সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, ২০২৯ সালের জুনের মধ্যে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার কাজ সম্পন্ন করে সড়কটি জনগণের জন্য উন্মুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্যে প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণ, নির্মাণকাজসহ সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগ আরও দ্রুত, নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন হবে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার শশই এলাকায় সাসেক ঢাকা-সিলেট করিডোর সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের নির্মাণকাজের অগ্রগতি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সড়ক ও সেতু মন্ত্রী বলেন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় মহাসড়ক। এই মহাসড়ককে ছয় লেনে উন্নীত করার প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। গত ছয় মাসে প্রয়োজনীয় উদ্যোগের ফলে প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণের অগ্রগতি প্রায় ৫৬ শতাংশে পৌঁছেছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে শতভাগ ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন করার আশা প্রকাশ করেন তিনি। এসময় তিনি আরও বলেন, প্রকল্পের ভৌত কাজের অগ্রগতিও এগিয়ে যাচ্ছে। প্রকল্পের ১৩টি প্যাকেজের মধ্যে ৮টি প্যাকেজের কাজ সন্তোষজনকভাবে এগিয়ে চলছে, তবে ৫টি প্যাকেজের কাজের অগ্রগতি প্রত্যাশিত পর্যায়ে নেই। যেসব ক্ষেত্রে কাজের অগ্রগতিতে বিচ্যুতি রয়েছে, সেসব সমস্যা চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের মাধ্যমে প্রকল্পের কাজ আরও গতিশীল করা হচ্ছে।
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী আরও বলেন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের উন্নয়ন শুধু একটি সড়ক অবকাঠামো প্রকল্প নয়— এটি দেশের অর্থনীতি, বাণিজ্য, পর্যটন ও আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগ আরও দ্রুত, নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন হবে। একইসঙ্গে এ অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে। এসময় তিনি আরও বলেন, নির্মাণকাজ চলমান থাকায় মহাসড়কের কিছু অংশে সাময়িকভাবে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে। তবে প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি জনগণের চলাচলে ভোগান্তি কমাতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও সড়ক মন্ত্রী প্রকল্পের নির্মাণকাজে গুণগতমান নিশ্চিত, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন এবং সড়ক নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশনা দেন।
তিনি বলেন, প্রকল্পের যেসব অংশে কাজের গতি কম রয়েছে, সেসব অংশে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে কাজের গতি বাড়াতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
উল্লেখ্য, দিনব্যাপী সফরে সড়ক ও সেতু মন্ত্রী সাসেক ঢাকা-সিলেট করিডোর সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের কাঁচপুর-নরসিংদী অংশ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া অংশ এবং হবিগঞ্জ অংশ পরিদর্শন করেন। প্রকল্পের বিভিন্ন অংশ সরেজমিনে পরিদর্শনের মাধ্যমে কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন তিনি। এসময় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক সহ প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা এবং নির্মাণকাজে নিয়োজিত সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।









