ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক হবে নতুন বাস্তবতায়, ১৭ বছরের ধারায় নয়: তথ্য উপদেষ্টা 

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট 
১১ আগস্ট ২০২৬, ১৩:১৯আপডেট : ১১ আগস্ট ২০২৬, ১৩:১৯

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নতুন বাস্তবতায় এবং দুই স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের মর্যাদার ভিত্তিতে গড়ে উঠতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, গত ১৭ বছরে যেভাবে ব্যক্তি বা দলকেন্দ্রিক সম্পর্ক তৈরি হয়েছে, সেই ধারায় আর সম্পর্ক এগোনোর সুযোগ নেই। বাংলাদেশের জনগণ ও রাষ্ট্রের স্বার্থকে সামনে রেখেই ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নির্ধারিত হবে। 

একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, সরকারের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতে পারেন। তবে বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। ১৮০ দিন পর মন্ত্রিসভায় রদবদল হবে— এমন কোনও সিদ্ধান্ত বা ইঙ্গিত সরকার দেয়নি বলেও জানিয়েছেন তিনি। 

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। 

জাদুঘরে ফেলানি হত্যার দৃশ্য না থাকা নিয়ে যা বললেন 

জাদুঘরের প্রদর্শনীতে আগে থাকা ফেলানি হত্যাকাণ্ড বা ভারতীয় আধিপত্যবিরোধী কিছু দৃশ্য বর্তমানে দেখা যাচ্ছে না— এমন প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, “একটি জাদুঘরে কী কী প্রদর্শিত হবে, তা নিয়ে বিতর্ক থাকবেই। কারণ প্রত্যেকের দেখার দৃষ্টিভঙ্গি আলাদা।”  

তিনি বলেন, “সীমান্ত হত্যা বাংলাদেশের জন্য দীর্ঘদিনের একটি বাস্তবতা। এটি শুধু একটি নির্দিষ্ট সরকারের সময়ের ঘটনা নয়। এখনও সীমান্ত হত্যার ঘটনা ঘটছে।”  

তার ভাষায়, “জাদুঘরের মূল উদ্দেশ্য ছিল শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের শাসনামলে কীভাবে একটি ‘মাফিয়া তন্ত্র’ তৈরি হয়েছিল, তার রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় কাঠামো তুলে ধরা।”  

তিনি বলেন, “নিচতলায় সেই কাঠামো তৈরির প্রক্রিয়া তুলে ধরার চেষ্টা হয়েছে। আর ওপরের অংশে দেখানো হয়েছে কীভাবে শেখ হাসিনার সরকারকে রাজনৈতিকভাবে পরাজিত ও ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে।” তিনি স্বীকার করেন, প্রদর্শনীর কিছু অংশে পরিবর্তন এসেছে।  

১৮০ দিনে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতে পারেন প্রধানমন্ত্রী 

সরকারের ১৮০ দিন পূর্তিতে প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন কিনা— এমন প্রশ্নে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, এ ধরনের সম্ভাবনা রয়েছে।  

তিনি বলেন, “১৮০ দিন উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী জাতিকে অ্যাড্রেস করবেন— এরকম একটা সম্ভাবনা আছে। সম্ভাবনাটা বেশিই। তবে এখনও সবকিছু চূড়ান্ত হয়নি।” সরকারের ছয় মাসের কর্মকাণ্ড নিয়েও মূল্যায়ন চলছে বলে জানান তিনি। 

তার মতে, “১৮০ দিনকে শুধু একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা হিসেবে দেখার চেয়ে সরকার কী কী কাজ করেছে এবং কোন কোন ক্ষেত্রে আরও কাজ করা প্রয়োজন—সেটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।”  

মন্ত্রিসভার রদবদল নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেই 

১৮০ দিন পূর্তির পর মন্ত্রিসভায় রদবদলের সম্ভাবনা নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর প্রসঙ্গে জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে এমন কোনও সিদ্ধান্ত বা ইঙ্গিত দেওয়া হয়নি। তবে মন্ত্রী ও মন্ত্রণালয়গুলোর কর্মদক্ষতা নিয়মিত মূল্যায়ন করবেন প্রধানমন্ত্রী। 

তিনি বলেন, “এটা ১৮০ দিন, ৩৬৫ দিন— এভাবে দেখার বিষয় নয়। প্রধানমন্ত্রী নিশ্চয়ই মন্ত্রী এবং মন্ত্রণালয়গুলোর পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করবেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।” প্রয়োজনে দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের মতো সিদ্ধান্তও হতে পারে বলে জানান তিনি। 

কোনও কোনও মন্ত্রীর কাছে একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থাকলে ভবিষ্যতে সেখানে পরিবর্তন আসতে পারে কিনা— এমন আলোচনা বাইরে রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তথ্য উপদেষ্টা। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, এসবই সম্ভাব্য বিকল্প। ১৮০ দিন পূর্ণ হলেই বড় ধরনের রদবদল হবে— এমন কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। 

তিনি বলেন, “জনগণকে সর্বোচ্চ সেবা দিতে একটি গণতান্ত্রিক সরকার সব সময়ই তার কার্যক্রম মূল্যায়ন করবে। কোথাও সমস্যা দেখা দিলে প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।” 

শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনের বিষয়ে ভারতকে ‘কঠোর বার্তা’ 

ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন এবং এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান নিয়ে প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, “বাংলাদেশ বিষয়টি ভারতের কাছে অত্যন্ত শক্তভাবে উত্থাপন করেছে।” তিনি বলেন, “সরকারের দেওয়া বিবৃতি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যেই বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে।”  

তিনি বলেন, “শেখ হাসিনাকে ভারতে অবস্থান করে রাজনৈতিক কার্যক্রম বা সংবাদ সম্মেলনের সুযোগ দেওয়া বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগের বিষয়।”  

তিনি বলেন, “যাকে আমরা দেশে এনে বিচার করতে চাই, তিনি সেখানে বসে রীতিমতো সংবাদ সম্মেলন করছেন— এই বিষয়গুলো ভারতকে আন্তরিকভাবে বিবেচনায় নিতে হবে।” 

জাহেদ উর রহমান বলেন, “বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের প্রত্যর্পণসংক্রান্ত চুক্তি রয়েছে। আমরা একজন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে ফেরত চাই। তাকে দেশে এনে আইনের আওতায় আনতে চাই।”  

ভারতের সঙ্গে ভবিষ্যৎ সম্পর্কের অনুকূল পরিবেশ তৈরির দায়িত্ব দিল্লিরও রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তথ্য উপদেষ্টা। 

‘গত ১৭ বছরের মতো ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক চলতে পারে না’ 

জাহেদ উর রহমান বলেন, “বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে একটি ধারণা রয়েছে যে আগের সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকার ক্ষেত্রে ভারতের সঙ্গে বিশেষ ধরনের সম্পর্কের সুবিধা পেয়েছে।”  

তিনি বলেন, “এই জনধারণা এবং অতীতের অভিজ্ঞতার কারণে দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন ভিত্তিতে পুনর্বিন্যাস করা প্রয়োজন।”  

তিনি বলেন, “আগে যেভাবে ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করতে চেয়েছে। কোনও দল বা কোনও ব্যক্তি স্পেসিফিক সম্পর্ক— সেটা না হয়ে জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক হতে হবে।” 

ভারতও এখন জনগণের সঙ্গে সম্পর্কের কথা বলছে উল্লেখ করে তিনি এটিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। 

তিনি বলেন, “বাংলাদেশের সঙ্গে ভবিষ্যৎ সম্পর্ক হতে হবে দুই স্বাধীন, সার্বভৌম ও আত্মমর্যাদাশীল দেশের সম্পর্কের মতো।”  

তিনি বলেন, “ভারতের নিরাপত্তা নিয়ে তাদের বক্তব্য থাকতে পারে, আমাদেরও বক্তব্য থাকতে পারে। এগুলো নিয়ে আলাপ-আলোচনা হবে। কিন্তু দুটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ যেভাবে কথা বলে, সেভাবেই হতে হবে।”  

ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তার ঢাকা সফর ‘স্বাভাবিক এনগেজমেন্ট’ 

ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর একজন শীর্ষ কর্মকর্তার ঢাকা সফর নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, বিষয়টি নিয়ে অপ্রয়োজনীয় জল্পনা তৈরি করা হচ্ছে। 

তিনি জানান, ওই কর্মকর্তা চীন থেকে ঢাকা এসেছেন এবং বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। 

তিনি বলেন, “বিভিন্ন দেশের গোয়েন্দা সংস্থার কাউন্টারপার্টদের মধ্যে এ ধরনের যোগাযোগ স্বাভাবিক।”  

তিনি বলেন, “বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারাও অতীতে ভারত সফর করেছেন।”  

তবে এই ধরনের যোগাযোগ অবশ্যই বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও আত্মমর্যাদার প্রতি সম্মান রেখে হতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। 

তিনি বলেন, “আগে ভারতের কোনও সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে যেভাবে কাজ করে থাকুক, সেই ধরনের অ্যাটিটিউড এখন আর হতে পারবে না।”  

ডা. জাহেদ বলেন, “বাংলাদেশে এখন জনগণের নির্বাচিত সরকার রয়েছে। জনগণ ও রাষ্ট্রের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে কোনও দেশের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরির সুযোগ এই সরকারের নেই।”  

ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ‘রিয়ালাইনমেন্ট’ প্রয়োজন 

জাহেদ উর রহমান বলেন, “বন্ধু পরিবর্তন করা গেলেও প্রতিবেশী পরিবর্তন করা যায় না। ফলে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগ ও এনগেজমেন্ট চলতেই হবে। তবে সেই সম্পর্কের ধরন বদলাতে হবে।”  

তিনি বলেন, “আমি বারবার রিয়ালাইনমেন্টের কথা বলছি। গত ১৭ বছরে যেভাবে হয়েছে, তার বাইরে থেকে সম্পর্ক করতে হবে।” 

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক বক্তব্যেও বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকার সম্পর্কে বাস্তবতা উপলব্ধির কিছু ইঙ্গিত রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। 

ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার বাংলাদেশ সরকারের মনোভাব দিল্লিকে জানাবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন জাহেদ উর রহমান। 

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি 

প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে যাচ্ছেন কিনা— এমন প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আগের বক্তব্যের কথা উল্লেখ করেন। 

তিনি বলেন, “ব্রিকসের একটি অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে নয়, রাষ্ট্রপতিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।”  

তবে নতুন সরকার গঠনের পর ভারতের পক্ষ থেকে পাঠানো অভিনন্দন বার্তায় প্রধানমন্ত্রীকে সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল বলে জানান তিনি। 

ফলে ভবিষ্যতে সফর হতে পারে। তবে ব্রিকসকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। 

সরকারি প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন হবে ধাপে ধাপে 

বিগত সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বা রাজনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা এখনও বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান ও দফতরে দায়িত্বে আছেন— এমন অভিযোগের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, শুধু রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে কাউকে সরকারি দায়িত্ব পালনের অযোগ্য ঘোষণা করা যায় না। 

তিনি বলেন, “একটি দেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক চিন্তা ও মতাদর্শের মানুষ সরকারি দায়িত্বে থাকতে পারেন, যদি তারা কোনও অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত না হন।”  

তবে যারা প্রকাশ্যে বিগত সরকারের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত ছিলেন, তাদের বিষয়ে সরকার ধাপে ধাপে ব্যবস্থা নিচ্ছে।  

তিনি বলেন, “নীতিগত অবস্থান হচ্ছে খুব তাড়াহুড়ো না করা। যারা খুব ব্র্যান্ডেড ছিলেন এবং প্রকাশ্যে ওই সরকারের সঙ্গে অ্যালাইড ছিলেন, তাদের ব্যাপারে ধাপে ধাপে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।” তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রতিষ্ঠানগুলোতেও পর্যায়ক্রমে পরিবর্তন হচ্ছে বলে জানান তিনি। 

‘আমিও ১৭ বছরের পরিস্থিতির ঝুঁকি বুঝি’ 

গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন দফতরে এখনও বিগত সরকারের প্রভাব রয়েছে এবং তারা দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে— এক সাংবাদিকের এমন অভিযোগের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকার বিষয়টি খেয়াল করবে।  

নিজের অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “গত জুলাইয়ের দিনগুলোতে কী ঘটেছে এবং তিনি নিজে কী ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন, তা তার জানা আছে।” তিনি বলেন, “ওই ঝুঁকিটা আমি নিজে বুঝি। খুব ভালোভাবে বুঝি।”  

সাকিব দেশে এলে নিরাপত্তা পাবেন 

সাবেক সংসদ সদস্য ও ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান সম্প্রতি রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দেশে এসে তার বিরুদ্ধে থাকা মামলা মোকাবিলা করার আগ্রহ এবং নিরাপত্তার বিষয়টি তুলে ধরেছেন— এ প্রসঙ্গে জাহেদ উর রহমান বলেন, তিনি দেশে এলে আইন অনুযায়ী নিরাপত্তা পাবেন। 

তথ্য উপদেষ্টা জানান, সাকিব যদি দেশে এসে মামলা ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে চান, তাহলে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনও কারণ তিনি দেখেন না। 

তবে সাকিব আল হাসানের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে এ সময় অত্যন্ত কড়া সমালোচনা করেন জাহেদ উর রহমান। 

তিনি বলেন, “ভালো খেলোয়াড় হতে পারেন। কিন্তু তিনি এখনও শেখ হাসিনার সঙ্গে অ্যালাইন হয়ে কথা বলেন।” তার মতে, নিরাপত্তার প্রশ্ন তুলে সরকারের ওপর চাপ তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।  

জাহেদ উর রহমান বলেন, “যে কেউ দেশে এসে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হলে তার সাংবিধানিক ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা হবে।”  

শেখ হাসিনার ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রযোজ্য হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তিনি দেশে এলে পূর্ণ নিরাপত্তা পাবেন এবং বিচারিক প্রক্রিয়ায় তার আইনগত অধিকার নিশ্চিত করা হবে। 

তিনি বলেন, সবচেয়ে ভয়াবহ অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিও তার সাংবিধানিক অধিকার পাবেন। সাকিব আল হাসান হোন বা শেখ হাসিনা— আইনি প্রক্রিয়ায় তাদের অধিকার থাকবে। 

‘আর কোনও ফ্যাসিস্ট বা মাফিয়া শাসন হতে দেওয়া হবে না’ 

জাহেদ উর রহমান বলেন, “বাংলাদেশকে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”  

তিনি বলেন, “আমরা হাসিনার মতো একটি মাফিয়া রেজিম এ দেশে আর দেখতে চাই না। ভবিষ্যতেও কোনও ফ্যাসিস্ট বা মাফিয়া রেজিম হতে দিতে চাই না।” 

সেই কারণেই অভিযুক্ত ব্যক্তি যত বড় অপরাধেই অভিযুক্ত হোন না কেন, তার আইনগত ও সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করার কথা বলেন তিনি। 

দুদক স্বাধীনভাবে কাজ করবে 

সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, দুদক সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান না হলেও আইনের মাধ্যমে গঠিত একটি স্বাধীন কমিশন এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের মতো স্বাধীনভাবে কাজ করার কথা। 

তিনি জানান, বর্তমানে নতুন কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া চলছে এবং শিগগিরই দুদক পুনর্গঠিত হবে বলে সরকার আশা করছে। 

জাহেদ উর রহমান বলেন, “নতুন কমিশন গঠনের পর সরকার তার তদন্ত বা কার্যক্রম থামিয়ে দেওয়ার অবস্থানে থাকবে না। সরকার চায় দুদক এমনভাবে তৈরি হোক, যাতে তারা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে।”  

তিনি আরও বলেন, “শুধু বিগত সরকারের দুর্নীতি নয়, বর্তমান সরকারের সময়েও কেউ দুর্নীতি বা অনিয়মে জড়িয়ে পড়লে দুদক তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেবে— এটাই সরকারের প্রত্যাশা।”  

তিনি বলেন, “এই সরকারের সময়ও কেউ কোনও অনিয়মে জড়িয়ে পড়ছেন কিনা, সেই ব্যাপারেও তারা পদক্ষেপ নেবেন— আমরা সেটাই আশা করি।” 

শিক্ষায় শুধু ফল নয়, মান বাড়ানোর ওপর জোর  

শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে এক প্রশ্নে জাহেদ উর রহমান বলেন, “বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীকে শুধু উচ্চ গ্রেড বা ভালো ফল দেওয়ার প্রবণতা শেষ পর্যন্ত শিক্ষার মান নিশ্চিত করে না।”  

তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় উচ্চ জিপিএ পাওয়া অনেক শিক্ষার্থীর প্রত্যাশিত ফল করতে না পারার উদাহরণ তুলে ধরেন। 

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “শিক্ষার মান বাড়াতে শিক্ষক প্রশিক্ষণ, পাঠ্যক্রমের উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করতে হবে।” একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিজের যোগ্যতায় ফল অর্জনের মানসিকতা তৈরি হওয়াও জরুরি বলে জানান তিনি।  

তার মতে, “শুধু পরীক্ষার ফল বাড়ানো নয়, প্রকৃত শিক্ষাগত সক্ষমতা তৈরি করাই হওয়া উচিত শিক্ষাব্যবস্থার মূল লক্ষ্য।”  

/জেইউ/এসটি/ 
সম্পর্কিত
‘প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি’ 
‘র’ কর্মকর্তার ঢাকা সফর, ‘স্বাভাবিক এনগেজমেন্ট’ বললেন ডা. জাহেদ 
সরকারের ১৮০ দিনে মন্ত্রিসভায় রদবদল, যা বললেন তথ্য উপদেষ্টা
সর্বশেষ খবর
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আসল সংখ্যা নির্ণয় করুন 
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আসল সংখ্যা নির্ণয় করুন 
ক্রীড়া ভাতা পেয়েও ‘খেপ’ কেন? এবার ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি
ক্রীড়া ভাতা পেয়েও ‘খেপ’ কেন? এবার ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি
এক মুঠো বালিতেই ফিরুন ছোটবেলার আনন্দে
এক মুঠো বালিতেই ফিরুন ছোটবেলার আনন্দে
‘প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি’ 
‘প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি’ 
সর্বাধিক পঠিত
সমুদ্রের ৫০০০ মিটার গভীর থেকে তেল-গ্যাস উত্তোলন শুরু চীনের
সমুদ্রের ৫০০০ মিটার গভীর থেকে তেল-গ্যাস উত্তোলন শুরু চীনের
‘ওসি কোথায়?’ প্রশ্নের পর থানাতেই সিআইডি ইন্সপেক্টরকে থাপ্পড়, কৃষকদল নেতা আটক
‘ওসি কোথায়?’ প্রশ্নের পর থানাতেই সিআইডি ইন্সপেক্টরকে থাপ্পড়, কৃষকদল নেতা আটক
এমপির গলায় রামদা ধরে বাড়িসহ সব সম্পত্তি লিখে নিলো কারা?
এমপির গলায় রামদা ধরে বাড়িসহ সব সম্পত্তি লিখে নিলো কারা?
এনটিআরসিএ বাতিল হলে সরকার পতনের ডাক দেওয়া হবে: রাবি শিবির সভাপতি 
এনটিআরসিএ বাতিল হলে সরকার পতনের ডাক দেওয়া হবে: রাবি শিবির সভাপতি 
ব্যাংক খাতে এস আলমের ফেরার পথ চিরতরে বন্ধ হলো
ব্যাংক খাতে এস আলমের ফেরার পথ চিরতরে বন্ধ হলো