শেষ সময়ে জাপা-স্বতন্ত্রের অনেকেই ছাড়ছেন ভোটের মাঠ

এমরান হোসাইন শেখ
০৫ জানুয়ারি ২০২৪, ২২:০০আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০২৪, ২২:৫৯

নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে নির্বাচনের মাঠ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন অর্ধশতাধিক প্রার্থী। এর বেশিরভাগই দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী। বেশ কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থীও ভোটের মাঠ থেকে সরে গেছেন। সরে যাওয়ার কারণ হিসেবে জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা দলের হাইকমান্ডের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ তুলেছেন। তারা বলেছেন, এককভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের কথা থাকলেও সরকারি দলের সঙ্গে কিছু সমঝোতা করে বাকি প্রার্থীদের বঞ্চিত করেছেন। অবশ্য কেউ কারণ হিসেবে আর্থিক সংকট, কেউ পারিবারিক কারণের কথা বলেছেন। কেউ কেউ তার আসনের অন্য প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়ে ভোটের মাঠ ছেড়েছেন।

অবশ্য প্রত্যাহারের সময় পার হওয়ার পর আইনগতভাবে ভোট ছেড়ে দেওয়ার কোনও সুযোগ নেই। এ সময় ভোট ছাড়লেও ব্যালটে তাদের প্রতীক থাকবে। তারা নির্বাচন কমিশনের কাছে বৈধ প্রার্থী হিসেবেই গণ্য হবেন। এমনকি ভোটের মাঠ ছেড়ে দেওয়া কেউ যদি বিজয়ী হন—আইনত সেটা বৈধ হবে। ফলে শেষ ‍মুহূর্তে সরে গেলেও নির্বাচনে কোনও প্রভাব পড়বে না।

উল্লেখ্য, জাতীয় পার্টির বেশ কয়েকজন প্রার্থী নির্বাচনের মাঠ থেকে সরে গেলেও আওয়ামী লীগের সাথে যে ২৬টি আসনে সমঝোতা হয়েছে সেখানকার কেউ নির্বাচন থেকে সরেনি। তারা সক্রিয়ভাবে নির্বাচনে রয়েছেন। তাদের অনেকে নিজেদের পোস্টারে ‘জাতীয় পার্টি মনোনীত ও আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

দিনাজপুর-২ আসনে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী মো. মাহবুব আলম। সরে যাওয়ার সময় তিনি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে সন্দিহান বলে জানান।

নানা অভিযোগ তুলে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র চারদিন আগে ভোটের মাঠ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন গাইবান্ধা-৫ আসনের জাতীয় পার্টির প্রার্থী আতাউর রহমান সরকার। তিনি নির্বাচনি ক্যাম্প আগুনে পোড়ানো, কর্মীদের মোটরসাইকেল ভাঙচুর, প্রশাসনের অসহযোগিতা, কর্মীদের মারধর, হুমকি এবং সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা বলেছেন।

ভোট থেকে সরেছেন নাটোর-৪ আসনের জাতীয় পার্টির প্রার্থী ও দলের জেলা সভাপতি আলাউদ্দিন মৃধা। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সঙ্গে আসন ভাগাভাগি ও নাটোরের অন্যান্য আসনে জেলা জাতীয় পার্টির মতের বাইরে ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে মনোনয়ন দেওয়াসহ নানা বিষয়ে দলের হাইকমান্ডের প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছেন।

একটি অসম প্রতিযোগিতার মধ্যে পড়েছেন জানিয়ে জাতীয় পার্টির চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সোহরাব হোসেন ও চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের  জাতীয় পার্টির রবিউল ইসলাম নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। দুই নেতাই বলেছেন, নির্বাচনি বৈতরণী পার করার মতো কোনও অর্থ না থাকা এবং কেন্দ্রীয় নেতাদের কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ হয়ে তারা সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যেহেতু প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় নেই, বাধ্য হয়ে ভোট থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের প্রতি জনগণের আগ্রহ নেই দাবি করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন যশোর-৫ (মনিরামপুর উপজেলা) আসনের জাতীয় পার্টির প্রার্থী এমএ হালিম।

বরগুনা-১ আসনের জাতীয় পার্টির প্রার্থী খলিলুর রহমান ২৬টি আসন নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে সমঝোতা করায় এখন আমরা ভোটারদের সামনে যেতে পারছি না। ভোটাররা আমাদের বিশ্বাস করেন না।

বরিশাল-২ ও বরিশাল-৫ আসন থেকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী ইকবাল হোসেন তাপস নির্বাচন থেকে সরে গেছেন। এ কারণ হিসেবে তিনি দলের শীর্ষ নেতাদের দায়ী করে বলেন, আওয়ামী লীগ জাতীয় পার্টিকে ২৬টি আসন দিচ্ছে। তাহলে বাকি আসনে পার্টির মনোনীত প্রার্থীদের নির্বাচন করে লাভ কী? তিনি দাবি করেন, তাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে।

নির্বাচন থেকে সরে যাওয়া টাঙ্গাইল-৭ আসনের জাতীয় পার্টির প্রার্থী জহিরুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগ জাতীয় পার্টিকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনে এনেছিল তারা তাদের সে কথা রাখেনি। এখানে নির্বাচনের পরিবেশ নেই।

ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) আসনে জাতীয় পার্টি (জাপা) মনোনীত প্রার্থী ডা. মোস্তাফিজুর রহমান আকাশ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, এই নির্বাচন একপেশে, সাজানো এবং ভাগাভাগির নির্বাচন। টাকার খেলার সহিংস নির্বাচন। প্রতিপক্ষ আমাকে মাঠে থাকতে দিচ্ছে না। প্রশাসনও কোনও সহযোগিতা করছে না। তাই বিবেকের তাড়নায় সরে দাঁড়ালাম।

মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী শেখ মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম ভোট থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, তিনি অসুস্থ, জরুরি চিকিৎসা নিতে যাবেন, তাই নির্বাচনে সশরীরে উপস্থিত থাকতে পারবেন না।

গাজীপুর-১ ও ৫ আসনের জাতীয় পার্টির প্রার্থী এম এম নিয়াজ উদ্দিন বলেন, সরকারের একতরফা নির্বাচন, সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ব্যক্তিগত কারণে সরে দাঁড়িয়েছি। আমার সরে দাঁড়ানোর বিষয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গেও কোনও আলোচনা হয়নি। মূলত আমি আর পারছি না, যার কারণে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছি।

গাজীপুর-৪ (কাপাসিয়া) আসনের জাপার প্রার্থী মো. সামসুদ্দিন খান বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থা ঘোলাটে। বিভিন্ন চাপ আছে আমার ওপর। সেই চাপ সামলানোর মতো শারীরিক বা মানসিক শক্তি আমার নেই। হুমকিও আছে। সব মিলিয়ে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, ৭ তারিখে আমি যে লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী ছিলাম, সেই নির্বাচনে যেহেতু প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সুযোগ নেই, তাই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালাম।

কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছ থেকে সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ তুলে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন সুনামগঞ্জ-১ (জামালগঞ্জ, তাহিরপুর, মধ্যনগর ও ধর্মপাশা) আসনের জাপার প্রার্থী মান্নান তালুকদার। তিনি বলেন, আমি স্পষ্ট বুঝতে পারছি আসন ভাগাভাগি ও প্রহসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

সিলেট-৫ আসনের জাপা প্রার্থী সাব্বির আহমেদও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ না থাকা এবং 'চাপ'-কে কারণ হিসেবে দেখিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। বলেন, ‘নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নেই। নানাভাবে হুমকি-ধমকি ও চাপ দেওয়া হচ্ছে। এ জন্য ভোট প্রত্যাখ্যান করলাম।’

হবিগঞ্জ-২ আসন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন জাপা প্রার্থী শংকর পাল। তিনি জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় নেতাদের কথার পরিপ্রেক্ষিতেই নির্বাচন থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় নেতারা বলেন, কৌশল আছে, কৌশল আছে। তারা কী কৌশল যে করে!, ২৬টা আসন লইয়া তারা কৌশল করতেছে, আর আমরারে সাগরে ভাসায় দিসে।

লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী রাকিব হোসেন বলেন, নির্বাচনি আসনে ৮০ ভাগ এলাকায় তার লাগানো পোস্টার ছিঁড়ে নেওয়া হয়েছে। কর্মী, পোলিং এজেন্টদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। কালো টাকার এমন ছড়াছড়ি শুরু হয়ে গেছে যে নির্বাচন কমিশনের বেঁধে দেওয়া ২৫ লাখ টাকা একদিনেই খরচ করছে কোনও কোনও প্রার্থী। সামগ্রিক পরিস্থিতিতে আমি নিশ্চিত হয়ে গেছি, নির্বাচনটা সুষ্ঠু হবে না।

এদিকে কুমিল্লা-২ আসনের এ টি এম মঞ্জুরুল ইসলাম, গাজীপুর-২ আসনের জয়নাল আবেদীন, নওগাঁ-২ আসনের মো. তোফাজ্জল হোসেন ও সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের প্রার্থী জাকির হোসেনসহ আরও কয়েকজন জাতীয় পার্টির প্রার্থী ভোট থেকে সরে গেছেন। এর বাইরে নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দিলেও দলের কো-চেয়ারম্যান কাজী ফিরোজ রশীদসহ জাতীয় পার্টির ১৪ জন প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন। এককভাবে ভোট করার কথা থাকলেও সরকারের সঙ্গে আসন সমঝোতা হওয়ার পর এই ১৪ প্রার্থী নিজেদের ‍গুটিয়ে নেন।

দলীয় প্রার্থীদের একের পর এক নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর বিষয়ে জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু বলছেন, অনেকেই দলের কাছে আর্থিক সক্ষমতা না থাকার কথা জানাচ্ছেন। তবে সে প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারায় ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তেই সরে দাঁড়াচ্ছেন তারা।

তবে ভিন্নমত জাপা চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের। তিনি বলছেন, দলকে বেকায়দায় ফেলতেই কেউ কেউ এই ভোট থেকে সরে যাচ্ছেন। সবাইকে ধৈর্য ধরে মাঠে থাকার আহ্বান জানান তিনি। জাপা চেয়ারম্যান বলেন, এখন অনেকেই বিভিন্ন কারণে হয়তো অর্থনৈতিকভাবে কুলাতে পারছে না বা পরিবেশ ভালো মনে করছে না অথবা তাদের ওপর নানা হুমকি আসছে। যেকোনও কারণেই হোক অনেকে সরে দাঁড়াতে চাচ্ছে।

তিনি বলেন, এবার অধিকাংশ আসনে প্রার্থী দিয়েছে জাতীয় পার্টি। ’৯০-পরবর্তী ৩০০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার যোগ্যতা দলের ছিল না। এবার তা হয়েছে। ৩০-৪০ জন প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোয় বড় কিছু হবে না। ভোটের পর যাচাই করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অবশ্য এর আগে ১ জানুয়ারি জি এম কাদের রংপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, নির্বাচনের শেষ পর্যন্ত তিনি থাকবেন কিনা তা এখনও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তখন তিনি বলেন, জাতীয় পার্টির কোনও প্রার্থী যদি নির্বাচন করতে না চায় তাহলে সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা ওই প্রার্থীর রয়েছে।

এদিকে নীলফামারী-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মার্জিয়া সুলতানাকে সমর্থন দিয়ে সরে দাঁড়িয়েছেন অপর দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু সাঈদ শামিম এবং হুকুম আলী খান। রাজশাহী-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আখতারুজ্জামান আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী গোলাম রাব্বানীকে সমর্থন জানিয়ে সরে গেছেন। ঝিনাইদহ-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক এমপি নবী নেওয়াজ আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী সালাহ উদ্দিন মিয়াজীকে সমর্থন দিয়ে ভোট থেকে সরেছেন।

নৌকার প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন যশোর-২ আসনের ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম হাবিবুর রহমান হাবিব। যশোর-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান এমপি রণজিৎ কুমার রায় সরেছেন নিজ দল আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে।

নড়াইল-২ আসনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মাশরাফী বিন মোর্ত্তজাকে শতভাগ সমর্থন দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন ট্রাক প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ ফয়জুল আমির লিটু। তিনি কারণ হিসেবে মাশরাফীকে সমর্থনের পাশাপাশি শারীরিক অসুস্থতার কথাও জানান।

প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বিএনপির বহিষ্কৃত শাহজাহান ওমরকে চ্যালেঞ্জে ছুড়ে দিলেও শেষমেশ মাঝ পথে ভোটের মাঠ থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর, কাঁঠালিয়া) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা এম মনিরুজ্জামান মনির। তিনি সরে যাওয়ার পেছনে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণের কথা উল্লেখ করেন। নেত্রকোনা-১ আসনে ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আফতাব উদ্দিন ভোটের মাঠ থেকে সরেছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য মোস্তাক আহমেদ রুহীকে সমর্থন দিয়ে।

ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী (ফুলকপি প্রতীক) মোর্শেদুজ্জামান সেলিম নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য গাজী মোহাম্মদ শাহেদ (ঈগল প্রতীক) পারিবারিক কারণ দেখিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে ভোট থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

চট্টগ্রাম-২ আসন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান ও বর্তমান সংসদ সদস্য সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী। ফটিকছড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে নৌকাকে সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের শরিক দলের এই নেতা।

এর বাইরে সিরাজগঞ্জ-৫ (চৌহালী-বেলকুচি) আসনের বিএনএম প্রার্থী আব্দুল হাকিম স্বতন্ত্র প্রার্থী মেজর মামুনকে সমর্থন দিয়ে তিনি ভোটের লড়াই থেকে সরে গেছেন। সুনামগঞ্জ-৪ আসনে বিএনএমের প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য দেওয়ান শামছুল আবেদীন নির্বাচন থেকে সড়ে দাঁড়িয়েছেন। যশোর-৪ আসনে বিএনএম প্রার্থী সুকৃতি কুমার মণ্ডল 'অন্যায্য' নির্বাচনের পরিবেশের কারণ দেখিয়ে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন।

দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে ২৮টি রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলে ১ হাজার ৯৭০ জনের মত প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের মধ্যে ৪৩৬ জনই স্বতন্ত্র প্রার্থী। আওয়ামী লীগের প্রার্থী রয়েছেন ২৬৬ জন। জাতীয় পাটির ২৬৫ জন, তৃণমূল বিএনপির ১৩৫ জন, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির ১২২ জন, বাংলাদেশ কংগ্রেসের ৯৬ জন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের ৫৬ জনসহ ২৮টি রাজনৈতিক দলের মোট প্রার্থী সংখ্যা এক হাজার ৫৩৪ জন। নির্বাচনে ৯০ জন নারী প্রার্থী ও ৭৯ জন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রার্থীও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

/এমএস/এমওএফ/
সম্পর্কিত
স্থানীয় সরকার নির্বাচন: মাঠ পর্যায়ে ব্যালট বক্সের হিসাব চায় ইসি
ভোটার নিবন্ধন ফরম ৩০ জুনের মধ্যে ডাটাবেজে আপলোডের নির্দেশ ইসির 
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে যা বললেন প্রতিমন্ত্রী
সর্বশেষ খবর
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক