ডেঙ্গু প্রতিরোধে ১২ সেপ্টেম্বর থেকে তিন মাসের জাতীয় পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান ২০২৬’ নামে জাতীয় কর্মসূচি পরিচালনা করা হবে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ৩০০ বিধিতে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী ৩০০ বিধিতে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, ‘১ জানুয়ারি থেকে গতকাল পর্যন্ত সারা দেশে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছিল ৪৫ হাজার ৪৭৫ জন। এর মধ্যে মৃত্যুবরণ করেছে ১৩০ জন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৩ হাজার ২১৮ জন।’
তিনি বলেন, ‘গতকাল এই বিষয়টি আমলে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্তদের নিয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও চিকিৎসা নিয়ে যৌথভাবে একটি মিটিং করেছেন। সেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, ডেঙ্গুর সবচেয়ে এলার্মিং সময় হচ্ছে সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর; এই তিন মাস।’
মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যে রোগী এ পর্যন্ত পেয়েছি, তার দ্বিগুণ সংখ্যা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এই তিন মাসে। যদি আমরা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে না পারি, সেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার লক্ষ্যেই প্রধানমন্ত্রী আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিন মাসের জন্য ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান ২০২৬’ নামে জাতীয় কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন।’
মীর শাহে আলম বলেন, ‘এই কর্মসূচি আগামী ১২ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী নিজে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় উপস্থিত থেকে উদ্বোধন করবেন। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন যেমন রেড ক্রিসেন্টের সদস্য, স্কাউট, রোভার স্কাউট, বিএনসিসির সদস্য, গার্লস গাইড, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের স্বেচ্ছাসেবক দল, বিডি ক্লিনসহ এ ধরনের যেসব স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আছে, তাদের সমন্বয়ে সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সপ্তাহের প্রত্যেক শনিবার সারা দেশে এই কার্যক্রম জাতীয়ভাবে বা সরকারিভাবে পরিচালিত হবে। আর প্রতিদিন সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলো এই কার্যক্রম পরিচালনা করবে।’
তিনি বলেন, ‘১২ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী যখন যে সময় এই কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন, একই সময়ে আরও ১১টি সিটি করপোরেশন, ৩৩০টি পৌরসভা, ৬৪টি জেলা প্রশাসন এবং ৫০৩টি উপজেলা প্রশাসন ওই একই সময়ে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের স্কাউট, রেড ক্রিসেন্ট, বিএনসিসি, গার্লস গাইড ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার কর্মীদের নিয়ে উপস্থিত থেকে এই কর্মসূচিতে একসঙ্গে অংশগ্রহণ করবে।’
শাহে আলম বলেন, ‘সিলেট, রাজশাহী এবং রংপুর ছাড়া বাকি বিভাগগুলোতে এলার্মিং অবস্থায় রয়েছে এই রোগ। আমরা রোগীদের শনাক্ত করে তাদের ঠিকানা অনুযায়ী স্বাস্থ্য বিভাগ এবং স্থানীয় সরকার বিভাগ যৌথভাবে আইডেন্টিফাই করেছি। খুলনা, বরিশাল, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ; এই বিভাগগুলোতে আক্রান্ত রোগীর পরিমাণ অনেক বেশি এবং এডিস মশার লার্ভার উৎপত্তিস্থলও অনেক বেশি।’
এ সময় সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমি মাননীয় সহকর্মীদের, সংসদ সদস্যদের অনুরোধ করব, আপনারা একটু মানুষের, জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে, মানুষকে সচেতনতা বৃদ্ধির ব্যাপারে একটু কাজ করবেন।’
‘সবাইকে অনুরোধ করবেন, যাতে বাড়ির আশপাশে, আঙিনা, ছাদ; যেখানে ময়লা-আবর্জনা ও পানি আটকে থাকতে পারে, এডিস মশার লার্ভার উৎপত্তিস্থল যেগুলো রয়েছে বা এডিস মশা যেখান থেকে জন্ম নিতে পারে, এই জায়গাগুলো আমরা নিজেরাই এবং সবাই মিলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে পারি’, যোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘এলার্মিং জেলাগুলোতে, উপজেলাগুলোতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন, যেটি এর আগে ছিল না। একদম উপজেলা লেভেলের হাসপাতালগুলোতে পাঁচটি শয্যা ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদাভাবে রেডি রাখতে বলা হয়েছে।’
ডেঙ্গু পরীক্ষার কীট ও স্যালাইন পর্যাপ্ত রয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ডেঙ্গু পরীক্ষার কীট এবং স্যালাইন সরকারের হাতে পর্যাপ্ত রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমি শুধু আরেকবার আপনাদের সঙ্গে বিনয়ের সঙ্গে অনুরোধ করব, আগামী শনিবার থেকে প্রত্যেক হাসপাতালে মশারির ব্যবস্থাও করা হবে, যাতে ওই রোগী থেকে নতুন মশা আবার কামড় দিয়ে আরেক জায়গায় গিয়ে নতুন করে রোগী তৈরি করতে না পারে।’
মীর শাহে আলম বলেন, ‘আমি শুধু সহকর্মীদের এবং সংসদ সদস্যদের অনুরোধ করব, আমাদের এই কর্মসূচিতে আপনারা সবাই সহায়তা করবেন। যাতে সবাই মিলে এই সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর মাস; ডেঙ্গু হওয়ার যে মুখ্য সময়টুকু আমরা যেন দেশটাকে একটু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রেখে, আশপাশে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রেখে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারি এবং এই রোগীর সংখ্যা যাতে আমরা কমিয়ে আনতে পারি।’









