সরকারি স্থাপনার নামকরণের ক্ষেত্রে একটি আইনি কাঠামো হবে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানিসম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকের পর সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি তথ্য জানান।
সৈয়দা রিজওয়ানা বলেন, জনগণের অর্থ ব্যয় করে কোনও প্রকল্প হলে তার নামকরণ কী নীতি অনুসরণ করে করা হবে, সেটার বিষয়ে সরকার কাজ করবে। একটা পর্যায়ে এটাকে একটি আইনি কাঠামোর মধ্যেই আনতে হবে। যাতে জনগণের টাকায় যেটা হবে, তা যেন জনমতের প্রতিফলন ঘটে। এটা এমন কোনও নামকরণ না হয়, যা ফ্যাসিবাদকে উসকে দিতে না পারে।
এ-সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নামকরণের নীতিমালা হতে পারে, আইনও হতে পারে। আমাদের চিন্তা হচ্ছে পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নামকরণ নিয়ে একটা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। সেটা যাতে না হয়। জনগণের অর্থের স্থাপনায় যাতে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটে, এমন নামকরণ যাতে হয়। এটা ভূতপূর্বভাবে কার্যকরী হবে কি না, সেটা আইনি কাঠামোয় করার সময় চিন্তা করা হবে।
ফাউন্ডেশন গঠনের সিদ্ধান্ত
পানিসম্পদ উপদেষ্টা বলেন, গণঅভ্যুত্থানে আহত ও নিহতদের বিষয়ে একটি ফাউন্ডেশন গঠন হবে বলে আগেই জানানো হয়েছে। উপদেষ্টা পরিষদের সভায় এই ফাউন্ডেশনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা এই ফাউন্ডেশনের প্রধান হিসেবে থাকবেন। ফাউন্ডেশনের অন্য সদস্যদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকবেন আহত-নিহতসহ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা।
তিনি বলেন, এই ফাউন্ডেশন মানে আহত-নিহতদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি ধরে রাখা। যাতে প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম জানতে পারে আসলে কী হয়েছিল। এই ফাউন্ডেশনটি একটি আইনের মধ্যেই আনতে হবে।
কমিশন অন এনফোর্স ডিজঅ্যাপিয়ান্স
উপদেষ্টা জানান, উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে কমিশন অন এনফোর্স ডিজঅ্যাপিয়ান্স গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। যারা বিভিন্ন সময়ে গুম হয়েছে, সেই গুরে কারণ কী? কারা তার জন্য দায়ী, সেটা এই কমিশন তদন্ত করে দেখবে।
তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাসহ অন্য কয়েকজন উপদেষ্টা দেশের আইন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বসবেন। যে আইনি প্রক্রিয়াগুলো শুরু হচ্ছে, বিভিন্ন অপরাধে যারা অভিযুক্ত হচ্ছে, সেই আইনি প্রক্রিয়াগুলো পরিচালনা করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা কীভাবে নিশ্চিত করা যায় এবং মানবাধিকারের সবগুলো ক্ষেত্রকে সমুন্নত রেখে আইনি প্রক্রিয়া চালাতে পারি। এ জন্য কোথায় কোথায় কী নির্দেশনা যাওয়া প্রয়োজন, সেটা এই কমিটি ঠিক করে জানাবে।
চলমান বিভিন্ন আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিভিন্ন মানুষ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রতিবাদ করছে। সেই প্রতিবাদ তারা করতেই পারেন। এটা তাদের অধিকার। কারণ অনেক বছর তারা অনেক কিছু বলতে পারেননি। কিন্তু প্রতিবাদের কারণে যাতে জনজীবনে কোনও অসুবিধার সৃষ্টি না হয়, সেটা নিশ্চিত করার জন্য এই প্রতিবাদের সঙ্গে সরকারের একটা সম্পর্ক করে ফেলা যায়? প্রতিবাদটা কোথায় কেমন করে হলে ভালো হয়? প্রতিবাদ দীর্ঘ না করে তাদের মুখপাত্রের সঙ্গে সরকারের মুখপাত্র বসে সমাধানে যেতে পারেন, সেটার একটা উপায় বের করা হবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে।
আন্দোলন প্রসঙ্গে যা বললেন আসিফ মাহমুদ
আমরা জাতীয়ভাবে একটি দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি উল্লেখ করে ব্রিফিয়েং উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, দেশের জনগণ দীর্ঘদিন ধরে তাদের যৌক্তিক দাবি উত্থাপন করার সুযোগ পাচ্ছিল না। এখন তারা সেই দাবিগুলো উত্থাপন করছে। তাদের প্রতি আমাদের আহ্বান থাকবে, নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিকভাবে এ দাবিটা করবেন।
তিনি বলেন, এই দুর্যোগপূর্ণ ও সংকট মুহূর্তে সব পক্ষের প্রতি আহ্বান থাকবে, ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করার। আমরা সবারই দাবি শুনবো। তবে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে…আমাদের একটি কমিটি হবে। আমরা সুষ্ঠু উপায় সবার দাবি-দাওয়ার কথা শুনবো, সমাধান করবো।









