তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেছেন, 'সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষ মজলুম হয়েছে। তাই সবার একটা ঐক্য দরকার। সেই ঐক্য হওয়া উচিত জুলুমের বিরুদ্ধে, ফ্যাসিবাদের বিপক্ষে। যেন এরপর কেউ এটা মনে করতে না পারে যে মারলাম তো কী হয়েছে এবং কোনও প্রধানমন্ত্রী সংসদে যেন বলতে না পারে যে, ওরা শহীদ হয়নি রং মেখে শুয়ে ছিল। কোনও মজলুমের বিরুদ্ধে এই ঔদ্ধত্য যেন কেউ দেখাতে না পারে।'
সোমবার (২১ জুলাই) রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে বিকালে 'জুলাই মাদ্রাসা রেজিস্টেন্স ডে' উপলক্ষে অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, 'সংকট আছে যেটা অস্বীকার করতে আমি আপনাদের মানা করবো। কিন্তু মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সময় নানান ট্যাগ দেওয়া হয়েছে। ব্রিটিশবিরোধী সময় থেকে জালেমের বিরুদ্ধে লড়াকু এই গোষ্ঠীকে ব্যবহারের চেষ্টা দেশে ও দেশের বাইরে অনেকবার করা হয়েছে। এই লড়াইটা গত ৫০ বছর ধরে হচ্ছে। যে পদ্ধতিতে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব থাকবে না সে পদ্ধতি যেন আমরা অনুসরণ না করি।'
তিনি আরও বলেন, 'ব্রিটিশবিরোধী লড়াই, পাকিস্তান আন্দোলন, ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের আলেম সমাজের একটা বড় অংশের ভূমিকা পক্ষে ছিল। আমি মনে করি, বাংলাদেশের মাদ্রাসা শিক্ষার্থী, আলেম সমাজ, বাংলাদেশের যেকোনও ধর্মপ্রাণ মানুষ যারা আছেন তারা যদি চেষ্টা করেন, তারা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকেন তাহলে বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়ে যাবে, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক একটি রাষ্ট্রে রূপান্তরিত হবে, সবার অধিকার অর্জিত হবে।'
রাজধানীর মাইলস্টোন কলেজে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় হতাহতদের জন্য দোয়া চেয়ে তিনি বলেন, 'এটি খুবই হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আপনারা সবাই তাদের জন্য দোয়া করবেন।'
জুলাই আন্দোলনে শহীদ আসলামের বোন সালমা বেগম বলেন, 'আমার ভাই পানি ও খাবার সরবরাহ করায় পুলিশ তাকে গুলি করে হত্যা করে। সে না থাকায় আমাদের পুরো পরিবারের অবস্থা খুবই খারাপ। বর্তমান সরকার বা সরকারের কেউ সেরকম কোনও সহযোগিতা করছে না। আর যেই খুনি স্বৈরাচাররা আমার ভাইকে খুন করলো তাদের বিচার করতেও সরকার ব্যর্থ হয়েছে। আমরা দ্রুত জুলাই সনদের বাস্তবায়ন চাই। পাশাপাশি সরকার আমাদের দিকে সুনজর দিক এবং দেশের কল্যাণে কাজ করুক এটাই আমাদের চাওয়া।'
'মাদ্রাসা রেজিস্টেন্স ডে' উপলক্ষে যাত্রাবাড়ীতে শহীদ স্মরণ মঞ্চে চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা ও ড্রোন শো অনুষ্ঠিত হয়।









