জাতীয় সংসদে বিতর্কের সময় কোনও সদস্য গালাগালি, অশালীন, অসংসদীয়, মানহানিকর বা অমর্যাদাকর শব্দ ব্যবহার করলে তা কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে স্পিকারের। এ বিষয়ে জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি-বিধির ৩০৭ বিধিতে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। বিধিটিতে বলা হয়েছে, বিতর্কে এমন কোনও শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে বলে স্পিকারের অভিমত হলে, যা ‘মানহানিকর’, ‘অশালীন’, ‘অসংসদীয়’ বা ‘অমর্যাদাকর’, তিনি তার বিবেচনা অনুযায়ী ওই শব্দগুলো সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারেন।
পরের ৩০৮ বিধিতে বলা হয়েছে, বাদ দেওয়া অংশ মুদ্রিত কার্যবিবরণীতে তারকাচিহ্ন দিয়ে চিহ্নিত থাকবে এবং সেখানে ‘এক্সপাঞ্জড অ্যাজ অর্ডার্ড বাই দ্য চেয়ার’ উল্লেখ করা হবে।
অর্থাৎ সংসদে কোনও সদস্যের বক্তব্যে গালাগালি বা অশালীন ভাষা থাকলে প্রথম পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট শব্দ বা অংশ ‘এক্সপাঞ্জ’ করার ক্ষমতা স্পিকারের রয়েছে। তবে কোনও সদস্যের আচরণ সংসদের শৃঙ্খলা বা কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটানোর পর্যায়ে গেলে স্পিকারের অন্যান্য ক্ষমতা ও সংশ্লিষ্ট বিধানও প্রযোজ্য হতে পারে।
স্পিকারের নজরে না এলে বা সংসদের বাইরে হলে
সংসদের ভেতরে কোনও সদস্যকে গালাগালি বা অশালীন ভাষায় আক্রমণ করা হলেও বিষয়টি স্পিকারের নজরে না এলে সরাসরি এক্সপাঞ্জ করার সুযোগ থাকে না। আবার সংসদের বাইরে সংঘটিত গালাগালির ক্ষেত্রে ৩০৭ বিধান সরাসরি প্রযোজ্য নয়। এমন পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য অভিযোগ উত্থাপন বা অন্য উপায়ে বিষয়টি স্পিকারের নজরে আনতে পারেন। এ ক্ষেত্রে ঘটনার প্রমাণ ও সংসদীয় রেকর্ড গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
এর আগে গত ২ এপ্রিল জাতীয় সংসদ এলাকায় সংসদ সদস্যকে ‘জঙ্গি’ বলে সম্বোধনের অভিযোগ উঠেছিল। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের সপ্তম কার্যদিবসে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাইদউদ্দীন আহমাদ হানজালা জানান, ২৩ মার্চ স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সহধর্মিণীর জানাজায় অংশ নিতে সংসদ ভবনে প্রবেশের সময় পেছন থেকে কেউ তাকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘ওই যে জঙ্গি এমপি যাচ্ছে’। পরে এ-সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
হানজালা সংসদ ভবনের সিসি ফুটেজ দেখে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সংসদের সার্জেন্ট অ্যাট আর্মসকে নির্দেশ দেওয়ার জন্য স্পিকারের কাছে অনুরোধ করেন। জবাবে স্পিকার বিষয়টিকে ‘অত্যন্ত দুঃখজনক’ উল্লেখ করে বিশেষ অধিকার প্রশ্নে নোটিশ দেওয়ার পরামর্শ দেন এবং বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দেন।
ফলে সংসদ সদস্যকে গালাগালি বা অপমানজনক ভাষায় সম্বোধনের ঘটনায় প্রতিকারের পথ নির্ভর করবে ঘটনাটি কোথায় ঘটেছে, সংসদীয় কার্যক্রমের অংশ হিসেবে তা রেকর্ড হয়েছে কি না এবং কী ধরনের প্রমাণ রয়েছে—তার ওপর।









