শিক্ষকদের কল্যাণ ও শিক্ষাব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়নে বহুমুখী পরিকল্পনা নিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি বলেন, ‘শিক্ষকদের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক টিচার-এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম সম্প্রসারণ, ইন্ডাস্ট্রি ও একাডেমিয়ার যোগসূত্র স্থাপন এবং রাষ্ট্রীয় নীতি প্রণয়নে শিক্ষকদের অভিজ্ঞতা ও মেধার সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করতে সরকার বদ্ধপরিকর।’
সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিশ্ব শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মাহদী আমিন বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক একটি রাষ্ট্রব্যবস্থায় শিক্ষকেরা এখানে সমবেত হয়েছেন। আপনাদের অনেকের মাঝেই রয়েছে বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রতিটি মুক্তিসংগ্রামের সাথে এক বিশাল, সাহসী ও দেশপ্রেমিক ভূমিকা। আমরা মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ, ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, বিগত ১৬ বছর ধরে চলা ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াই এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান-এর প্রতিটি ক্ষেত্রে দেখেছি শিক্ষকদের একটি বিশাল অংশ কীভাবে দেশের পক্ষে, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের পক্ষে এবং সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলেন।’
তিনি বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত সৌভাগ্যবান যে, প্রধানমন্ত্রী নিজেই অত্যন্ত শিক্ষানুরাগী একজন সরকার প্রধান। আমরা যদি লক্ষ্য করি, বছরের পর বছর এবং দশকের পর দশক ধরে রাষ্ট্র ও দল পরিচালনার বাইরেও ব্যক্তিগতভাবে তার উদ্যোগে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন এবং ‘সুরভী’-র মাধ্যমে কীভাবে শিক্ষা কার্যক্রমকে গতিশীল করা হয়েছিল।’
তিনি বলেন, ‘কীভাবে লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের ভাগ্যোন্নয়নে ভূমিকা রাখা হয়েছিল। ব্যক্তিগত জীবনের সেই উদ্যোগই আজ রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রতিফলিত হয়েছে দেশের ইতিহাসের এক অভূতপূর্ব শিক্ষাবান্ধব বাজেট প্রণয়নের মাধ্যমে। শিক্ষার প্রতিটি স্তরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কল্যাণে যত দূরদর্শী ও বড় বড় নীতি গৃহীত হয়েছে, তার সবই জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের সময়ে বাস্তবায়িত হয়েছিল। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন প্রণয়ন ও প্রতিষ্ঠা, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা কিংবা শিক্ষার প্রতিটি স্তরে সর্বাধিক সরকারিকরণ সবই ছিল পূর্ববর্তী বিএনপি সরকারের যুগান্তকারী অর্জন।’
মাহদী আমিন বলেন, ‘শিক্ষকদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বড় বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে বেসরকারি শিক্ষকদের অধিকার সুরক্ষায় এমপিওভুক্তি নিশ্চিতকরণ, শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা আনতে এনটিআরসিএ চালু করা কিংবা শিক্ষক কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসর সুবিধা বোর্ড গঠন।যার প্রতিটিই শুরু হয়েছিল বিএনপির হাত ধরে।
‘সেই ধারাবাহিকতায় আমরা দেখেছি, বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনে উত্তরাধিকারসূত্রে একটি ভঙ্গুর ও ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনৈতিক কাঠামো পাওয়ার পরও প্রধানমন্ত্রী শিক্ষকদের স্বার্থ সুরক্ষাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছেন। ফ্যাসিবাদী সরকারের দুর্নীতি, দুঃশাসন ও লুটপাটের কারণে শিক্ষকদের অবসর ও কল্যাণ সুবিধার যে টাকা বছরের পর বছর বকেয়া পড়েছিল, দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ছয় মাসের মাথায় প্রধানমন্ত্রী প্রাথমিক বরাদ্দ হিসেবে ২ হাজার কোটি টাকা নিশ্চিত করে শিক্ষকদের ন্যায্য পাওনা তাদের হাতে তুলে দিয়েছেন।’
তিনি বলেন, ‘আগে জাতীয় অনুষ্ঠানে প্রতি বছর মাত্র ১২ জন শিক্ষককে সম্মাননা দেওয়া হতো। প্রধানমন্ত্রী যখন জানতে পারলেন এত বিপুল সংখ্যক শিক্ষকের মধ্য থেকে মাত্র ১২ জনকে সম্মাননা দেওয়া হয়, তিনি তাৎক্ষণিকভাবে তা পরিবর্তনের নির্দেশনা দেন। তারই নির্দেশনায় আজ আমরা শতাধিক শিক্ষককে সম্মাননা দিতে পেরেছি। প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগেই শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়ন ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে একটি সুনির্দিষ্ট স্ট্যান্ডার্ডাইজড টিচিং ম্যানুয়াল প্রণয়নের কাজ চলছে। সময়ের চেয়ে এগিয়ে থাকা পদক্ষেপ হিসেবে আমরা ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি চালু করতে যাচ্ছি, যা ইতোমধ্যে দেশে ও বিদেশে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে।’
মাহদী আমিন জানান, শিক্ষা ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর যে দূরদর্শী রূপরেখা রয়েছে, তার আওতায় আমরা নতুন নতুন পাঠ্যবিষয় অন্তর্ভুক্ত করছি, যার মধ্যে রয়েছে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা, লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস, কারিগরি শিক্ষা, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি। এতে করে প্রতিটি ক্ষেত্রে নতুন নতুন শিক্ষকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং শিক্ষকদের কর্মদক্ষতা আরও বিকশিত হবে।