বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামছুল ইসলাম বলেছেন, নিরাপদ, স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ বঙ্গোপসাগর গড়ে তুলতে বিমসটেকভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে প্রস্তুত বাংলাদেশ। তিনি বলেন, নিরাপত্তা ও উন্নয়ন এখন অবিচ্ছেদ্য; কোনো দেশ এককভাবে বর্তমান সময়ের জটিল নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারবে না।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত বিমসটেক জাতীয় নিরাপত্তা প্রধানদের পঞ্চম বৈঠকে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
রোহিঙ্গা সংকটে আঞ্চলিক সহযোগিতার আহ্বান
প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বলেন, এক দশকের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ ১২ লাখেরও বেশি জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে, যা দেশের জন্য উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও নিরাপত্তাজনিত চাপ তৈরি করেছে। নিরাপদ, স্বেচ্ছাসেবী ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনই এই সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান উল্লেখ করে তিনি রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে বিমসটেক সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগ কামনা করেন।
সাইবার হুমকি থেকে জলবায়ু সংকট
তিনি বলেন, সহিংস চরমপন্থা, অবৈধ পাচার ও সংগঠিত অপরাধের মতো প্রথাগত হুমকির পাশাপাশি সাইবার আক্রমণ, ভুয়া তথ্য, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর হামলা, জলবায়ুজনিত দুর্যোগ ও জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থাও আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। এসব হুমকি সীমান্ত মানে না এবং দ্রুত পরিবর্তিত হয়; তাই সমন্বিত আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়া প্রয়োজন।
গণতন্ত্র পুনর্গঠন ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামছুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা, রাজনৈতিক সহিংসতা প্রতিরোধ এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। একই সঙ্গে ভুয়া তথ্য, ঘৃণামূলক বক্তব্য, মানব পাচার, অর্থ পাচার, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান এবং সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে।
সামুদ্রিক নিরাপত্তায় জোর
তিনি বলেন, বঙ্গোপসাগর উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সামুদ্রিক অপরাধ, অবৈধ মাছ ধরা, দূষণ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় নিয়মিত মহড়া, সমন্বিত প্রশিক্ষণ এবং নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও সামুদ্রিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা বাড়াতে হবে।
বিমসটেকের ভবিষ্যৎ সহযোগিতা
বিমসটেক সনদের লক্ষ্য একটি নিরাপদ ও স্থিতিশীল অঞ্চল গড়ে তোলা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পারস্পরিক আস্থা, সময়োপযোগী তথ্য বিনিময় এবং সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান বজায় রেখেই আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করতে হবে।
“যোগাযোগ ব্যবস্থা বিমসটেকের ইঞ্জিন হতে পারে, কিন্তু নিরাপত্তাই তার ভিত্তি,” বলেন প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা।
বাংলাদেশ বর্তমানে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে একটি নিরাপদ, স্থিতিস্থাপক ও সমৃদ্ধ বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চল গঠনে সব সদস্য রাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।









