বুধবারের পর বৃহস্পতিবারও পুলিশ সদর দফতরে যাবেন পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আকতার, এমনটাই জানালেন তার শ্বশুর ও সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন। বুধবার দুপুর সোয়া ১টায় পুলিশ সদর দফতরে প্রবেশের পর রাত ১০টার দিকে বনশ্রীতে শ্বশুরের বাসায় ফিরে আসেন বাবুল আকতার।
এসপি বাবুল আকতারের কাজে যোগ দেওয়া নিয়ে এখনও চলছে নাটকীয়তা। কাজে তিনি যোগ দিয়েছেন কি দেননি, বিষয়টি পুলিশের দায়িত্বশীল কেউ নিশ্চিত করেননি। তবে যোগ দেওয়ার ব্যাপারে পুলিশ সদর দফতরের পক্ষ থেকে সাড়া ইতিবাচক বলে জানিয়েছেন দায়িত্বশীল এক সূত্র।
পুলিশ সুপার বাবুল আকতার কাজে যোগ দিয়েছেন কিনা তা জানতে চাইলে রাত সাড়ে ৮টার সময় তার শ্বশুর মোশাররফ হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, কাজে যোগ দিতে বাবুল আকতার দুপুরে পুলিশ সদর দফতর গিয়েছেন। তবে যোগ দিয়েছেন কিনা সেটা তিনি জানেন না।
মোশাররফ হোসেন জানান, বাবুল আকতার কাজে যোগ দিক, সেটাই তারা চান। এ নিয়ে আর কোনও জটিলতাও তারা আশা করেন না।
৫ এপ্রিল পদোন্নতি পাওয়ার পর থেকে তিনি পুলিশ সদর দফতরে পুলিশ সুপার হিসেবে সংযুক্ত রয়েছেন। একমাস পর ৫ জুন চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি’র মোড় এলাকায় স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যার পর থেকে তিনি আর অফিস করেননি। এ সময়ে তিনি ছুটিতেও ছিলেননা বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
পুলিশ সদর দফতর সূত্র জানায়, বুধবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে তিনি পুলিশ সদর দফতরে প্রবেশ করেন। এরপর তিনি পুলিশের আইজিসহ ঊর্ধ্বতন কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করেন। তবে তিনি কাজে যোগ দিয়েছেন কি দেননি সে ব্যাপারে পুলিশের কেউ কোনও বক্তব্য দেননি। দুপুর সোয়া দু’টার দিকে বাবুল আকতার আবার পায়ে হেঁটে পুলিশ সদর দফতর থেকে বেরিয়ে যান বলে প্রধান ফটকের নিরাপত্তায় থাকা পুলিশ কনস্টেবল হাফিজ জানান।
স্ত্রী মিতু নিহত হওয়ার পর, গত ২৪ জুন রাতে বাবুল আকতারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গোয়েন্দা কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। ১৬ ঘণ্টা পর তাকে ২৫ জুন সন্ধ্যায় বনশ্রীতে অবস্থিত তার শ্বশুরের বাসায় আবার পৌঁছে দেওয়া হয়। এর ৩৮ দিন পর এই প্রথম তিনি পুলিশ সদর দফতরে গেলেন।
হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই বাবুল আকতার তার দুই সন্তানসহ রাজধানীতে শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করছিলেন। ২৪ জুন মধ্যরাতে হঠাৎ করে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের নামে ডেকে নেওয়া হলে এ মামলার গতিপ্রকৃতি পরিবর্তিত হতে শুরু করে। এমনকি গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এসপি বাবুল আকতার স্ত্রী হত্যায় জড়িত থাকায় তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
বিষয়টিকে গুজব বলে উড়িয়ে দিয়ে আইজিপি মো. শহীদুল হক গত ২১ জুলাই সাংবাদিকদের জানান, ‘তিনি এখনও চাকরিতে বহাল আছেন।’ এর আগে দুয়েকটি গণমাধ্যমে এসপি বাবুল আকতার গত ২০ জুন পদত্যাগ পত্র দিয়েছেন বলেও খবর প্রকাশিত হয়।
বাবুল আকতারের কাজে যোগ দেওয়ার বিষয়ে আইজিপি এ কে এম শহীদুল হকের কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশ সদর দফতরের ডিআইজি (মিডিয়া) একেএম শহিদুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এসপি বাবুল আকতার কাজে যোগদান করেছেন তা বলা যাবে না, আবার যোগদান করেননি তাও বলা যাবে না এ মুহূর্তে।’
এসপি বাবুল আকতার কাজে যোগ দিয়েছেন কিনা জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এসপি বাবুল আকতার যে আজ পুলিশ সদর দফতরে গিয়েছিলেন, এটা আমার নলেজে আছে। তিনি যোগদান করেছেন কিনা জানি না, তবে তার যোগদানে তো কোনও সমস্যাও দেখছি না।’
বাংলাদেশ পুলিশের ২৪তম ব্যাচের বিসিএস কর্মকর্তা বাবুল আকতার ২০০৫ সালে পুলিশ বাহিনীতে যোগদান করেন। ২০১৫ সালে পাঁচ জঙ্গিকে গ্রেফতার করে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশে ব্যাপক প্রশংসিত হন বাবুল আকতার। তখন তিনি অতিরিক্ত উপ-কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর গত ৫ জুন তার স্ত্রীকে হত্যা করা হলে ঘটনার পেছনে জঙ্গিদের হাত থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছিল।
/জেইউ/এইচকে/আপ-এআর/
আরও পড়ুন: ৩৮ দিন পর পুলিশ সদর দফতরে এসপি বাবুল







