খেতাবপ্রাপ্ত ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের নতুন ভাতা নির্ধারণ

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট  
১৭ জুলাই ২০২৬, ০০:৪৯আপডেট : ১৭ জুলাই ২০২৬, ০০:৫৭

খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা, যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সম্মানী ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধার নতুন হার নির্ধারণ করেছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বীর উত্তম খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধারা মাসে ৩০ হাজার এবং বীর বিক্রম ও বীর প্রতীকরা ২৫ হাজার টাকা করে মূল সম্মানী ভাতা পাবেন।

শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার মূল সম্মানী, চিকিৎসা ও খাদ্য ভাতা মিলিয়ে প্রতি মাসে মোট ৪০ হাজার টাকা পাবে। সাধারণ শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের মাসিক মোট ভাতা হবে ৩০ হাজার টাকা। আর সর্বোচ্চ মাত্রায় যুদ্ধাহত ‘এ’ শ্রেণির জীবিত বীর মুক্তিযোদ্ধা অতিরিক্ত সহায়ক ভাতাসহ মাসে মোট ৪৫ হাজার টাকা পাবেন।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় ১৫ জুলাই এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী নতুন ভাতার হার ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে। মাসিক ভাতার পাশাপাশি বছরে দুটি উৎসব ভাতা, মহান বিজয় দিবসের ভাতা এবং বাংলা নববর্ষ ভাতার হারও নির্ধারণ করা হয়েছে।

খেতাবপ্রাপ্তদের ভাতা

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বীর উত্তম খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধারা মাসে ৩০ হাজার টাকা মূল সম্মানী ভাতা পাবেন। বীর বিক্রম ও বীর প্রতীক খেতাবপ্রাপ্তদের মাসিক মূল সম্মানী ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ হাজার টাকা করে।

এই তিন শ্রেণির খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা বছরে দুটি উৎসবে প্রতিবার ১০ হাজার টাকা করে উৎসব ভাতা পাবেন। এছাড়া জীবিত খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধারা মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে পাঁচ হাজার এবং বাংলা নববর্ষে দুই হাজার টাকা করে পাবেন।

বীর উত্তমের মাসিক মূল ভাতা ৩০ হাজার টাকা হলেও উৎসব ভাতা হবে প্রতিবার ১০ হাজার টাকা। একইভাবে বীর বিক্রম ও বীর প্রতীকের মূল ভাতা ২৫ হাজার টাকা হলেও তাদের উৎসব ভাতার পরিমাণও প্রতিবার ১০ হাজার টাকা।

শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার পাবে মাসে ৪০ হাজার

শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ পরিবারের জন্য মাসিক মূল সম্মানী ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৩ হাজার টাকা। এর সঙ্গে দুই হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা এবং পাঁচ হাজার টাকা খাদ্য ভাতা দেওয়া হবে। সব মিলিয়ে পরিবারটি মাসে মোট ৪০ হাজার টাকা পাবে।

শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার বছরে দুটি উৎসবে প্রতিবার ৩৩ হাজার টাকা করে উৎসব ভাতা এবং বাংলা নববর্ষে দুই হাজার টাকা পাবে। তবে মহান বিজয় দিবসের পাঁচ হাজার টাকার ভাতা কেবল জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য নির্ধারিত হওয়ায় শহিদ পরিবারের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য হবে না।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, বীরশ্রেষ্ঠের পরিবার আর্থিক সুবিধার ক্ষেত্রে শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার হিসেবেই গণ্য হবে।

শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের মাসিক ৩০ হাজার

সাধারণ শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের মাসিক মূল সম্মানী ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৩ হাজার টাকা। এর সঙ্গে দুই হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা এবং পাঁচ হাজার টাকা খাদ্য ভাতা যোগ হবে। ফলে পরিবারটি মাসে মোট ৩০ হাজার টাকা পাবে।

শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার বছরে দুটি উৎসবে প্রতিবার ২৩ হাজার টাকা করে উৎসব ভাতা পাবে। বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে পাবে দুই হাজার টাকা। তবে তাদের জন্যও মহান বিজয় দিবসের পৃথক ভাতা রাখা হয়নি।

যুদ্ধাহতদের চার শ্রেণিতে ভাতা

যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পঙ্গুত্বের মাত্রা অনুযায়ী ‘এ’, ‘বি’, ‘সি’ ও ‘ডি’— চার শ্রেণিতে ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে।

৯৬ থেকে ১০০ শতাংশ পঙ্গুত্বসম্পন্ন ‘এ’ শ্রেণির যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসে ৩০ হাজার টাকা মূল ভাতা পাবেন। এর সঙ্গে দুই হাজার টাকা চিকিৎসা এবং পাঁচ হাজার টাকা খাদ্য ভাতা মিলিয়ে মাসিক নিয়মিত সুবিধা হবে ৩৭ হাজার টাকা।

জীবিত ‘এ’ শ্রেণির যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধাকে অতিরিক্ত সহায়ক ভাতা হিসেবে মাসে আরও আট হাজার টাকা দেওয়া হবে। ফলে জীবিত থাকা অবস্থায় তিনি মাসে মোট ৪৫ হাজার টাকা পাবেন। তবে তার মৃত্যুর পর উত্তরাধিকারীরা অতিরিক্ত আট হাজার টাকার সহায়ক ভাতা পাবেন না।

৬১ থেকে ৯৫ শতাংশ পঙ্গুত্বসম্পন্ন ‘বি’ শ্রেণির যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা মাসে ২৮ হাজার টাকা মূল ভাতা পাবেন। চিকিৎসা ও খাদ্য ভাতাসহ তার মোট মাসিক সুবিধা হবে ৩৫ হাজার টাকা।

২০ থেকে ৬০ শতাংশ পঙ্গুত্বসম্পন্ন ‘সি’ শ্রেণির যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার মূল ভাতা হবে ২৩ হাজার টাকা। চিকিৎসা ও খাদ্য ভাতাসহ তিনি মাসে মোট ৩০ হাজার টাকা পাবেন।

১ থেকে ১৯ শতাংশ পঙ্গুত্বসম্পন্ন ‘ডি’ শ্রেণির যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার মূল ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা। দুই হাজার টাকা চিকিৎসা ও পাঁচ হাজার টাকা খাদ্য ভাতাসহ তার মাসিক মোট ভাতা হবে ২৭ হাজার টাকা।

যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষেত্রে বছরে দুটি উৎসব ভাতার প্রতিটির পরিমাণ হবে তাদের নিজ নিজ মূল ভাতার সমান। জীবিত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা মহান বিজয় দিবসে পাঁচ হাজার এবং বাংলা নববর্ষে দুই হাজার টাকা করে পাবেন।

প্রজ্ঞাপনটি রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি করা হয়েছে। এতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নতুন হার অনুযায়ী ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা বিতরণের ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা, যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সম্মানী ভাতা পাঁচ হাজার টাকা করে বাড়ানোর প্রস্তাব করেন।

/জেইউ/এম/  
সম্পর্কিত
‘আপনারা ৭১ সালে কোথায় ছিলেন’
মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানি ভাতা বৃদ্ধির দাবি সংসদে
বৃহত্তর যশোরের মুজিব বাহিনীর প্রধান মারা গেছেন
সর্বশেষ খবর
শহীদ আবু সাঈদের স্মরণসভায় লোক কম দেখে মন্ত্রী বললেন, ‘আমি হতাশ’
শহীদ আবু সাঈদের স্মরণসভায় লোক কম দেখে মন্ত্রী বললেন, ‘আমি হতাশ’
‘আয়কর অফিসার’ পরিচয়ে টাকা নিয়ে খেলেন গণপিটুনি, পেলেন ৬ মাসের সাজা
‘আয়কর অফিসার’ পরিচয়ে টাকা নিয়ে খেলেন গণপিটুনি, পেলেন ৬ মাসের সাজা
হাইকোর্টে নতুন রেকর্ড, একদিনেই নিষ্পত্তি ৬৩৪০ মামলা
হাইকোর্টে নতুন রেকর্ড, একদিনেই নিষ্পত্তি ৬৩৪০ মামলা
মির্জা ফখরুলের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে যা জানা গেলো
মির্জা ফখরুলের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে যা জানা গেলো
সর্বাধিক পঠিত
অজিত দোভালের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার বৈঠক
অজিত দোভালের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার বৈঠক
শিক্ষা খাত নিয়ে নতুন ঘোষণা দিলেন প্রধানমন্ত্রী
শিক্ষা খাত নিয়ে নতুন ঘোষণা দিলেন প্রধানমন্ত্রী
দলে দলে কেন ইসরো ছাড়ছেন ভারতীয়রা
দলে দলে কেন ইসরো ছাড়ছেন ভারতীয়রা
জিয়াউর রহমান হত্যা মামলায় গ্রেফতার কে এই মোজাফফর
জিয়াউর রহমান হত্যা মামলায় গ্রেফতার কে এই মোজাফফর
‘ফকল্যান্ড ব্যানার’ বিতর্ক: মেসিদের শাস্তি কী হতে পারে, কী বলছে ফিফার নিয়ম 
‘ফকল্যান্ড ব্যানার’ বিতর্ক: মেসিদের শাস্তি কী হতে পারে, কী বলছে ফিফার নিয়ম