যেকোনও সময় সচিবালয়ে হাজির হতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাই সকাল ৯টা থেকেই বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দফতরে পরিপাটি হয়ে বসে থাকেন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। সচিবালয়ে এখন এটি নিয়মিত দৃশ্য হয়ে উঠেছে। এই দৃশ্য শুরু হয়েছে গত ২৯ মার্চ প্রধানমন্ত্রী আকস্মিকভাবে সচিবালয়ের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করার পর থেকে।
ওই দিন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রবেশের আগে প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ, মহিলা ও শিশু, সমাজকল্যাণ, স্বাস্থ্য এবং গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ঘুরে কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। অফিসে সময়মতো উপস্থিতি নিশ্চিত করা, কাজের জবাবদিহি এবং প্রশাসনে স্বচ্ছতা বজায় রাখা ছিল এই পরিদর্শনের মূল লক্ষ্য।
২০ বছর পর আবারও দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছে বিএনপি। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ভূমিধস বিজয়ের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠন করে বিএনপি। নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের অঙ্গীকার নিয়ে দায়িত্ব নেওয়ার এক মাসের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী সক্রিয়ভাবে সচিবালয়ে উপস্থিত থেকে প্রশাসনিক কাজ তদারকি করছেন।
সচিবালয় সূত্র জানায়, হঠাৎ পরিদর্শনের ফলে কিছু কর্মকর্তা আতঙ্কিত হলেও অনেকেই উদ্যোগটিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। সাধারণ কর্মচারীরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি দেখা ও কথা বলার সুযোগ পেয়ে উদ্দীপিত হচ্ছেন, আর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে সতর্কতা এবং দায়িত্ববোধ বেড়েছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সকাল ৯টার আগে অফিসে উপস্থিত হয়ে পরবর্তী ৪০ মিনিট পর্যন্ত দফতরে থাকা এখন বাধ্যতামূলক। আগে যেখানে আড্ডা বা গালগপ্প চলতো, এখন সেই সুযোগ নেই।
প্রধানমন্ত্রী নিজে সচিবালয়ের অভ্যন্তরে আটটি মন্ত্রণালয়ে গিয়ে অফিসে উপস্থিতি এবং কাজ মনিটরিং করেছেন। এই উদ্যোগকে দুর্নীতি রোধ এবং প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা এ বি এম তাজুল ইসলাম বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা ও কথা বলার সুযোগ পেলে আমাদের কাজের উৎসাহ বাড়ে।”
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ক্ষমতার পরিবর্তনের পর সচিবালয়ে ব্যাপক রদবদল ও প্রশাসনিক সংস্কার শুরু হয়েছে। নতুন সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর শীর্ষ পদে নতুন সচিব নিয়োগ, অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের পুনঃপদায়ন এবং চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। এতে সরকারি কাজের গতিশীলতা বেড়েছে এবং স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত হয়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব বোরহান উদ্দিন আহমেদ বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর ঝটিকা পরিদর্শনে আমরা তটস্থ থাকি, তবে কাজের উৎসাহ ও গতিশীলতা অনেক বেড়ে গেছে।” আইন মন্ত্রণালয়ও অফিস সময়ের কড়াকড়ি আরোপ করেছে। সচিবালয়ে নিরাপত্তা বাড়ানোর পাশাপাশি সাংবাদিকদের প্রবেশে কিছু পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি মনিটরিং প্রশাসনের জন্য স্পষ্ট বার্তা—দায়িত্ব ও জবাবদিহি সবসময় অগ্রাধিকার পাবে। কর্মকর্তাদের মধ্যে কাজের প্রতি উৎসাহ বেড়েছে, আতঙ্কও আছে। প্রধানমন্ত্রীর পদক্ষেপগুলো শুধু প্রশাসনিক নয়, জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার প্রতিফলন।
সাবেক অতিরিক্ত সচিব মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, “সরকারের প্রধান যদি এভাবে প্রশাসনিক কার্যক্রম মনিটর করেন, তাহলে কাজের গতিশীলতা স্বাভাবিকভাবেই বাড়ে। কারণ দুটি—ভয় বা সতর্কতা, আর উৎসাহ।”








