জাতীয় অধ্যাপকরা জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫ অনুযায়ী সরকারের সচিবের বেতনের সমপরিমাণ মাসিক ৭৮ হাজার টাকা সম্মানি পান। তবে তারা সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে বিবেচিত হন না। গবেষণা ও উচ্চশিক্ষায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে দেওয়া এই পদে একই সময়ে সর্বোচ্চ চার জনকে নিয়োগ দেওয়া যায়।
২০২৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ ‘বাংলাদেশ জাতীয় অধ্যাপক নিয়োগ নীতিমালা-২০২৩’ প্রকাশ করে। নীতিমালায় জাতীয় অধ্যাপকদের দায়িত্ব, সুযোগ-সুবিধা, সম্মানি ও নিয়োগসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নির্ধারণ করা হয়েছে।
নীতিমালা অনুযায়ী, জাতীয় অধ্যাপক কোনও সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে বিবেচিত হবেন না। তিনি কোনও গবেষণা সংস্থা বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে নিজের পছন্দের বিষয়ে গবেষণামূলক কাজ করতে পারবেন। তবে গবেষণার বিষয় ও ক্ষেত্র সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগকে অবহিত করতে হবে।
জাতীয় অধ্যাপক যে গবেষণা সংস্থা বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন, সেই প্রতিষ্ঠানে প্রতি বছর তার শিক্ষা ও গবেষণামূলক কাজের অগ্রগতির প্রতিবেদন জমা দেবেন। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ইউজিসির চেয়ারম্যানকে ওই কাজের অগ্রগতি জানাবে এবং গবেষণালব্ধ ফলাফল ইউজিসি ও মাধ্যমিক এবং উচ্চশিক্ষা বিভাগে পাঠাবে। গবেষণার ফল বাস্তবায়নের উদ্যোগও নেওয়া হবে।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, জাতীয় অধ্যাপক ইউজিসির মাধ্যমে মাসিক সম্মানি গ্রহণ করবেন। তিনি যে গবেষণা সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন, সেখান থেকে শিক্ষা ও গবেষণাকাজ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধাও পাবেন।
এছাড়া জাতীয় অধ্যাপক পদে অধিষ্ঠিত থাকাকালে তার প্রকাশিত বই-পুস্তক থেকে প্রাপ্ত সব ধরনের আর্থিক ও অন্যান্য সুবিধার অধিকারী তিনি নিজেই থাকবেন।
সরকারের পূর্বানুমতি নিয়ে জাতীয় অধ্যাপক বিদেশের যেকোনও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে অধ্যাপনা করতে পারবেন বলেও নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে।
সম্মানির বিষয়ে বলা হয়েছে, জাতীয় অধ্যাপকরা সরকারের সচিবের বেতনের সমপরিমাণ মাসিক ৭৮ হাজার টাকা সম্মানি পাবেন। তবে নিয়োগের সময় কেউ যদি অন্য কোনও প্রতিষ্ঠানে চাকরিরত থাকেন, তাহলে তিনি চাকরির বেতন-ভাতা অথবা জাতীয় অধ্যাপক হিসেবে প্রাপ্য সম্মানির মধ্যে যেকোনও একটি গ্রহণ করতে পারবেন।
নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, জাতীয় অধ্যাপক হিসেবে পাঁচ বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হবে। মনোনয়ন কমিটির সুপারিশ এবং রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে দ্বিতীয় মেয়াদে পুনর্নিয়োগের সুযোগ থাকবে। তবে রাষ্ট্রপতি যেকোনও সময় নিয়োগাদেশ বাতিল করতে পারবেন।
জাতীয় অধ্যাপক পদে নিয়োগের জন্য দেশের খ্যাতিমান, উচ্চ যোগ্যতাসম্পন্ন এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গবেষণায় স্বীকৃত অধ্যাপকদের মধ্য থেকে বাছাই করা হবে। সাধারণভাবে ৭৫ বছর বয়স পর্যন্ত অধ্যাপকরা এই পদের জন্য মনোনীত হতে পারবেন। তবে বিশেষ যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তির ক্ষেত্রে মনোনয়ন কমিটি এই বয়সসীমা শিথিল করতে পারবে।









