
তনুসহ সব ধর্ষণ-হত্যা, গুম-খুন ও বিচারহীনতার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে ডাকা আধাবেলা হরতালের সমর্থনে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধকারীদের ওপর ব্যাপক লাঠিচার্য করেছে পুলিশ। এসময় ১২ জনকে আটক করে আশুলিয়া থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
নেতাকর্মীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক তপন কুমার সাহার মদদে পুলিশ ১২ জনকে আটক করেছে। লাঠিচার্যের সময় প্রক্টর ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে নীরব ভূমিকা পালন করছিলেন। তারা প্রক্টরের পদত্যাগ দাবি করেছেন।
আটককৃতরা সবাই জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন বাম সংগঠনের নেতাকর্মী। পুলিশের হামলায় অন্তত ২০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

আটককৃতরা হলেন, ছাত্র ফ্রন্ট জাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক সুস্মিতা মরিয়ম (নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা, ৪১ ব্যাচ), সহ-সভাপতি মাসুক হেলাল অনিক (আইআইটি, ৪১ ব্যাচ), ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের সাধারণ সম্পাদক আবিদ সরকার সোহাগ (ইংরেজি, ৪২ ব্যাচ), দফতর সম্পাদক সিয়াম রায়হান (ইংরেজি, ৪৩ ব্যাচ), ছাত্র ফেডারেশন জাবির সংগঠক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মিনহাজুর রহমান আকাশ (নাটক ও নাট্যতত্ত্ব ৪২ ব্যাচ), মাহাথির মোহাম্মদ (ভূগোল ও পরিবেশ, ৪৪ ব্যাচ), রাকিবুল হক (নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা, ৪৪ ব্যাচ), তানজিলা হক তানি (বাংলা, ৪২ ব্যাচ), জামিল রহমান (প্রত্মতত্ত্ব, ৪৩ ব্যাচ), চন্দন দ্বীপ মিত্র (উদ্ভিদ বিজ্ঞান, ৪৪ ব্যাচ), আবদুল খালেক উজ্জ্বল (প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান, ৪১ ব্যাচ), নিতুল মাহমুদ (চারুকলা, ৪২ ব্যাচ)।
আরও পড়ুন: তনু হত্যার প্রতিবাদে শাহবাগে সড়ক অবরোধ
আটকের ব্যাপারে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মহসিন কাদিরের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি।

তবে ঘটনাস্থলে থাকা একাধিক পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে আটকের বিষয় ও সংখ্যা নিশ্চিত হওয়া গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নেতাকর্মীরা ভোর ৬টা থেকে অবরোধ পালন করছিলেন। সকাল পৌনে ৯টার দিকে বিনা উসকানিতে ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশরাফুল আজিমের নির্দেশে অর্ধশতাধিক পুলিশ অবরোধকারীদের ওপর লাঠিচার্য করে ছত্রভঙ্গ করে দেন।
নেতাকর্মীদের অভিযোগ, পুলিশ লাঠিচার্য শুরু করলে নেতাকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। তারা দৌড়াদৌড়ি করে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের চেষ্টা করেন। কিন্তু প্রক্টর ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তা জেফরুল হাসান চৌধুরী সজলের নির্দেশে প্রবেশ দ্বার বন্ধ করে দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন:
কাশিমপুর কারাগারের সামনে প্রধান রক্ষীকে গুলি করে হত্যা
অভিযোগ অস্বীকার করে প্রক্টর বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে। যা পুলিশের নিয়ন্ত্রণে ছিল। আমি অনুরোধ করলেও পুলিশ তা শোনেনি। আটককৃতদের ছাড়িয়ে আনার ব্যাপারে চেষ্টা চলছে। শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে যাতে কোনও ব্যবস্থা না নেয় সেজন্য উপাচার্য ও আমি পুলিশকে অনুরোধ করেছি।’
আটক ও মারধরের ব্যাপারে জানতে চাইলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশরাফুল আজিম কোনও সুনির্দিষ্ট বক্তব্য দিতে পারেননি।

এ ঘটনার পর সাড়ে ১০টার দিকে নেতাকর্মীরা আটকের প্রতিবাদে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে বিক্ষোভ করলে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়।
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত, নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনিক ভবন অবরোধ করে রেখেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম ও প্রক্টর তপন কুমার সাহা ভেতরে অবস্থান করছেন।
আন্দোলনকারীরা দুপুর দেড়টার মধ্যে প্রক্টরের পদত্যাগ দাবি করেছেন। বেধে দেওয়া সময়ের মধ্যে তিনি পদত্যাগ না করলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তারা জানিয়েছেন।
/এসটি/








