দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সঞ্চালন সক্ষমতায় ঘাটতি না থাকলেও বিতরণ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
শুক্রবার (১২ জুন) রাজধানীর আফতাবনগরে ন্যাশনাল লোড ডিসপ্যাচ সেন্টার (এনএলডিসি) পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ খাতের উৎপাদন ও সঞ্চালন ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হলেও বিতরণ খাতে পরিকল্পনাহীন সম্প্রসারণের কারণে নানা সমস্যা তৈরি হয়েছে। এর ফলে অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সঞ্চালন সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও গ্রাহকরা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না।
তিনি জানান, সাধারণ মানুষ যাকে লোডশেডিং হিসেবে দেখছেন, অনেক ক্ষেত্রে তা আসলে বিতরণ লাইনের কারিগরি দুর্বলতার ফল। একটি আদর্শ বিতরণ লাইনের দৈর্ঘ্য ৩০ থেকে ৩৫ কিলোমিটার হওয়ার কথা থাকলেও পল্লী বিদ্যুতের অনেক লাইন ৯০ থেকে ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। এতে সরবরাহ ব্যবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ছে এবং বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঘটনা বাড়ছে।
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, দীর্ঘ ও অপরিকল্পিত বিতরণ লাইন শুধু স্থানীয় পর্যায়ে সমস্যা তৈরি করছে না, জাতীয় গ্রিডের ওপরও অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে। এতে উৎপাদন, সঞ্চালন ও সামগ্রিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
তিনি জানান, বিতরণ ব্যবস্থার এসব সমস্যা সমাধানে ইতোমধ্যে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ (পিজিসিবি)-এর কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যৎ বিদ্যুৎ চাহিদা এবং নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার প্রস্তুতিও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট চালুর প্রস্তুতি চলছে। রাশিয়ার পক্ষ থেকে আগস্টে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর সম্ভাবনার কথা জানানো হলেও পুরো ব্যবস্থা স্থিতিশীল করতে আরও সময় লাগবে। সে কারণে নভেম্বরের মধ্যে ইউনিটটি পূর্ণাঙ্গভাবে উৎপাদনে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
ক্যাপাসিটি চার্জ ও বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এসব চুক্তির কারণে সরকারের আর্থিক চাপ বাড়ছে। তবে রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টির আওতায় সম্পাদিত হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে চুক্তি বাতিল করা সম্ভব নয়। বর্তমানে চুক্তিগুলো আইনগতভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং সুযোগ থাকলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, বিদ্যমান চুক্তিগুলোর বিষয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আইনগত ও কারিগরি বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করা হবে, যাতে দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনও বিরূপ প্রভাব না পড়ে।









