রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ পেতে বাধা কাটলো  

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট 
২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮:১৬আপডেট : ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮:১৮

জাতিসংঘের নির্যাতন ও অন্যান্য নিষ্ঠুর, অমানবিক বা অবমাননাকর আচরণ বা শাস্তিবিরোধী কনভেনশনের ১৪ (১) অনুচ্ছেদে বাংলাদেশের দেওয়া আগের ডিক্লারেশন বা আপত্তি (রিজারভেশন) প্রত্যাহারের অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ। এর ফলে রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের শিকার ব্যক্তি বা গুম হওয়া পরিবারের জন্য আইনগত প্রতিকার এবং পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত হলো। 

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এদিন বিকালে বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। 

প্রেস সচিব জানান, ১৯৮৪ সালে গৃহীত এই আন্তর্জাতিক কনভেনশনে বাংলাদেশ ১৯৯৮ সালে অনুসমর্থন দিলেও ১৪(১) অনুচ্ছেদে এক ধরনের রিজারভেশন দিয়ে রেখেছিল। বাংলাদেশ ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র, নিউজিল্যান্ড ও বাহামার মতো দেশগুলোও এতে আপত্তি জানিয়েছিল। এই অনুচ্ছেদে বলা আছে— প্রতিটি রাষ্ট্র তার আইনি ব্যবস্থায় নিশ্চিত করবে যে, নির্যাতনের শিকার ব্যক্তি উপযুক্ত প্রতিকার, ন্যায্য ক্ষতিপূরণ এবং পূর্ণ পুনর্বাসনের অধিকার পাবেন। এমনকি ভুক্তভোগীর মৃত্যু হলে তার নির্ভরশীল স্বজনরাও এই ক্ষতিপূরণ পাবেন। 

আগে এই অনুচ্ছেদে বাংলাদেশের আপত্তি থাকায় রাষ্ট্রীয় বাহিনীর দ্বারা নির্যাতনের শিকার বা গুম হওয়া ব্যক্তিরা ক্ষতিপূরণ দাবির সুযোগ পেতেন না। শফিকুল আলম জানান, এখন থেকে যারা রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বা গুম হয়েছেন, তাদের পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ প্রাপ্তির পথ প্রশস্ত হলো। এটি কেবল তাদের অধিকারই নিশ্চিত করবে না, বরং তাদের সামাজিক পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও সরকার গ্রহণ করবে। 

সরকার মনে করছে, এই সিদ্ধান্তের ফলে মানবাধিকার সংরক্ষণে গ্লোবাল ফ্যামিলির কাছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল ও সুসংহত হবে। প্রেস সচিবের মতে, এর ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও রাষ্ট্রের জবাবদিহিতা এবং স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে। 

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের মানবাধিকার সংস্থা ও কর্মীরা গত দুই দশক ধরে এই রিজারভেশন প্রত্যাহারের জন্য দাবি জানিয়ে আসছিলেন। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই দাবিকে গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টিকে একটি ‘যুগান্তকারী পদক্ষেপ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।  

/এসও/এসটি/ 
সম্পর্কিত
বিশ্বের নতুন মানচিত্র অনুমোদন দিলো জাতিসংঘ
ন্যায়বিচার, সমতা ও মানবাধিকারই টেকসই শান্তির সংস্কৃতি গড়ার ভিত্তি: আইরিন খান
ছাত্রশক্তির সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করলেন জাহিদ আহসান
সর্বশেষ খবর
মাদক কারবারি ও ছিনতাইকারীদের আটকে রাখতে না পারার কারণ জানালেন আইজিপি
মাদক কারবারি ও ছিনতাইকারীদের আটকে রাখতে না পারার কারণ জানালেন আইজিপি
৭ গোলে জিতেও খুশি নন বাংলাদেশের কোচ
৭ গোলে জিতেও খুশি নন বাংলাদেশের কোচ
অনেক প্রশ্ন মাথায় নিয়েই মক্কা জোটের যাত্রা শুরু 
অনেক প্রশ্ন মাথায় নিয়েই মক্কা জোটের যাত্রা শুরু 
সরকারি সফরে সৌদি আরব গেলেন নৌবাহিনী প্রধান
সরকারি সফরে সৌদি আরব গেলেন নৌবাহিনী প্রধান
সর্বাধিক পঠিত
দেড় ঘণ্টা পর শাহবাগ ছাড়লেন ‘ঢাকাস্থ নোয়াখালীবাসীরা’
দেড় ঘণ্টা পর শাহবাগ ছাড়লেন ‘ঢাকাস্থ নোয়াখালীবাসীরা’
নতুন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল
নতুন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল
পেডিকিউর থেকে কেনাকাটা, পাতায়ায় মার্কিন নাবিকদের ছুটির আমেজ
পেডিকিউর থেকে কেনাকাটা, পাতায়ায় মার্কিন নাবিকদের ছুটির আমেজ
বন্ধ হয়ে গেলো ১৮ বছর ধরে চলা দূরপাল্লার বাস সার্ভিস
বন্ধ হয়ে গেলো ১৮ বছর ধরে চলা দূরপাল্লার বাস সার্ভিস
বৃন্দাবনের যে অংশে সন্ধ্যার পর প্রবেশ নিষেধ
বৃন্দাবনের যে অংশে সন্ধ্যার পর প্রবেশ নিষেধ