সেই কাদের মোল্লা থেকে শুরু। ২০১৩ সালে ট্রাইব্যুনালের রায়ে যাবজ্জীবন হওয়ার পরে মানবতাবিরোধী অপরাধী কাদের মোল্লা বের হয়ে আসার সময় ‘ভি’ চিহ্ন দেখার সাংবাদিকদের উদ্দেশে। সব অপরাধ প্রমাণ হওয়ার পরও যাবজ্জীবনের রায় এবং যুদ্ধাপরাধীর এই ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ খেপিয়ে তুলেছিল এ প্রজন্মকে। তৈরি হয়েছিল গণজাগরণ মঞ্চ।
এরপর থেকে একের পর এক যখনই মানবতাবিরোধীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দিন শেষবারের মতো পরিবারের সদস্যরা কারা ফটকে গেছেন ততোবারই ঢোকার বা বের হওয়ার সময় তারা ‘ভি’ চিহ্ন দেখিয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তি ও যুদ্ধাপরাধবিরোধী অ্যাক্টিভিস্টরা বলছেন, শেষ সময়ে এই ‘ভি’ আসলে পরাজয়ের চিহ্ন। তারা বুঝে গেছে আর কিছু করণীয় নেই।
কাদের মোল্লার বিচারিক আদালতে যাবজ্জীবনের পর আপিলে যখন মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়। কার্যকরের দিন শেষ দেখা করতে আসেন তার পরিবারের সদস্যরা। তার স্ত্রী সেইদিন ‘ভি’ দেখিয়েছিলেন। তার ছেলে হাসান জামিলকে ‘ভি’ এর অর্থ জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, আমাদের জয় হয়েছে বলেই আমরা বিশ্বাস করি। অন্যায় করে আমার আব্বাকে হত্যা করা হচ্ছে। রাজনৈতিক এই হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে আমাদের এই ‘ভি’ চিহ্ন।
একইভাবে গতবছর ১২ এপ্রিল মোহাম্মদ কামারুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় শেষবারের মতো দেখা করে বেরিয়ে তার ছেলে ‘ভি’ চিহ্ন দেখিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।
পরে ২২ নভেম্বর একসঙ্গে আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও বিএনপি নেতা মানবতাবিরোধী অপরাধী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফাঁসির সময় পরিবার দেখা করতে এসে ‘ভি’ চিহ্ন না দেখালেও তাদের আচরণ ছিল ঔদ্ধত্যপূর্ণ। তাদের আব্বারা কোনওভাবেই প্রাণভিক্ষা না চাইলেও সরকার প্রাণভিক্ষার নাটক করেছিল বলে জানিয়েছিল। যদিও কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, দুজনেই রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা করে আবেদন করেছিলেন এবং প্রাণভিক্ষা পেতে ব্যর্থ হয়েছেন।
সর্বশেষ আজ মঙ্গলবার মতিউর রহমান নিজামীর পরিবারের সদস্যরা সন্ধ্যা সাতটা ৫০ মিনিটে কারাগারে প্রবেশের সময় আবারও ‘ভি’ চিহ্ন দেখান। ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ বলেন, এ তাদের ধৃষ্টতা। পরিবারের সদস্যরা একই আদর্শে বেড়ে উঠেছেন। আসলে এই ‘ভি’ তাদের পরাজয়ের চিহ্ন।
জেইউ/ইউআই/এআরআর/সিএ/এজে







