সব ডেটা লোকালাইজেশন থাকছে না, কোম্পানির অপরাধে শুধু অর্থদণ্ড

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১৯:৫৩আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ২১:১৯

‘ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৬’-এর খসড়া নীতিগত চূড়ান্ত অনুমোদন করেছে উপদেষ্টা পরিষদ। এতে ডাটা লোকালাইজেশন করার আগের বিধান উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

শফিকুল আলম জানান, ডাটা প্রটেকশন অ্যাক্টের মূল ইস্যু ছিল— বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষ ফেসবুক ব্যবহার করেন, গুগল ব্যবহার করেন। তাদের সঙ্গে যারা মেটা-অ্যালফাবেট, এই ডাটা প্রটেকশন আইনের কিছু বিষয় নিয়ে তাদের কনসার্ন উত্থাপন করেছিল। তাদের কনসার্নকে অ্যাড্রেস করার জন্য দুটো জিনিস করা হয়েছে। একটা হচ্ছে—ডাটা লোকালাইজেশন, আগে ডাটাটা সত্যিকার অর্থে বাংলাদেশেই রাখার কথা ছিল। সেই জায়গাটায় চেঞ্জ এসেছে, ডাটা লোকালাইজেশন যে জিনিসটা ছিল, সেটা উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে। আগে সব ডাটার একটি সিংক্রোনাইজ লোকাল ব্যাকআপ রাখতে বলা হয়েছিল। এখন শুধু ক্রিটিক্যাল ইনফরমেশন ইনফ্রাস্ট্রাকচারের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে। এই জায়গাটায় শুধু বাংলাদেশে এটার একটা রিয়াল টাইম কপি রাখার একটা বিধান করা হয়েছে। আর পার্সোনাল ডাটার ক্ষেত্রে কিছু রেস্ট্রিকশন আছে।

তিনি আরও জানান, আগে কোম্পানি কর্তৃক অপরাধ সংগঠনের ক্ষেত্রে কারাদণ্ডের বিধান ছিল, সেটা উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে। এটা এখন অর্থদণ্ডের বিধান শুধু থাকবে। এর ফলে আমরা আশা করছি, বাংলাদেশে আরও বিদেশি ইনভেস্টমেন্টের ক্ষেত্রে, এসব ডাটার ক্ষেত্রে বা অন্যান্য ক্লাউডের ক্ষেত্রে আমরা আরও কিছু ইনভেস্টমেন্ট দেখতে পারবো। আরও বেশি ইনভেস্টমেন্ট এবং এ আরও ফরেন ইনভেস্টমেন্ট ইনভেস্টরদের আকর্ষণ করবে।

প্রেস সচিব আরও বলেন, শিল্পকলা একাডেমির ডিপার্টমেন্টের সংখ্যা কম ছিল। এখন এটা বাড়ানো হয়েছে। এখন ৯টা ডিপার্টমেন্ট থাকবে। সেখানে কিছু কিছু ক্ষেত্রে নতুন বিধান এসেছে। এখানে অনেকগুলো ধারায় সংশোধন হয়েছে। মোট ৯টি বিভাগ এসেছে। একটা হচ্ছে প্রশাসন অর্থ, থিয়েটারের জন্য আলাদা বিভাগ, চলচ্চিত্রের জন্য আলাদা বিভাগ, আলোকচিত্র, নৃত্য, পারফর্মিং আর্টের জন্য আলাদা বিভাগ, গবেষণা ও প্রকাশনা ও নিউ মিডিয়ার জন্য একটা আলাদা বিভাগ আর আরেকটা হচ্ছে কালচারাল ব্র্যান্ডিং উৎসব ও প্রযোজনা প্রযোজনার জন্য আলাদা বিভাগ, সংগীতের জন্য আলাদা এবং চারুকলার জন্য আলাদা এই ৯টি। আরেকটা বিধান হচ্ছে, আগে সরকার কর্তৃক শিল্পকলা একাডেমির যে বোর্ড আছে, সেখানে এখন সরকার আমাদের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী যারা আছেন, তাদের মধ্যে থেকে একজনকে নিয়োগ করতে পারবেন— এটার একটা বিধান রাখা হয়েছে। যাতে তাদের একটা রিপ্রেজেন্টেশন এখানে থাকে। এটা আমরা মনে করছি, এতে বাংলাদেশের কালচারাল ডাইভার্সিটি এটা আরও বাড়াবে।

বাংলাদেশ বনশিল্প করপোরেশন অধ্যাদেশ ২০২৬  নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। প্রেস সচিব বলেন, আগে বনসম্পদ ছিল, সেগুলোকে কীভাবে এক্সট্রাকশন করে আপনি এটা থেকে কীভাবে আরও আয় বৃদ্ধি করা যায়, সরকারের এই চিন্তাটা ছিল। আগে পাকিস্তানি আমলে বা তার পরে, এখন এখান থেকে সরে আসা হয়েছে।  আমরা অবশ্যই বনসম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার করবো। কিন্তু এটা যাতে পরিবেশকে রক্ষা করে। পরিবেশের ডাইভার্সিটি যেন আমরা কোনোভাবেই কোনও কমপ্রোমাইজ না করি। কোনও অ্যাগ্রেসিভ প্রজাতি লাগিয়ে যেন এটা না করা হয়। এই বিষয়ে আজকের এই অধ্যাদেশটা খুবই ইম্পর্টেন্ট ছিল।

শফিকুল আলম জানান, আজকের বৈঠকে জানানো হয়—আমাদের বনসম্পদের যে আহরণ, সেটা হচ্ছে এই বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের আয় বেড়েছে, প্রথমবারের মতো ‘প্রফিট বিফোর ট্যাক্স’ এটার ক্ষেত্রে রাবার শিল্পে প্রথমবারের মতো ৬ কোটি টাকা প্রফিট করেছে। এটা খুবই আশার এবং সব মিলিয়ে ৫৩ কোটি টাকার প্রফিট গত বছরে তার প্রফিট ছিল। এখন বনশিল্প করপোরেশনকে যেন আরও তার কাজগুলো কীভাবে মানুষের কাছে আনা যায় এবং আগে তো মূলত এটা ফার্নিচার বা কিছু কিছু ক্ষেত্রে অন্যান্য বনসম্পদ, যেমন- রাবার বিক্রি করতো। এখন যেটা হচ্ছে, এটা বনশিল্পের এই আইনের কারণে তারা একটা শোরুম করতে পারবে অনেক জায়গায়। ওই শোরুমের মাধ্যমে অনেক মানুষের কাছে তাদের পণ্যগুলো খুব দ্রুত পৌঁছবে এবং এটাও বিধান রাখা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মুসাব্বির হত্যা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রধান উপদেষ্টার ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ মজুমদার জানান, গতকাল যে মার্ডারটা হয়েছে এটা আমরা পুলিশের সাথে কথা বলেছি, পুলিশের পক্ষ থেকে আমাদের জানানো হয়েছে —যিনি ভিকটিম, তার স্ত্রী একটা মামলা করেছেন। যারা এ ক্ষেত্রে সম্ভাব্য আক্রমণকারী তাদের শনাক্তের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এই মামলায় কোনও গ্রেফতার নেই।

/এসও/এপিএইচ/এমওএফ/
সম্পর্কিত
আলোচনায় কিচেন কেবিনেট, কারা ছিলেন?
ড. ইউনূসসহ সাবেক উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে এত অভিযোগ কেন?
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ ভেঙে গেজেট জারি
সর্বশেষ খবর
নৌবাহিনী পরিচালিত ডকইয়ার্ডে নির্মিত ফ্লোটিং ক্রেন যুক্ত হলো নৌবহরে
নৌবাহিনী পরিচালিত ডকইয়ার্ডে নির্মিত ফ্লোটিং ক্রেন যুক্ত হলো নৌবহরে
জিয়াউর রহমানের আদর্শ গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথ দেখায়: আইনমন্ত্রী
জিয়াউর রহমানের আদর্শ গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথ দেখায়: আইনমন্ত্রী
রেললাইনে আটকে গেলো মাইক্রোবাস, ট্রেনের ধাক্কায় পুকুরে
রেললাইনে আটকে গেলো মাইক্রোবাস, ট্রেনের ধাক্কায় পুকুরে
দেশীয় খামারিদের পশুতেই শতভাগ কোরবানি হয়েছে:  প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী
দেশীয় খামারিদের পশুতেই শতভাগ কোরবানি হয়েছে: প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের