মালয়েশিয়ায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রবিবার (২১ জুন) স্থানীয় সময় রাত ৯টা ও বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টায় তাকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটটি কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান মালয়েশিয়ার ধর্মমন্ত্রী জুলকিফলি হাসান ও তার সহধর্মিণী। এ সময় মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই তার প্রথম বিদেশ সফর। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীআনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে দেশটিতে গেছেন তিনি।
এর আগে রবিবার বিকাল পৌনে ৩টায় স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তাকে বিদায় জানান বিএনপির মহাসচিব ও এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি, মন্ত্রিসভার সদস্য এবং বিএনপির শীর্ষ নেতারা।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন আটজন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টা। এছাড়া ব্যক্তিগত কর্মকর্তারাও রয়েছেন প্রতিনিধি দলে।
সফরসূচি অনুযায়ী, মালয়েশিয়া সফর শেষে তিনি চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের আমন্ত্রণে সরাসরি চীন সফরে যাবেন।
প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফর নিয়ে শনিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম জানান, চীন সফরকালে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ), দুটি চুক্তি, একটি কর্মপরিকল্পনা ও একটি প্রোটোকলসহ মোট ১৫ থেকে ১৭টি দ্বিপক্ষীয় দলিল সই হতে পারে। বহুল আলোচিত তিস্তা প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
তিনি জানান, দুই দেশের সফরে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধিদল তুলনামূলক ছোট রাখা হয়েছে। এতে ২৭ থেকে ২৮ জন সদস্য রয়েছেন। সফরগুলোকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব জোরদার, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধির বড় কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আগামী ২৫ জুন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরদিন ২৬ জুন তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।
এছাড়া চীন সফরকালে লিয়াওনিং প্রদেশের দালিয়ানে ২৩ থেকে ২৫ জুন অনুষ্ঠিতব্য ‘নিউ চ্যাম্পিয়নস’-এর ১৭তম বার্ষিক সম্মেলন বা সামার দাভোস ফোরামে অংশ নেবেন তিনি। ‘ইনোভেটিং অ্যাট স্কেল’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ ফোরামে ৯০টির বেশি দেশ ও অঞ্চলের ১ হাজার ৭০০-এর বেশি প্রতিনিধি অংশ নেবেন।
পররাষ্ট্রসচিব জানান, মালয়েশিয়া সফরে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, শ্রমবাজারে সহযোগিতা ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। অন্যদিকে চীন সফরে অবকাঠামো, প্রযুক্তি, সংযোগ ও উন্নয়ন খাতে সহযোগিতা আরও গভীর করার বিষয়ে বাংলাদেশের অঙ্গীকার তুলে ধরা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর আগামী শুক্রবার (২৬ জুন) রাতে দেশে ফেরার কথা রয়েছে।









