রাজধানীর কল্যাণপুরে জঙ্গি আস্তানায় নিহত সেজাদ রউফ অর্ক যে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক তার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তার ফিঙ্গার প্রিন্টের সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) ফিঙ্গার প্রিন্ট মিলেছে। মিরপুর থানা পুলিশের এক কর্মকর্তা এই তথ্য জানিয়েছেন। তার মার্কিন নাগরিকত্বের কথাও নিশ্চিত করেছেন তিনি।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) জনসংযোগ শাখার উপকমিশনার মাসুদুর রহমান জানান, নিহত সব জঙ্গির পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হতে এনআইডির ফিঙ্গার প্রিন্ট মিলিয়ে দেখছে পুলিশ। এছারা তাদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে পরীক্ষা করার জন্য।
এর আগে জানা যায়, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) দেওয়া তালিকা অনুযায়ী (প্রথম পর্ব) কল্যাণপুরের জঙ্গিবিরোধী পুলিশি অভিযানে নিহত সেজাদ রউফ অর্ক আমেরিকান পাসপোর্টধারী। বুধবার (২৭ জুলাই) দুপুর নাগাদ মার্কিন দূতাবাসের এক কর্মকর্তাসহ অর্কর পরিবারের সদস্যরা ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে আসেন। তারা ভেতরে প্রবেশের সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনও কথা বলেননি।
র্যাব সম্প্রতি নিখোঁজের যে তালিকা প্রকাশ করেছে তাতে থাকা ২৬২ জনের মধ্যে একাধিকবার একটি নাম ছিল। তালিকার ২৬ নম্বর ও ১৯৫ নম্বরে থাকা ব্যক্তির পাসপোর্ট নম্বর একই। তাদের বাবা নামও এক। তবে ওই ব্যক্তির নাম দুই জায়গায় সামান্য পার্থক্য ছিল।
র্যাবের তালিকায় ২৬ নম্বরে থাকা ব্যক্তির নাম লেখা হয়েছে মো. সাজাদ রউফ। তার বয়স উল্লেখ করা হয়েছে ২৪। বাবার নামের ঘরে লেখা হয়েছে মো. তৌফিক রউফ। স্থায়ী ঠিকানা দেওয়া হয়েছে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, থানা: ভাটারা, ডিএমপি, ঢাকা। বলা হয়েছে তিনি আমেরিকান নাগরিক ও তার পাসপোর্ট নং ৪৭৬১৪৫৯৯২। বর্তমান ঠিকানার ঘরে লেখা হয়েছে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, থানা ভাটারা, ডিএমপি ঢাকা। মো. সাজাদ রউফ নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে এমবিএ অধ্যয়নরত বলেও লেখা হয় এই ঘরে।
পরে র্যাবের ৬৮ জনের তালিকায় তার নামটি আবারও উল্লেখ করা হয়। এসময় ঠিকানা লেখা হয় বসুন্ধরার ১০ নম্বর সড়কের ৩০৪ নম্বর বাসা। বাবার নাম আগের মতোই তৌফিক রউফ। তবে এখানে সরবরাহ করা তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্টধারী লেখা নেই।
উল্লেখ্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসকরা বুধবার বেলা পৌনে ১২টায় শুরু করে ১টা ২০ মিনিটে ময়নাতদন্ত শেষ করেন। মঙ্গলবার (২৬ জুলাই) ভোরে কল্যাণপুরে ৫ নম্বর রোডের ৫ তলা ভবনে জঙ্গি আস্তানায় পুলিশের অভিযানে ৯ জঙ্গি নিহত হয়। অপারেশন স্টর্ম-২৬ নামে প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী এই অভিযান চলে।
র্যাব-পুলিশের অন্তত এক হাজার সদস্য অভিযানে অংশ নেন। সোমবার রাত সাড়ে ১১টা থেকে ভবন ও তার আশেপাশের এলাকা ঘিরে রেখেছিল পুলিশ। মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে এই অভিযান শুরু হয়। ওই ভবনে ১১ জন জঙ্গি ছিল। এর মধ্যে সোমবার রাতে ভবনটি থেকে লাফিয়ে পালানোর সময় রাকিবুল হাসান রিগ্যান নামে এক জঙ্গিকে গুলি করার পর আটক করে পুলিশ। আরেকজন পালিয়ে যায়।
/জেইউ/এফএস/








