রংপুরের ঝাঁঝালো মরিচ নয়, সুন্দরবনের মধুর মতো সহনশীলতার আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় সংসদে উত্তেজনার মধ্যে তিনি বলেন, ‘আমরা রংপুরের ঝাঁঝালো মরিচের কথা ভুলে যাই, আসুন সুন্দরবনের মধুটা একটু আমরা ঠোটে লাগাই।’
বুধবার (২২ এপ্রিল) সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে নানা ইস্যুতে, বিশেষ করে ‘গুপ্ত’ প্রসঙ্গে উত্তেজনা তৈরি হলে তিনি এ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘আমরা পারবো ইনশাআল্লাহ, আমরা পারবো কেন পারবো না—শুধু একটা গুড ইনটেনশন লাগবে, আমরা এই জাতিকে বিল্ড আপ করবো।’
‘তেলাপোকার পাখা আছে হোক সে বধির, মরিবার আগে করিতে চায় কিচির-মিচির...’
‘শৈবাল দীঘিরে কহে উচ্চ করি শির, লিখে রেখো এক ফোঁটা দিলেম শিশির, তেলাপোকার পাখা আছে হোক সে বধির, মরিবার আগে করিতে চায় কিচির-মিচির’—এই কবিতা উদ্ধৃতি দিয়ে বিরোধী দলকে কটাক্ষ করেছেন গাইবান্ধা-৪ আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার।
বুধবার রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় তিনি বলেন, ‘গোলাভরা ধান থাকলে পাতানকে যেমন অস্বীকার করা হয় না, ঝোলাভরা রাজাকার থাকলেই দুই-একজন মুক্তিযোদ্ধাকে অস্বীকার করা হয় না।’
এর আগে একই আলোচনায় বরিশাল-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবুল হোসেন খান বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় কোন দলের কী ভূমিকা ছিল তা আমরা জানি। জামায়াতের মুক্তিযোদ্ধা আছে, মুক্তিযুদ্ধের সময় তখন কেউ জামায়াত করতেন না, তারা জামায়াতে পরে গেছেন।’
আলোচনায় শামীম কায়সার বলেন, ‘ফ্যাক্ট এবং ন্যারেটিভের মধ্যে অনেক অসঙ্গতি আছে এবং বর্তমান জেনারেশনকে ভুল বোঝানো হচ্ছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ থাকলেও বাজারে ভিন্ন আলোচনা চলছে।’
‘ভোটাররা আঙুল চুষবে না’
সরকার দলীয় সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ ভুঁঞা বলেছেন, ‘বিরোধী দল সরকারকে নাজেহাল করতে চক্রান্ত চালাচ্ছে। সংসদে তাদের আচরণে মনে হচ্ছে, তারা দেশে সুষ্ঠু ধারার রাজনীতি করতে দেবে না।’
বিরোধী দলকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদেরকে যারা ভোট দিয়েছে তারা আঙুল চুষবে না, বসে থাকবে না। তারা প্রতিবাদ করবে, আমাদের ভোটাররা তাকিয়ে থাকবে না।’
বুধবার রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান সরকার শান্তি, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে কাজ করছে। তবে বিরোধী দল সংসদের ভেতরে ও বাইরে সরকারকে নাজেহাল করতে চক্রান্ত করছে, যা সুষ্ঠু রাজনীতির জন্য গ্রহণযোগ্য নয়।’
বিরোধী দলকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘যারা ৭১ সালের স্বাধীনতাকে মেনে নিতে পারে না, তারা দেশের উন্নয়নও চায় না এবং বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে কাজ করছে।’
‘সরকারি দলে যোগ দিলেন নাকি?’
‘মাননীয় সদস্য আপনি কী সরকারি দলে যোগ দিয়েছেন নাকি? ফ্লোর ক্রসিং ইজ নট অ্যালাউড।’
জরুরি জনগুরুত্ব সম্পন্ন মনোযোগ আকর্ষণ (বিধি-৭১) নোটিশের ওপর আলোচনায় ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনুর বক্তব্যের পর হান্নান মাসুদকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে এ কথা বলেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর ব্রিকম।









