মন্ত্রিপরিষদের নিয়মিত বৈঠক শুরু হয় বেলা ১০টার কিছুটা পর। তখনও প্রধানমন্ত্রী সভাকক্ষে এসে পৌঁছাননি। তিনি সভাকক্ষে পৌঁছার আগেই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন কর্মকর্তার মাধ্যমে তথ্য মন্ত্রণালয়ের এ-৪ সাইজের চেয়ে কিছুটা বড় একটি সাদা খাম পৌঁছে দেওয়া হয় মন্ত্রিপরিষদের সব সদস্যের সামনে। তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর আসনের সামনেও রাখা হয় একই খাম।
খামটি পাওয়ার পর মন্ত্রিপরিষদের প্রায় সব সদস্যই ভেতরে রাখা দুই পৃষ্ঠার ডক্যুমেন্টস দেখতে পান এবং তা পড়েন। কিন্তু কেউ কিছু না বলে সবাই চুপচাপ থাকেন। এর পর প্রধানমন্ত্রী সভাকক্ষে আসেন এবং বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকের আলোচ্যসূচি আলোচনা শেষে অনির্ধারিত আলোচানার এক পর্যায়ে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা একে অপরের দিকে দৃষ্টি বিনিময় করেন। কিন্তু কেউ কিছু বলেন না।
এক পর্যায়ে শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, তথ্যমন্ত্রী সবাইকে দুটি কাগজ দিয়েছেন। এর মধ্যে একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে প্রকাশিত ‘তথ্যমন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ’ শিরোনামে নিউজের প্রিন্ট কপি। অপরটি একই শিরোনামে তথ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য কর্মকর্তা মীর আকরাম হোসেনের স্বাক্ষর করা তথ্য অধিদফতরে থেকে পাঠানো তথ্য বিবরণীর কপি। যার নম্বর ২৩২৭। তবে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের কাছে তাদেরকে উদ্দেশ্য করে ক্ষমা চেয়ে বা দুঃখ প্রকাশ করে কোনও লিখিত বক্তব্য তিনি দেননি।
প্রতিমন্ত্রী এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলেন, তথ্যমন্ত্রীর সরবরাহকৃত ডক্যুমেন্টেসে দুটি কাগজ ছাড়া আর কিছুই নেই।
গত রবিবার পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) এক অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি তো এমপি, আমি জানি, টিআর কিভাবে চুরি হয়। সরকার ৩শ’ টন দেয়, এর মধ্যে এমপি সাহেব দেড়শ টন চুরি করে নেয়।’
মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকে তথ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যের বিরোধীতা করেন উপস্থিত সব মন্ত্রী। সবাই তখন একজোট হয়ে বলেন, ‘তথ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য আমাদেরকে সমাজে হেয় করেছে, চোর বানিয়েছে। গম যদি চুরি করেন, তা তিনি করেন, আমরা নই।’
এ সময় শ্রম প্রতিমন্ত্রী চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে জানান, ‘আমি আগে একজন এমপি, পরে মন্ত্রী। টিআর’র বরাদ্দ আমিও পেয়েছি। আমি ওই বরাদ্দ থেকে এক ছটাক গম চুরি করেছি এমন অভিযোগ যদি কেউ প্রমাণ করতে পারে তবে আমি মন্ত্রীত্ব এবং এমপি’র ছেড়ে চলে যাবো।’
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘গম যদি চুরি করে থাকেন, তা তিনিই (তথ্যমন্ত্রী) করেছেন, আমরা নই।’
মীর আকরাম হোসেন স্বাক্ষরিত ও তথ্য অধিদফতর থেকে পাঠানো তথ্য বিবরণীর কপিতে ‘তথ্যমন্ত্রীর দুঃখপ্রকাশ’ শিরোনামে বলা হয়েছে, ‘গতকাল রবিবার দুপুরে ঢাকায় পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের সম্মেলন কক্ষে ‘চতুর্থ বাংলাদেশ সামিট-টেকসই উন্নয়ন ২০১৬’ সম্মেলন উদ্বোধন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর বক্তব্যে টিআর-কাবিখা প্রসঙ্গে প্রকাশিত সংবাদের প্রতি তার দৃষ্টি আকৃষ্ট হলে, এ বিষয়ে কোনও বিভ্রান্তি বা ভুল বুঝাবুঝি হলে বা কেউ এতে কষ্ট পেয়ে থাকলে তার জন্যে মন্ত্রী দুঃখ প্রকাশ করেছেন।’
বিবৃতিতে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘টেস্ট রিলিফ ও কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচিতে অতীতের সরকারের অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি অবসানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টার বিষয়টি তুলে ধরতে গিয়ে আমি ক্ষেত্রবিশেষে উদাহরণ হিসেবে দুর্নীতির কথা উল্লেখ করেছি, ঢালাওভাবে বলিনি। আমি নিজে একজন সংসদ সদস্য হিসেবে সব জনপ্রতিনিধিদের আন্তরিকভাবে সম্মান করি এবং সেই সম্মান অক্ষুণ রয়েছে। তারপরও কেউ যদি কষ্ট পেয়ে থাকেন সেজন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত। একইসঙ্গে, টিআর-কাবিখা ক্ষেত্রে অতীত অব্যবস্থাপনার অবসানে সংসদ সদস্যসহ সকল জনপ্রতিনিধি ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।’
/এসআই/এসএনএইচ/
আরও পড়ুন:
লিখিত ক্ষমা চাইলেন তথ্যমন্ত্রী
‘ইনু আমাদের চোর বানিয়েছেন’
অস্ত্রের উৎস জানতে পেরেছি, আগেও ব্যবহার হয়েছে: আইজিপি
পদদলিত করলেন, পেটালেন, ১০ হাজার টাকাও নিলেন (ভিডিও)
সেই সার্জেন্ট সাময়িক বরখাস্ত








