জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক রাজীব মীরকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করার দাবি জানিয়েছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট জবি শাখা। কয়েকজন ছাত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার (১৮ এপ্রিল) থেকে রাজীব মীরকে বিভাগটির মাস্টার্সের ক্লাস নেওয়া ও সব একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যহতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
মঙ্গলবার (১৯ এপ্রিল) জবি ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি মেহরাব আজাদ ও সাধারণ সম্পাদক কিশোর কুমার সরকার এক যৌথ বিবৃতিতে এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
বিবৃতিতে তারা বলেন, ‘সারাদেশে যখন তনু হত্যাকাণ্ডসহ নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে আন্দোলন হচ্ছে তখন সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের অনৈতিক প্রস্তাবের অভিযোগ ও হুমকি আমাদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। মুক্ত জ্ঞান চর্চার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে শিক্ষকের নৈতিক স্খলন আমাদের ব্যথিত করেছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি।
ছাত্রীদের অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়ায় আগের কর্মস্থল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হলেও রাজীব মীরকে ছাত্রীরা অবরুদ্ধ করে রেখেছিল বলে পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয়। ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে তার বিরুদ্ধে ছাত্রদলকে মদদ দেওয়ার অভিযোগ ওঠেছিল।
আরও পড়ুন- স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধেশ্বরী ক্যাম্পাস অবৈধ
বিবৃতিতে রাজীব মীরের অতীতের অনৈতিক কার্যক্রমের প্রসঙ্গ তুলে বলা হয়, ২০০৪ সালে চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীরা তার বিরুদ্ধে অনৈতিক প্রস্তাবের অভিযোগ করেছিলেন। তার বর্তমান কর্মস্থল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত ক্লাস না করা, ছাত্রীদের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কে জড়ানো, জঙ্গিবাদের মদদ দেওয়াসহ নানা অভিযোগ এনে ২০১৪ সালের ৬ এপ্রিল সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাজীব মীরকে অপসারণ করার দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি দিয়েছিলেন। ফলে আমরা অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে আমরা তার স্থায়ী বহিষ্কারসহ আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি করছি।
তবে এ ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার হবে কিনা তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করা হয়েছে বিবৃতিতে। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে এর আগেও কিছু শিক্ষকের নামে ছাত্রী লাঞ্ছনার অভিযোগ এসেছে। প্রশাসন তাদের প্রতি নমনীয় মনোভাব পোষণ করেছে। আমরা চাই এ ঘটনা যাতে কোনওভাবে আড়াল হতে না পারে।’
বিবৃতিতে তারা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলারও আহ্বান জানান।
আরও পড়ুন- ইন্টারনেটকেন্দ্রিক অপরাধ শহরের চেয়ে গ্রামে বেশি
/আরএআর/এফএস/








