২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি এবার বাংলাদেশের ই-পাসপোর্টে স্থান পাচ্ছে। আন্দোলন, আত্মত্যাগ ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের এ ঐতিহাসিক ঘটনাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সংরক্ষণের অংশ হিসেবে নতুন নকশার ই-পাসপোর্টের ৩০ ও ৩১ নম্বর পৃষ্ঠায় ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪’-এর চিত্র সংযোজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
একইসঙ্গে বাংলাদেশের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, ধর্মীয় স্থাপনা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরতে ই-পাসপোর্ট বুকলেটের বিদ্যমান ছবিগুলো পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে। নকশা পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও সংশোধনের প্রস্তাবে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
রবিবার (১৯ জুলাই) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহিরাগমন-৪ শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত চিঠি বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদফতরের মহাপরিচালকের কাছে পাঠানো হয়েছে। এতে ৪৮ ও ৬৪ পৃষ্ঠার উভয় ধরনের ই-পাসপোর্টে অনুমোদিত ছবি ও প্রতীক নির্ধারিত পৃষ্ঠায় সংযোজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ নূরুজ্জামানের সই করা চিঠিতে বলা হয়েছে, ই-পাসপোর্ট বুকলেটের বিদ্যমান ছবি পুনর্বিন্যাস করে এর নকশা পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও সংশোধনের বিষয়ে সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদনের পর জলছাপ নির্ধারণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পাসপোর্ট অধিদফতরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী, ই-পাসপোর্টের ৩০ ও ৩১ নম্বর পৃষ্ঠায় থাকবে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪-এর চিত্র। এ ছাড়া বিভিন্ন পৃষ্ঠায় পর্যায়ক্রমে জাতীয় ফুল শাপলা, রয়েল বেঙ্গল টাইগার, জাতীয় পাখি দোয়েল, শহীদ মিনার, জাতীয় স্মৃতিসৌধ, জাতীয় সংসদ ভবন, সুপ্রিম কোর্ট, কান্তজিউ মন্দির, শিখা অনির্বাণ ও লালবাগ কেল্লার ছবি থাকবে।
নতুন নকশায় আরও স্থান পেয়েছে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত, টাঙ্গুয়ার হাওর, ইলিশ, নীলগিরি, আহসান মঞ্জিল, জাতীয় ফল কাঁঠাল, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ, আমবাগান, পানাম নগর, ষাটগম্বুজ মসজিদ, পাট (সোনালি আঁশ), চা-বাগান ও সুন্দরবনের ছবি।
এ ছাড়া পাসপোর্টের ৫৪ ও ৫৫ নম্বর পৃষ্ঠায় থাকবে হলি রোজারি চার্চ এবং ৫৬ ও ৫৭ নম্বর পৃষ্ঠায় শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের ‘সংগ্রাম’ চিত্রকর্ম। ৬৪ পৃষ্ঠার পাসপোর্টের শেষদিকে থাকবে পাসপোর্ট-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। পেছনের কভারের ভেতরের অংশে রাখা হবে জাতীয় সংসদ ভবনের ছবি।
নতুন নকশাতেও তথ্যপাতায় আগের মতো ইংরেজিতে লেখা থাকবে—"This Passport is Valid for All Countries of the World Except Israel"। অর্থাৎ, ইসরায়েল ছাড়া বিশ্বের সব দেশের জন্য বাংলাদেশি পাসপোর্টের বৈধতার ঘোষণা বহাল থাকছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, পাসপোর্ট শুধু আন্তর্জাতিক ভ্রমণের দলিল নয়; এটি একটি দেশের ইতিহাস, পরিচয় ও রাষ্ট্রীয় মূল্যবোধেরও প্রতীক। নতুন নকশায় জুলাই আন্দোলনকে অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে সাম্প্রতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে দেশের নাগরিক পরিচয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দলিলে যুক্ত করা হচ্ছে।








