স্বাধীনতার পর এবার ৫৫তম জাতীয় বাজেট পেশ করেছেন তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য এ বাজেটের আকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। ইতোমধ্যে বাজেট প্রস্তাবনার অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
এবারের বাজেটে সামষ্টিক অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের বাজেটের সঙ্গে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপির নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোট সরকারের বাজেটের তুলনামূলক চিত্র উত্থাপন করা হয়েছে।
এ নিয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়ের সঙ্গে বিএনপির পূর্বতন সরকারের সময়ের সামষ্টিক অর্থনীতির সূচকগুলোর তুলনামূলক ধরছি।
তিনি জানান, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে জিডিপির প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছিল ৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ। কিন্তু পরবর্তী সময়ে পতিত সরকারের সময়ে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা ৪ দশমিক ২২ শতাংশে এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশে নেমে এসেছে।
২০০৫-০৬ সময়ে সাধারণ মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক ১৭ শতাংশ; যা বেড়ে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ১১ দশমিক ৬৬ শতাংশে পৌঁছায়।
অপরদিকে সম্পদের অসম বণ্টন ব্যবস্থা, সুশাসনের অভাব ও দুর্নীতির কারণে অর্থনৈতিক বৈষম্য বেড়েছে। ২০০৫ সালে আয়-ভিত্তিক জিনি কোফিশিয়েন্ট ছিল শূন্য দশমিক ৪৬৭; যা বৃদ্ধি পেয়ে ২০২২ সালের সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী শূন্য দশমিক ৪৯৯ শতাংশে পৌঁছেছে।
রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত নিম্ন পর্যায়ে রয়ে গেছে; এখনও তা ৮ শতাংশের কাছাকাছি অবস্থান করছে। কর-জিডিপি অনুপাত ৬ দশমিক ৮ শতাংশ; যা দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সর্বনিম্ন।
অর্থমন্ত্রী আরও জানান, ২০০৫ সালের ডিসেম্বরে সামগ্রিক ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের হার ছিল ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ। পক্ষান্তরে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে খেলাপি ঋণ বেড়ে ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে; যার পরিমাণ প্রায় ৬ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা।
অপরদিকে ২০০৫ সালে সামগ্রিক ব্যাংকিং খাতে মূলধন পর্যাপ্ততা (Capital Adequacy Ratio) ছিল ৭ দশমিক ৩ শতাংশ, ২০২৫ সালের শেষে ঋণাত্মক অর্থাৎ ২ দশমিক ৬৪ শতাংশে নেমে এসেছে।
২০০৫-০৬ অর্থবছরের বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ১৮ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে অনেক কমে ২০২৪-২৫ এ ৬ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে এসেছে।
মন্ত্রী জানান, লুটপাট, অব্যবস্থাপনা, স্ক্যাম ও ভুল নীতি গ্রহণের মাধ্যমে পুঁজিবাজারকে সম্পূর্ণ ধ্বংস এবং এর ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুরোপুরি নষ্ট করা হয়েছে। বিএনপি সরকার যতবার এ দেশে সরকার পরিচালনা করেছে কখনোই ব্যাংক, আর্থিক খাতসহ পুঁজিবাজারে কোনও সংকট সৃষ্টি হয়নি।
২০০৬ সালে বৈদেশিক ঋণ ছিল ১ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা; যা ২০২৪ সালে প্রায় ৬ দশমিক ৫ গুণ বেড়ে ৮ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা হয়েছে।
তিনি জানান, আমাদের রেখে যাওয়া অভ্যন্তরীণ ঋণ ৬৫ হাজার কোটি থেকে প্রায় ১৬ গুণের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ৭৭ হাজার কোটি টাকায়; যা সত্যিই উদ্বেগের।
সুদ ব্যয় ২০০৫-০৬ সালে ৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা থেকে ১৩ গুণের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৩-২৪ সালে ১ লাখ ১৪ হাজার ৭০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।
আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বিশ্লেষণ অনুযায়ী বাংলাদেশের ঋণমান জোট সরকারের রেখে যাওয়া ‘নিম্ন’ ঝুঁকি ক্যাটাগরি হতে ‘মধ্যম’ ঝুঁকির দেশে অবনমন হয়েছে।
২০০৫-০৬ সালে রফতানি ও আমদানির প্রবৃদ্ধি ছিল যথাক্রমে ২১ দশমিক ৬ ও ১২ দশমিক ২ শতাংশ। পক্ষান্তরে ২০২৩-২৪ সালে সূচক দুটির প্রবৃদ্ধি ছিল ঋণাত্মক। ২০০৫-০৬ সালে মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হায় ৬৮ টাকা থেকে ২০২৩-২৪ সালে বেড়ে ১২২ টাকায় পৌঁছেছে; যা বৈদেশিক লেনদেন ভারসাম্য ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে প্রভাব ফেলছে।









