৩৩৮টি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর সুযোগ: মন্ত্রণালয়

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
২৮ আগস্ট ২০২৬, ২১:০৭আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০২৬, ২১:০৭

গত ছয় মাস ধরে বাংলাদেশ সরকারের ধারাবাহিক অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে বিশেষ বিবেচনায় মালয়েশিয়া বাংলাদেশের জন্য বিশেষ সুযোগ দিয়েছে। দেশটির মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২৫টি বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সিকে সরাসরি নির্বাচিত করা হয়েছে। বাংলাদেশের অবস্থানকে সম্মান জানিয়ে আরও ৩১২টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে অ্যাসোসিয়েট রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি হিসেবে কর্মী পাঠানোর সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এর পাশাপাশি একমাত্র সরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডও (বোয়েসেল) এ প্রক্রিয়ায় কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে।

বিদ্যমান বহুবিধ নিয়মতান্ত্রিক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও একযোগে বাংলাদেশের ৩৩৮টি রিক্রুটিং এজেন্সির মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে কর্মী পাঠানোর এই সুযোগকে ঐতিহাসিক অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রণালয় এসব তথ্য জানায়।

মন্ত্রণালয় জানায়, রিক্রুটিং এজেন্সি যাচাই-বাছাই করেছে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত উচ্চপর্যায়ের যৌথ কমিটি। অতীতে এ ধরনের স্বচ্ছ ও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে যাচাই-বাছাইয়ের কোনো নজির ছিল না। এ বাছাই প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ সরকারের ন্যূনতম কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

আগামী ৩১ ডিসেম্বর বর্তমান সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ শেষ হলে নতুন সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে রিক্রুটিং এজেন্সি অনুমোদনে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা হবে বলে মন্ত্রণালয় আশাবাদ ব্যক্ত করেছে। অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনের অংশ হিসেবে সব রিক্রুটিং এজেন্সিকে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার প্রত্যাশার কথাও জানিয়েছে তারা। তবে চলমান উদ্যোগের ক্ষেত্রে ফ্যাসিবাদের রেখে যাওয়া সীমাবদ্ধতায় নির্বাচিত সরকার আবদ্ধ বলে উল্লেখ করা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।

১৬টি মেডিক্যাল সেন্টার দিয়ে কার্যক্রম শুরুর সিদ্ধান্ত

শ্রমবাজার দ্রুত উন্মুক্ত করার স্বার্থে বাংলাদেশ সরকার বিদ্যমান মেডিক্যাল সেন্টারগুলো পরিবর্তনের অনুরোধ জানিয়েছিল। তবে মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ প্রতিনিধি দল সরেজমিনে বাংলাদেশে এসে প্রতিটি মেডিক্যাল সেন্টার পরিদর্শনের পর চূড়ান্ত অনুমোদন দেবে। এ প্রক্রিয়ায় সময়ের প্রয়োজন হওয়ায় মালয়েশিয়া সরকার অনুমোদিত বিদ্যমান তালিকা থেকে বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে ফ্যাসিবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব বিতর্কিত মেডিক্যাল সেন্টার বাদ দিয়ে অবশিষ্ট ১৬টি মেডিক্যাল সেন্টারের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তবে শ্রমবাজার চালুর পাশাপাশি যত দ্রুত সম্ভব মালয়েশিয়ার তিন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে এসে নতুন নীতিমালার আলোকে যাচাই-বাছাই করে মেডিক্যাল সেন্টারের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়নের কাজ শুরু করবে।

২৫টি এজেন্সি মালয়েশিয়ার সিদ্ধান্ত

মালয়েশিয়া সরকারের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কর্মী সরবরাহকারী প্রধান পাঁচটি দেশের মধ্যে নেপাল ও বাংলাদেশের জন্য ২৫টি করে এবং ভারত, পাকিস্তান ও মিয়ানমারের জন্য ১০টি করে রিক্রুটিং এজেন্সির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এটি মালয়েশিয়া সরকারের সার্বভৌম সিদ্ধান্ত।

বাংলাদেশের জন্য অনুমোদিত ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সি বিগত অন্তর্বর্তী সরকার প্রণীত ৪২৩টি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকার অন্তর্ভুক্ত। এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সরকার অনুরোধ জানিয়েছে, ওই ৪২৩টি এজেন্সির মধ্যে যারা ফ্যাসিবাদী সরকারের সময় বিভিন্নভাবে সুবিধাভোগী এবং সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের বাদ দিয়ে অবশিষ্ট সবাইকে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর সুযোগ দেওয়া হয়।

কর্মীদের নিরাপত্তায় নজর

কর্মীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিমানবন্দরে অতীতের সব ধরনের হয়রানি বন্ধ করা, সরাসরি সংশ্লিষ্ট কোম্পানিতে কাজে যোগদান এবং মালয়েশিয়ার শ্রম আইন অনুযায়ী নিয়মিত বেতন-ভাতা, আবাসন ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।

অভিবাসন সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ২৪ ঘণ্টার মনিটরিং সেল ও হেল্পডেস্ক স্থাপন করা হবে।

আর্থিক লেনদেন না করার আহ্বান

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্তকরণকে ঘিরে নানামুখী বিভ্রান্তিমূলক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। তাদের ভাষ্য, বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা করে যে প্রক্রিয়ায় মালয়েশিয়ায় জনশক্তি পাঠানোর কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে, সেটি দেশের জন্য বড় অর্জন। এর মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনৈতিক পরিবর্তন, রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি এবং জাতীয় অর্থনীতি আরও সুদৃঢ় হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

রাষ্ট্রীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে পুরো প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ করা এবং অভিবাসন ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে দালাল ও প্রতারক চক্র থেকে সতর্ক থাকার অনুরোধ করা হয়েছে।

ঠিক কোন প্রক্রিয়ায় মালয়েশিয়ায় জনশক্তি পাঠানো শুরু হবে, তার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় যথাসময়ে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানাবে। তাই মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি বা নির্দেশনা জারি না হওয়া পর্যন্ত কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন, মেডিক্যাল টেস্ট করা কিংবা পাসপোর্ট জমা দেওয়া থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

১০ হাজার কর্মী যাবে ‘জিরো কস্টে’

ফ্যাসিবাদী আমলের দুর্নীতি, দুঃশাসন, সিন্ডিকেট ও অনিয়মের কারণে বন্ধ থাকা শ্রমবাজার অগ্রাধিকার দিয়ে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পুনরায় উন্মুক্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

এ বিষয়ে দুই দেশের মন্ত্রী পর্যায়ে একাধিক বৈঠকের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও রাজা সুলতান ইব্রাহিম ইস্কান্দারের সঙ্গে আলোচনা করেছেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে সরাসরি বৈঠক ও আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য শ্রমবাজার উন্মুক্তকরণের সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে বলে দাবি মন্ত্রণালয়ের।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ১৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সি বাছাইয়ের দায়িত্ব এককভাবে মালয়েশিয়া সরকারের ওপর ন্যস্ত করা হয়। এ ধরনের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরকে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে উল্লেখ করেছে মন্ত্রণালয়।

সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত থাকায় মালয়েশিয়া সরকারের আরোপিত শর্ত বাংলাদেশের পক্ষে পরিবর্তন করা সহজ নয়। তবে এ বিষয়ে বর্তমান সরকার মালয়েশিয়া সরকারের সঙ্গে সর্বোচ্চ নেগোসিয়েশনের চেষ্টা করেছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের দাবি, মালয়েশিয়ার আইনি শর্ত ও নীতিমালার সঙ্গে সর্বোচ্চ সমন্বয় রেখে বাংলাদেশের স্বার্থ এবং রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের কল্যাণ ও সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে সরকার।

বর্তমান সরকারের প্রচেষ্টার ফলে শিগগিরই মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের দুয়ার খুলছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

এর মধ্যে বিশেষ অনুরোধে মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ ১০ হাজার কর্মীকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বা ‘জিরো কস্টে’ নেওয়ার বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। বিমান ভাড়াসহ সব ধরনের অভিবাসন ব্যয় ছাড়াই এসব কর্মীর প্রথম বহর সরকারি প্রতিষ্ঠান বোয়েসেলের মাধ্যমে বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর মধ্য দিয়ে পুনরায় শ্রমবাজার চালু হবে।

/ইউএস/
সম্পর্কিত
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলছে, ১০ হাজার কর্মী যাবে ‘জিরো কস্টে’
মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগের তালিকায় এবার ৩৩৮ বাংলাদেশি এজেন্সি
রাশিয়ায় কারখানার আগুনে ১ বাংলাদেশি নিহত
সর্বশেষ খবর
এবার জেল থেকে নোরাকে সুকেশের চিঠি, উঠে এলো জ্যাকুলিনের প্রসঙ্গও
এবার জেল থেকে নোরাকে সুকেশের চিঠি, উঠে এলো জ্যাকুলিনের প্রসঙ্গও
বঙ্গভঙ্গ ঠেকাতে রবীন্দ্রনাথের ‘রাখি’, যেভাবে এক হয়েছিল বাংলা
বঙ্গভঙ্গ ঠেকাতে রবীন্দ্রনাথের ‘রাখি’, যেভাবে এক হয়েছিল বাংলা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যখন উত্তর দিতে পারেন না তখন শাহবাগ-পল্টন নিয়ে আসেন: সারজিস
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যখন উত্তর দিতে পারেন না তখন শাহবাগ-পল্টন নিয়ে আসেন: সারজিস
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলছে, ১০ হাজার কর্মী যাবে ‘জিরো কস্টে’
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলছে, ১০ হাজার কর্মী যাবে ‘জিরো কস্টে’
সর্বাধিক পঠিত
শুটিংয়ে বাধা দেওয়া বাড়িটিই কিনে নিলেন শাহরুখ
শুটিংয়ে বাধা দেওয়া বাড়িটিই কিনে নিলেন শাহরুখ
প্রেম আর লিমেরেন্সের পার্থক্য জানেন?
প্রেম আর লিমেরেন্সের পার্থক্য জানেন?
মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগের তালিকায় এবার ৩৩৮ বাংলাদেশি এজেন্সি
মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগের তালিকায় এবার ৩৩৮ বাংলাদেশি এজেন্সি
জীবিত থাকতেই চল্লিশার আয়োজন করলেন এক ব্যক্তি, যা বললেন মুফতি
জীবিত থাকতেই চল্লিশার আয়োজন করলেন এক ব্যক্তি, যা বললেন মুফতি
ফিফা থেকে সুখবর পেলো আর্জেন্টিনা
ফিফা থেকে সুখবর পেলো আর্জেন্টিনা