ধর্ম বা বিশ্বাসের স্বাধীনতা এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি জোরদারে জাতীয় সংসদে একটি পার্লামেন্টারি ককাস গঠনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে এ বিষয়ে প্রস্তাব দেন চার্চ অব ইংল্যান্ডের ফরেন পলিসি অ্যাডভাইজার ড. চার্লস রিড। জাতীয় সংসদ ভবনে ডেপুটি স্পিকারের কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাৎকালে ড. চার্লস রিড ও ব্রিটিশ হাইকমিশনের প্রতিনিধিরা সম্প্রতি বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত দুর্গাপূজায় সরকারের সহযোগিতা ও নিরাপত্তাব্যবস্থার প্রশংসা করেন। তারা বলেন, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপনে সরকারের উদ্যোগ প্রশংসনীয়। এ ধরনের উদ্যোগ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিবেশ সুদৃঢ় করে।
তারা ধর্ম বা বিশ্বাসের স্বাধীনতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহনশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতি জোরদারে সংসদীয় পর্যায়ে কার্যকর ভূমিকা রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেন। এ লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে ‘ধর্ম বা বিশ্বাসের স্বাধীনতা বিষয়ক পার্লামেন্টারি ককাস’ গঠনের বিষয়ে ডেপুটি স্পিকারের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
জবাবে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। সব ধর্মের মানুষ এখানে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব উদযাপন করেন। এ দেশে সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু বলে কোনও বিভাজন নেই। সংবিধান প্রত্যেক নাগরিকের ধর্ম পালনের স্বাধীনতা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করেছে। সব ধর্ম ও বিশ্বাসের মানুষ এ দেশের সমান নাগরিক অধিকার পায়।
তিনি বলেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহনশীলতা সমুন্নত রাখতে সংসদ সদস্যদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ধর্মীয় বিশ্বাস ও স্বাধীনতা বিষয়ে পার্লামেন্টারি ককাস গঠন এ ক্ষেত্রে একটি ভালো উদ্যোগ হতে পারে। এর মাধ্যমে সংসদ সদস্যদের মধ্যে বিষয়ভিত্তিক আলোচনা, অভিজ্ঞতা বিনিময় ও নীতি প্রণয়নে সহায়তা পাওয়া যাবে।
ডেপুটি স্পিকার আরও বলেন, বর্তমান সংসদে সব সংসদ সদস্যের মতামত ও কণ্ঠস্বরকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এটি বর্তমান সংসদের একটি গুরুত্বপূর্ণ চর্চা, যা অতীতে সেভাবে দেখা যায়নি। সংসদে ভিন্নমত ও বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন গণতান্ত্রিক চর্চাকে সমৃদ্ধ করে।
তিনি বলেন, আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে প্রত্যেক মানুষ শান্তিতে বসবাস করতে পারবেন এবং নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস ও মতাদর্শ স্বাধীনভাবে ধারণ ও পালন করতে পারবেন। সবার অধিকার ও মর্যাদা সমানভাবে সুরক্ষিত থাকবে।
সাক্ষাৎকালে ব্রিটিশ হাইকমিশনের গভর্ন্যান্স অ্যাডভাইজার শাহনাজ করিম, সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাডভাইজার তাহেরা জাবীন, এফওআরবি প্রজেক্টের ন্যাশনাল কো-অর্ডিনেটর রুহী নাজ এবং সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার শশাঙ্ক বরণ রায় উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।