরীক্ষার মুখে মার্কিন সামরিক কৌশল
মুখোমুখি ইরান-ইসরায়েল, পরীক্ষার মুখে মার্কিন সামরিক কৌশল
ফেসবুকে উসকানিমূলক পোস্ট, হিন্দু মহাজোট ‘নেতা’ পুলিশ হেফাজতে
ফেসবুকে উসকানিমূলক পোস্ট, হিন্দু মহাজোট ‘নেতা’ পুলিশ হেফাজতে
জানা গেলো বেইলি রোডে আগুনের ‘আসল কারণ’
জানা গেলো বেইলি রোডে আগুনের ‘আসল কারণ’
প্রবাসীদের ফেসবুক আইডি হ্যাক করে কোটিপতি, দুই ভাই গ্রেফতার
প্রবাসীদের ফেসবুক আইডি হ্যাক করে কোটিপতি, দুই ভাই গ্রেফতার