জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকারী বাংলাদেশি সদস্যদের অবদানের প্রশংসা করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, “বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা যে ত্যাগ স্বীকার করেন, দেশের মানুষ অনেক সময় তার প্রকৃত মূল্যায়ন করতে পারেন না। দেশের সম্মান সমুন্নত রাখতে তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। সেজন্য সরকারের পক্ষ থেকে তাদের স্যালুট।”
সোমবার (৮ জুলাই) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ডিফেন্স জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিজাব) আয়োজিত ‘বিশ্ব শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের অবদান’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, “আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে সম্মেলনে অংশ নিতে গিয়ে আমি বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের কাজের প্রশংসা শুনেছি। তখন উপলব্ধি করেছি, তারা যে অর্জন ও সুনাম দেশের জন্য বয়ে আনছেন, আমরা অনেকেই তার গভীরতা বুঝতে পারি না। তারা প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন।”
শান্তিরক্ষীদের পরিবারের সদস্যদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, “প্রত্যেক পরিবার তাদের বাবা, স্বামী কিংবা ভাইকে এমন এক দায়িত্বে পাঠান, যেখান থেকে তিনি নিরাপদে ফিরে আসবেন কিনা, তার কোনও নিশ্চয়তা থাকে না। তারপরও দেশপ্রেম ও বাংলাদেশের প্রতি ভালোবাসা থেকেই তারা এই ত্যাগ স্বীকার করেন।”
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমি ব্যক্তিগতভাবে শান্তিরক্ষীদের স্যালুট জানাই। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকেও তাদের প্রতি স্যালুট জানাই। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সবসময় শান্তিরক্ষীদের কল্যাণ ও প্রয়োজনীয় বিষয়ে আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।”
ভবিষ্যতেও ডিফেন্স জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “যেকোনও প্রয়োজনে আপনারা আমাদের কাছে এলে আমরা তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবো এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করবো।”
ডিফেন্স জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিজাব) সভাপতি আলমগীর হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভার শুরুতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে শহীদ হওয়া বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন এবং সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন ডিজাবের সাধারণ সম্পাদক তারিকুল ইসলাম মাসুম।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ (কী-নোট) উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক এবং সমাজ ও অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক।
আলোচনা সভায় আন্তর্জাতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক এবং সামিট পাওয়ার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) ড. মনিরুল ইসলাম আখন্দ, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কমোডোর (অব.) এম এম জসিম উদ্দিন ভূঁইয়া এবং বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর এয়ার কমোডোর মোহাম্মদ মুশতাকুর রহমান (এলপিআর) বক্তব্য দেন।
এছাড়া অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে মতামত তুলে ধরেন ডিজাবের সাবেক সভাপতি ও ডেইলি অবজারভারের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মামুনূর রশীদ, দেশকাল নিউজের অ্যাসাইনমেন্ট এডিটর ও ডিজাবের সিনিয়র সদস্য মাসুদ করিম, দৈনিক ইত্তেফাকের নগর সম্পাদক এবং ডিজাবের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি আবুল খায়ের, ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশের (ডিক্যাব) সাধারণ সম্পাদক ইমরুল কায়েস, আইএসপিআরের সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) আব্দুল্লাহ ইবনে জায়েদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. সাবের আহমেদ চৌধুরী এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মান্নান।
