নারীদের গৃহস্থালি কাজের আর্থিক মূল্যায়ন হলে জিডিপি তিনগুণ হতো: সিইসি

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
১৬ মার্চ ২০২৬, ১৫:৪৮আপডেট : ১৬ মার্চ ২০২৬, ১৫:৪৮

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, দেশের অর্থনীতি ও জিডিপি হিসাবের ক্ষেত্রে নারীদের গৃহস্থালি কাজের মূল্যায়ন করা হয় না। অথচ এসব কাজের অবদান যদি আর্থিকভাবে মূল্যায়ন করা হতো, তাহলে বাংলাদেশের জিডিপি বর্তমানের তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেশি হতে পারত।

সোমবার (১৬ মার্চ) রাজধানীর নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) ও বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে “নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নারীর অংশগ্রহণ জোরদার” বিষয়ক এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

সিইসি বলেন, সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে নারী কর্মকর্তাদের পারফরম্যান্স ছিল অত্যন্ত প্রশংসনীয়। ভোটের পর নানা অনিয়মের অভিযোগ এলেও তদন্ত করে দেখা গেছে, অভিযুক্তদের সবাই পুরুষ প্রিসাইডিং অফিসার। এখন পর্যন্ত কোনো নারী প্রিসাইডিং অফিসারের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব বা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তিনি জানান, ভবিষ্যতে ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে নারী নির্বাচন কর্মকর্তাদের জন্য বিশেষ পুরস্কার চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।

নারীদের ভোটার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন সিইসি। তিনি বলেন, আগে নারী ও পুরুষ ভোটারের মধ্যে প্রায় ৩০ লাখের ব্যবধান ছিল। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার ফলে সেই ব্যবধান এখন কমে প্রায় ১০ লাখে নেমে এসেছে। অনেক নারী রাত ১০টা-১১টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে ভোটার নিবন্ধন করেছেন—যা অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক।

দেশের অর্থনীতিতে নারীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথাও তুলে ধরেন তিনি। বিশেষ করে প্রবাসী আয়ের (রেমিট্যান্স) পাশাপাশি গার্মেন্টস খাতে নারীদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি অনেকাংশে নারীদের অবদানের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। তাই নারীদের কোনোভাবেই খাটো করে দেখার সুযোগ নেই।

নির্বাচন প্রসঙ্গে সিইসি আরও বলেন, নির্বাচন ভালোভাবে সম্পন্ন হলেও ভোট শেষে রাজনৈতিক আপত্তি বা অভিযোগ ওঠা আমাদের দেশের একটি প্রচলিত সংস্কৃতি। তবে মাঠ পর্যায়ে ভোটাররা ভোট দিতে পারেননি—এমন অভিযোগ তিনি এখনো শোনেননি। তিনি জানান, অনেক মানুষের সঙ্গে কথা বলে এবং বিশেষ করে বয়স্ক নারী ভোটারদের জিজ্ঞেস করেও তিনি কোনো বাধা বা সমস্যার কথা শুনতে পাননি।

 

/এএজে/এমএএল/
সম্পর্কিত
স্থানীয় নির্বাচনের বিধিমালা দ্রুত চূড়ান্ত করার নির্দেশ সিইসির
সাবেক সিইসি হাবিবুল আউয়ালের জামিন প্রশ্নে হাইকোর্টের রুল
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বড় চ্যালেঞ্জ কী, জানালেন সিইসি
সর্বশেষ খবর
গাজীপুর আদালত প্রাঙ্গণ থেকে হাতকড়া খুলে পালালেন আসামি
গাজীপুর আদালত প্রাঙ্গণ থেকে হাতকড়া খুলে পালালেন আসামি
পচে গেলো ৫৭ হাজার বস্তা আলু, কৃষকের মাথায় হাত
পচে গেলো ৫৭ হাজার বস্তা আলু, কৃষকের মাথায় হাত
মাইলস্টোন দুর্ঘটনার পরও বদলায়নি কিছুই, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন অপসারণে অগ্রগতি নেই
মাইলস্টোন দুর্ঘটনার পরও বদলায়নি কিছুই, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন অপসারণে অগ্রগতি নেই
সেই একই জায়গা দখল করেছে ককরোচ জনতা পার্টি, উত্তপ্ত দিল্লি
সেই একই জায়গা দখল করেছে ককরোচ জনতা পার্টি, উত্তপ্ত দিল্লি
সর্বাধিক পঠিত
পরবর্তী ২০৩০ ফিফা বিশ্বকাপের আয়োজক কারা, জেনে নিন সূচি ও নতুন ফরম্যাট
পরবর্তী ২০৩০ ফিফা বিশ্বকাপের আয়োজক কারা, জেনে নিন সূচি ও নতুন ফরম্যাট
সাবান-আইসক্রিমসহ চার প্রতিষ্ঠানের ৮ পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ 
সাবান-আইসক্রিমসহ চার প্রতিষ্ঠানের ৮ পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ 
মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো ৪৯ রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স প্রত্যাহার
মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো ৪৯ রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স প্রত্যাহার
মিত্রদের নিয়ে সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজ: কারা যাচ্ছেন, কারা যাচ্ছেন না
মিত্রদের নিয়ে সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজ: কারা যাচ্ছেন, কারা যাচ্ছেন না
ছাত্রনেতা থেকে যেভাবে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন
ছাত্রনেতা থেকে যেভাবে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন