নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল মুনতাকিমের নিজেকে ‘শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান’ দাবি এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হককে নিয়ে নিজের করা একটি মন্তব্য সংসদের কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ (বাদ) করার ঘোষণা দিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
রবিবার (২১ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১১তম দিনে তিনি এ ঘোষণা দেন।
অধিবেশনের শুরুতে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপনের পর পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. জালাল উদ্দিন বলেন, গত ১৪ জুন নীলফামারী-৪ আসন থেকে নির্বাচিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য আবদুল মুনতাকিম বাজেটের ওপর আলোচনায় নিজেকে শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান বলে দাবি করেন। অথচ তার বাবা এখনও জীবিত। এই অসত্য তথ্য সংসদের কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ করার অনুরোধ জানান তিনি।
জবাবে স্পিকার বলেন, এটা পয়েন্ট অব অর্ডার নয়। তবে যে সদস্যের কথা বলা হচ্ছে, তিনি সেদিনই আমার চেম্বারে এসে জানিয়েছেন যে ভুলক্রমে তার মুখ থেকে কথাটি বেরিয়ে এসেছে। তার পিতা এখনও জীবিত আছেন। বিষয়টি পত্রপত্রিকায়ও এসেছে এবং তিনি নিজেও পরে বক্তব্য দিয়ে নিজের ভুল স্বীকার করেছেন। এটা স্লিপ অব টাং বা অনিচ্ছাকৃত ভুল। তাই এটিকে সংসদের কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ করা হবে।
একই অধিবেশনে মাওলানা মামুনুল হককে নিয়ে করা নিজের একটি মন্তব্যও কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার ঘোষণা দেন স্পিকার।
তিনি বলেন, গত ১৮ জুন ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য খোন্দকার আবু আশফাক বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে হেফাজতে ইসলামের নেতা মাওলানা মামুনুল হক সম্পর্কে কথিত পরকীয়া ও মুতা বিয়ে নিয়ে কিছু মন্তব্য করেন, যা অনভিপ্রেত।
স্পিকার বলেন, যার পক্ষে সংসদে এসে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নেই, তার সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করা অনুচিত। সে কারণে আবু আশফাক সাহেবের মন্তব্য আমি এক্সপাঞ্জ করেছি।
তিনি আরও বলেন, সেই সময় আমিও বলেছিলাম, কোনও ব্যক্তির জীবনের অন্ধকার অধ্যায় এখানে আলোচিত হোক, সেটা আমি চাই না। আমার ওই বক্তব্যের ‘অন্ধকার অধ্যায়’ অংশটুকুও এক্সপাঞ্জ করা হলো।
ভবিষ্যতে সংসদ সদস্যদের আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে স্পিকার বলেন, বাজেট বক্তৃতা বা অন্য কোনও আলোচনায় যার পক্ষে এখানে এসে নিজেকে ডিফেন্ড করা সম্ভব নয়, তার উদ্দেশে বিরূপ মন্তব্য না করাই সমীচীন।









