জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, আগামী তিন মাসের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে কিশোর গ্যাং উচ্ছেদ হবে। শুক্রবার (২ অক্টোবর) তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (এফডিসি)আয়োজিত ‘কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে রাজনৈতিক সদিচ্ছার চেয়ে সামাজিক আন্দোলন অধিক কার্যকর’ শীর্ষক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় একথা বলেন।
নূরুল ইসলাম মনি বলেন, কিশোররা স্কুলে যাবে, পড়ালেখা করবে, কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা শিখবে, দক্ষ মানুষ হবে, তারা অস্ত্র চাপাতি নিয়ে ঘুরবে না। তিনি বলেন, আজকের কিশোর তরুণরাই আগামী দিনের কাণ্ডারী। কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে পরিবার সমাজ এবং রাষ্ট্রকে একসাথে কাজ করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এক্ষেত্রে রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং সামাজিক আন্দোলনের যৌথ সমন্বয় প্রয়োজন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নিয়ন্ত্রিত ব্যবহারে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সম্প্রতি জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগের প্রশ্নে হুইপ বলেন, সরকার এর মাধ্যমে সকলকে কঠোর এবং কঠিন বার্তা দিচ্ছে। আমরা স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহির সাথে কাজ করতে চাই। আমরা শুরু করেছি ঘর থেকে। আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকতে চাই এবং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মোতাবেক সত্যিকার অর্থেই জনগণের কল্যাণে কাজ করতে চাই।
যেকোনও নেতিবাচক ঘটনায় সরকারের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা ভবিষ্যতে আর মেনে নেওয়া হবে না মন্তব্য করে চিফ হুইপ বলেন, আমরা জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে এসেছি এবং জনগণের কল্যাণে কাজ করছি। আমরা একটা ভঙ্গুর দেশ পেয়েছি উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের কাজ করার সুযোগ দেন। সুফল পেতে যৌক্তিক সময় লাগবে।
তিনি বলেন, সরকার যদি শক্তিশালী না হয় তাহলে রাষ্ট্রব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ে। সরকার ব্যর্থ হলে সেই দায় আমাদের। দায় চাপানোর রাজনীতি আমরা করি না। বিভিন্নভাবে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কুচক্রী মহল সরকারকে বিব্রত করার চেষ্টা করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব অপশক্তির হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।
উল্লেখ্য, বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি। প্রতিযোগিতায় সরকারি দল হিসেবে সেন্ট যোসেফ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং বিরোধী দল হিসেবে মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের বিতার্কিকরা অংশগ্রহণ করে। বিতর্ক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয় মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।