দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মূল্যায়নের সময় পুলিশ বাহিনী কী পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছে, সেই প্রেক্ষাপটও বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেন, “২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ব্যাপকভাবে মনোবল হারানো একটি পুলিশ বাহিনীকে নিয়ে কাজ শুরু হয়েছিল এবং সেই আস্থার সংকট পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে এখনও সময় লাগছে।”
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সরকারের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
জাহেদ উর রহমান বলেন, “শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশের বহু থানা কার্যত খালি হয়ে যায় এবং পুলিশের সাংগঠনিক ও মানসিক অবস্থায় বড় ধরনের ধাক্কা লাগে। পরবর্তী সময়ে সেই পুলিশ সদস্যদেরই আবার দায়িত্বে ফিরিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার চেষ্টা করা হয়েছে।”
তিনি বলেন, “আমরা কোন পুলিশ বাহিনী নিয়ে কাজ করছি, সেটা একটু খেয়াল রাখতে হবে। তাদের কনফিডেন্স ফিরে আসতে সময় লাগবে।”
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের বিভিন্ন ঘটনার উদাহরণ দিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নাটক কিংবা বিভিন্ন কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। নানা দাবিতে দীর্ঘ সময় সড়ক অবরোধের ঘটনাও ছিল।”
তিনি বলেন, “বর্তমান সরকার সেই পরিস্থিতি থেকে ধীরে ধীরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করার চেষ্টা করছে। তবে দেশে অপরাধ হচ্ছে না— সেটাও অস্বীকার করছি না।”
তিনি বলেন, “একটি অপরাধও যাতে না ঘটে, সেটিই সরকারের লক্ষ্য এবং অপরাধ সংঘটিত হলে সরকারের দায় অস্বীকার করার সুযোগ নেই।”
অপরাধের পরিসংখ্যান প্রসঙ্গে জাহেদ উর রহমান জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের তুলনায় বর্তমান সময়ে হত্যা মামলার সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে। তবে চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মতো কয়েকটি অপরাধে মামলার সংখ্যা কমেছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, “দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাসের মধ্যে পরিস্থিতির পুরোপুরি পরিবর্তন প্রত্যাশা করা বাস্তবসম্মত নয়। তবে সরকার ধীরে ধীরে পুলিশের সক্ষমতা ও মনোবল ফেরানোর পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করার চেষ্টা করছে।”









