গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারি রেস্টুরেন্টে হামলার ঘটনায় আহত জাকির হোসেন শাওন মারা গেছে। শুক্রবার বিকাল সোয়া পাঁচটায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে তার মৃত্যু হয়। হাসপাতালের চিকিৎসকরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে শুক্রবার দুপুরেই শাওনের মৃত্যুর কথা সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন শাওনের বাবা আবদুস সাত্তার। তিনি তখন বলেন, শাওন হলি আর্টিজান বেকারিতে বাবুর্চির সহকারী হিসেবে কাজ করত। তার দাবি শাওন কোনও জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিল না। ঘটনার পর থেকেই তারা ছেলেকে খুঁজছিলেন। ছেলের ছবি নিয়ে শাওনের বাবা আবদুস সাত্তার ও মা মাহমুদা বেগম আর্টিজানের সামনে ও থানা পুলিশের কাছে ঘোরাঘুরি করতে থাকেন। কিন্তু কোথাও খুঁজে পাচ্ছিলেননা। ইউনাইটেড হাসপাতালে গিয়েও খুঁজে পাননি। পুলিশও তার কোনও খোঁজ দিতে পারেনি। পরে ৩ জুলাই রাতে শাওনকে পুলিশ পাহারায় চিকিৎসা দেওয়ার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
গত শুক্রবার রাতে গুলশান-২ এর ৭৯ নম্বর সড়কের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালায় জঙ্গিরা। এতে ২ পুলিশ সদস্য, ১৭ বিদেশি নাগরিক ও তিন বাংলাদেশি নিহত হন। পরে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে ছয় জঙ্গি নিহত হন বলে শনিবার সেনা সদরে এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। ওই ছয় জনের একজন ছিলেন রেস্টুরেন্টের শেফ সাইফুল ইসলাম চৌকিদার। অভিযানে জীবিত উদ্ধার করা হয় তিন বিদেশি নাগরিকসহ ১৩ জিম্মিকে। আহত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া একই রেস্টুরেন্টের বাবুর্চির সহকারি শাওন আজ শুক্রবার মারা গেছে বলে তার বাবা সাংবাদিকদের জানান।
নিহতদের মধ্যে নয়জন ইতালির, সাতজন জাপানি ও একজন ভারতের নাগরিক। বাকি তিনজন বাংলাদেশি, যাদের মধ্যে একজনের যুক্তরাষ্ট্রেরও নাগরিকত্ব ছিল। নিহত সাত জাপানির মধ্যে ছয়জনই মেট্রোরেল প্রকল্পের কাজে নিয়োজিত ছিলেন।
/জেইউ/এপিএইচ/টিএন/








