প্রবীণ সাংবাদিক শফিক রেহমানকে রিমান্ডে নিয়ে কোনও মানসিক চাপ বা নিপীড়নের মাধ্যমে তথ্য আদায় করা হচ্ছে না বলে দাবি করেছে পুলিশ। বলা হয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে উনি স্বতঃস্ফূর্তভাবে তথ্য দিচ্ছেন।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দাবি খণ্ডন করে এ দাবি করেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম।
এক সংবাদ সম্মেলনে ফখরুল দাবি করেন, সাংবাদিক শফিক রেহমানকে রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করে তথ্য আদায় করা হচ্ছে।
রবিবার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘আইনের ভেতরে থেকেই শফিক রেহমানকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাকে মানসিক কোনও চাপ প্রয়োগ বা তার ওপর কোনও নিপীড়নও করা হচ্ছে না। উনি স্বতঃস্ফূর্তভাবে তথ্য দিচ্ছেন।’
তিনি বলেন, ‘এফবিআইয়ের তথ্য আমাদের কাছে রয়েছে, যেগুলো আমরা সংগ্রহ করেছি। বিএনপির সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্য রাজনৈতিক। আমি রাজনৈতিক বক্তব্য নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাই না।’
দ্বিতীয় দফায় রিমান্ডের বিষয়ে জানতে চাইলে মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘শফিক রেহমানকে দ্বিতীয় দফায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তাকে সঙ্গে নিয়ে তার বাসায় গিয়ে কিছু ডকুমেন্ট আমরা জব্দ করেছি। এই ডকুমেন্টের বিষয়ে অসমাপ্ত তথ্য জানার জন্য তাকে দ্বিতীয় দফায় রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।’
মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘শফিক রেহমান জিজ্ঞাসাবাদে আরও অন্তত তিনজনের নাম বলেছেন। যাদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে যাচাই বাছাই করা হচ্ছে। আমরা আরও নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করছি। তাদের বিরুদ্ধে আরও শক্ত তথ্যপ্রমাণ পেলে তাদেরও গ্রেফতার করা হবে। তারা বাংলাদেশি নাগরিক। তারা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দেশে বাস করেন।’
এফবিআইকে ঘুষ দেওয়া অর্থের বিষয়ে মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘অর্থের বিষয়েও শফিক রেহমান তথ্য দিয়েছেন। আমরা জানতাম অল্প কিছু অর্থ লেনদেন হয়েছে। তবে শফিক রেহমান জানিয়েছেন, ডকুমেন্টের পারিশ্রমিকের মূল্য ৩০ হাজার ডলার দেওয়া হয়েছিল। ১০ হাজার ডলার তার নামে দেওয়া হয়েছিল। বাকি অর্থ কীভাবে পরিশোধ করা হলো তা জানার জন্য তাকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।’
সাংবাদিক মাহমুদুর রহমানকে প্রয়োজন হলে শফিক রেহমানের মুখোমুখি করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলেও জানান তিনি।
শফিক রেহমানের বাসা থেকে নথি জব্দের বিষয়ে সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা অল্প কিছু ডকুমেন্ট সংগ্রহ করেছি। সাংবাদিক ও দীর্ঘদিন সম্পাদক থাকার কারণে তার কাছে অনেক ডকুমেন্ট রয়েছে। ওইসব নিয়ে আমাদের কোনও মাথাব্যথা নেই। এই মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ডকুমেন্ট আমরা উদ্ধার করেছি। জব্দ করেছি। তা যথাসময়ে আদালতে দাখিল করা হবে।’
আরও পড়ুন: মধ্যরাত থেকে কমছে জ্বালানি তেলের দাম
/এআরআর/এজে/








