X
সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪
২ বৈশাখ ১৪৩১

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম সার কারখানার উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

বাংলা ট্রিবিউন ডেস্ক
১২ নভেম্বর ২০২৩, ১৩:৫৮আপডেট : ১২ নভেম্বর ২০২৩, ১৪:০০

নরসিংদীতে নবনির্মিত ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া সার কারখানা (জিপিইউএফএফ) উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এ ধরনের বৃহত্তম কারখানা। এটি সার আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করতে সহায়তা করবে বলেও আশা সংশ্লিষ্টদের।

রবিবার (১২ নভেম্বর) নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় জিপিইউএফএফ প্রাঙ্গনে এক অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে বার্ষিক ৯ লাখ ২৪ হাজার মেট্রিক টন সার উৎপাদনের ক্ষমতা সম্পন্ন পরিবেশবান্ধব, জ্বালানি সাশ্রয়ী ও আধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক এই কারখানার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

জিপিইউএফএফ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তিন দশকের পুরানো কারখানাটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য নতুন করে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি স্থাপন এবং প্রকল্পের শুরু থেকেই বিদেশি বিশেষজ্ঞদের দ্বারা যথাযথ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনবল প্রস্তুত করা হয়েছে।

পরিবহন সুবিধার লক্ষ্যে ঘোড়াশাল রেলওয়ে স্টেশনের সাথে কারখানার সংযোগের জন্য একটি রেললাইন নির্মাণের কাজ চলছে। উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী সার কারখানা পরিদর্শন করেন।

প্রধানমন্ত্রী স্মারক ডাকটিকেট, উদ্বোধনী খাম এবং জিপিইউএফএফ উদ্বোধনের দিনটিকে চিহ্নিত করে একটি বিশেষ সীলমোহরও প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে প্রকল্পের উপর একটি ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়।

সার কারখানা উদ্বোধন করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (ছবি: ফোকাস বাংলা)

এসময় শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন, প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আশরাফ খান ও সিনিয়র সচিব জাকিয়া সুলতানা উপস্থিত ছিলেন।

মোসলেহ উদ্দিন ভূঁইয়া স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক মহাসমাবেশে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। যেখানে তিনি নরসিংদীতে বেশ কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন।

ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া সার কারখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই কারখানার কার্যক্রম শুরু হলে সার আমদানির উপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। কারণ দেশের মোট বার্ষিক ২৬ লাখ টন চাহিদার বিপরীতে স্থানীয় কারখানাগুলো একসঙ্গে ১৯ দশমিক ২৪ লাখ মেট্রিক টন সার উৎপাদন করবে।

স্থানীয় কারখানাগুলো বর্তমানে প্রায় ১০ লাখ টন উৎপাদন করছে এবং বাকি বার্ষিক চাহিদা আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) জানায়, কারখানাটি ৩০ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। ১১০ একর জমিতে ১৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত কারখানাটির দৈনিক সার উৎপাদন হবে ২৮০০ মেট্রিক টন।

মোট ব্যয়ের মধ্যে, সরকার ৪ হাজার ৫৮০ কোটি ২১ লাখ টাকা দিয়েছে এবং ১০ হাজার ৯২০ কোটি টাকা জাইকা, এইচএসবিসি এবং ব্যাংক অব টোকিও মিত্সুবিশি ইউএফজে লিমিটেড থেকে ব্যবসায়িক ঋণ প্রকল্পের মাধ্যমে পেয়েছে।

কারখানার দুটি বাষ্পীয় গ্যাস জেনারেটর ৩২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম এবং প্ল্যান্টটি চালানোর জন্য ২৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন। এটি বাংলাদেশের প্রথম সার কারখানা যেখানে প্রাথমিক পর্যায়ে ফ্লু গ্যাস থেকে পরিবেশ দূষণকারী আহরণ করা হবে এবং ক্যাপচার করা কার্বন-ডাই-অক্সাইড ব্যবহার করে ইউরিয়া সারের উৎপাদন বৃদ্ধি করা হবে (প্রায় ১০ শতাংশ)।

এটি দেশে ‘অত্যাধুনিক, শক্তি সাশ্রয়ী এবং সবুজ’ সার কারখানা যা ইউরিয়া সারের আমদানি কমিয়ে দেবে এবং কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করবে। খবর বাসস।

/ইউএস/
সম্পর্কিত
প্রধানমন্ত্রীর ব্রাজিল সফর, গুরুত্ব পাবে বাণিজ্য-বিনিয়োগ
দেশবাসীকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী
আ.লীগ ক্ষমতায় আসে জনগণকে দিতে, আর বিএনপি আসে নিতে: প্রধানমন্ত্রী
সর্বশেষ খবর
টিভিতে আজকের খেলা (১৫ এপ্রিল, ২০২৪)
টিভিতে আজকের খেলা (১৫ এপ্রিল, ২০২৪)
আজ খুলছে সরকারি অফিস
আজ খুলছে সরকারি অফিস
চিলমারী-রৌমারী-রাজিবপুর নৌপথে ভাড়া নৈরাজ্য
চিলমারী-রৌমারী-রাজিবপুর নৌপথে ভাড়া নৈরাজ্য
লম্বা ছুটির পর আজ ব্যাংক খোলা
লম্বা ছুটির পর আজ ব্যাংক খোলা
সর্বাধিক পঠিত
‘যাওয়ার আগে দস্যুদের প্রধান জাহাজের ক্যাপ্টেনের হাতে একটি চিঠি দেয়’
‘যাওয়ার আগে দস্যুদের প্রধান জাহাজের ক্যাপ্টেনের হাতে একটি চিঠি দেয়’
সোমালিয়ার জলদস্যুদের কবল থেকে ২৩ নাবিক ও জাহাজ মুক্ত
সোমালিয়ার জলদস্যুদের কবল থেকে ২৩ নাবিক ও জাহাজ মুক্ত
কেন প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ?
কেন প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ?
মুক্তিপণের বিনিময়ে মুক্ত হলো এমভি আবদুল্লাহ
মুক্তিপণের বিনিময়ে মুক্ত হলো এমভি আবদুল্লাহ
মোস্তাফিজের খরুচে বোলিং ছাপিয়ে চেন্নাইয়ের জয়
মোস্তাফিজের খরুচে বোলিং ছাপিয়ে চেন্নাইয়ের জয়