ভোলার গ্যাস পাইপলাইনের মাধ্যমে মূল ভূখণ্ডে নিতে হলে প্রায় সাত বছর সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ভোলার গ্যাস স্থানীয়ভাবে ব্যবহার করে সেখানে শিল্পকারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি গ্যাস ব্যবহার করে একটি সার কারখানা এবং ৫০০ মেগাওয়াটের আরেকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সুলতানা আহমেদের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সুলতানা আহমেদ জানতে চান, শিল্প ও রফতানি খাতে নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন ধরে রাখতে ভোলার গ্যাস মূল ভূখণ্ডের পাইপলাইনের সঙ্গে যুক্ত করা কিংবা জরুরি ভিত্তিতে ভাসমান প্রযুক্তির মাধ্যমে সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারের কোনো ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ কর্মসূচি বা পরিকল্পনা রয়েছে কিনা।
জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভোলার যে গ্যাসটি আছে, এই গ্যাসটিকে যদি আমরা পাইপলাইনের মাধ্যমে মেইনল্যান্ডে নিয়ে আসতে চাই, তাহলে সেই পরিকল্পনা যদি আমরা গ্রহণ করি, অন্তত সাত বছরের মতো সময় লাগবে।’
তিনি বলেন, সরকার ভোলায় শিল্পকারখানা স্থাপনের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে চায়। ইতোমধ্যে কিছু শিল্প উদ্যোক্তা সেখানে গ্যাসনির্ভর শিল্প স্থাপনের চেষ্টা করছেন। এর ফলে সেখানে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতির আকারও বৃদ্ধি পাবে।
ভোলার গ্যাস দেশের মানুষের স্বার্থে সঠিকভাবে ব্যবহারের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেখানে একটি সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে ৫০০ মেগাওয়াটের আরেকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।
এরপর মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা সম্পূরক প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করে তার পরিকল্পনা ও বার্তা তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া এবং অন্যায়-অবিচার ও দুর্নীতি প্রতিরোধে সরকারের করণীয় জানতে চান।
জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মাননীয় সংসদ সদস্য, আপনার প্রশ্নটি আমার কাছে খুব পরিষ্কার নয়। আপনি যদি আমাকে একটু নোটিশ দেন, আমি প্রপারলি প্রিপেয়ারড হয়ে আপনার এই প্রশ্নের উত্তর দিব।’
তিনি বলেন, দেশ ও রাষ্ট্র পুনর্গঠনের যে পরিকল্পনা, তা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল নির্বাচনের আগে তাদের নির্বাচনি ম্যানিফেস্টোতে তুলে ধরেছিল। সরকার গঠনের পর রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পাওয়ায় আরও বেশি তথ্য পাওয়ার কারণে পরিকল্পনাগুলোকে বিস্তারিতভাবে বাস্তবায়ন ও আরও উন্নত করার সুযোগ হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এত ডিটেইল পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হলে কিছুদিন সময় প্রয়োজন হয়।’ শিক্ষা, শিল্প ও চিকিৎসাসহ সব ক্ষেত্রেই পরিকল্পনা গ্রহণ করে তা বাস্তবায়নে সময় প্রয়োজন বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘পরিকল্পনা আমরা আগে গ্রহণ করছি, এখন আরও ডিটেইল, আরও ইমপ্রুভ করছি। স্বাভাবিকভাবেই যখন আমরা কাজগুলো শুরু করবো, তখন নিশ্চয়ই দেশের সব পর্যায়ের মানুষ ধীরে ধীরে বিষয়গুলো জানতে পারবেন।’









