ঈদুল ফিতরে শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলার কারণে এবার ঈদুল আজহার জামাতকে ঘিরে সারাদেশে ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদার করেছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশ, র্যাব ছাড়াও এ কাজে ছিলেন বিজিবির সদস্যরা। তবে জামাতের এই নিরাপত্তার কাজে কোথাও কোথাও যোগ দিয়েছেন বিভিন্ন পেশাজীবীসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষরাও। এমনই দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন হবিগঞ্জের সনাতন ধর্মের ৬০ জন স্বেচ্ছাসেবক। তারা জামাতকে কেন্দ্র করে শহরের যানজট নিরসনের কাজে অংশ নেন। বিশিষ্ট আলেমরা বলছেন,এটা মানবিকতার জয়। তাদের সহায়তাকে কেবল হবিগঞ্জের মানুষই শুধু নয়, সারাদেশের মানুষই স্বাগত জানাবে।
জানা গেছে,হবিগঞ্জে মুসলমান ধর্মাবলম্বীদের ঈদের জামাতকে কেন্দ্র করে যানজট মোকাবিলায় পুলিশকে সহযোগিতা করেছেন সনাতন ধর্মের প্রায় ৬০ জন স্বেচ্ছাসেবক। গতকাল মঙ্গলবার হবিগঞ্জশহরের ঈদগাহের সামনে শায়েস্তানগর পয়েন্টে সকাল সাড়ে ছয়টা থেকে দায়িত্বপালন করেন তারা।
জানতে চাইলে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ ইয়াসিনুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ‘ঈদগাহের নিরাপত্তা বা পাহারার উদ্দেশ্যে নয়, তারা ঈদজামাত-উৎসবকে কেন্দ্র করে শহরের যানজট নিরসনে কাজ করেছেন। পুলিশকে সহযোগিতা করেছেন স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে ।’
জানা গেছে,ঈদগাহ জামাতকে কেন্দ্র করে শহরের যানজট নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পাশাপাশি সনাতন ধর্মের মানুষদের মধ্যে আইনজীবী, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি ও ছাত্রসহ প্রায় সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ ছিলেন। ঈদগাহের আশেপাশের জায়গাগুলোয় স্বেচ্ছাসেবকরা দায়িত্ব পালন করেন।
মঙ্গলবার ঈদুল আজহার জামাতকে কেন্দ্র শহরে ছড়িয়ে পড়া যানজট মোকাবিলায় সহযোগিতা করতে পুলিশ প্রশাসনকে আহ্বান জানান জেলার কয়েকজন সনাতন ধর্মাবলম্বী। এ নিয়ে গত ১০ সেপ্টেম্বর প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সেচ্ছাসেবক বিষয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় সনাতন ধর্মের প্রতিনিধিরাও সহযোগিতার আহ্বান জানান। বৈঠকে শহরের সব মসজিদ ও ঈদগাহ কমিটির নেতাসহ খতিবরা উপস্থিত ছিলেন। হবিগঞ্জ-৩ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট মো. আবু জাহির, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এমরান হোসেনসহ প্রশাসনের দায়িত্বশীলরাও ছিলেন ওই সভায়।
এ ব্যাপারে পূজা উদযাপন পরিষদ জেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও স্বেচ্ছাসেবক দলের একজন সদস্য অ্যাডভোকেট তুষার মোদক বলেন, ‘হবিগঞ্জ কেন্দ্রীয় ঈদগাহে স্বেচ্ছা সেবকের দায়িত্ব পালন করতে সবার সঙ্গে মিলিত হয়েছি। কাজটা করে মনে অসম্ভব একটা প্রশান্তি পাচ্ছি।’
হবিগঞ্জ শহরের বাসিন্দা হাফেজ মাওলানা আপন বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ‘সনাতম ধর্ম বা যে ধর্মেরই হোক, তারা ঈদকে কেন্দ্র করে মুসলমানদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, এটাই সবচেয়ে বড় কথা। এটা মানবিকতার জয়। তাদের সহায়তাকে কেবল হবিগঞ্জের মানুষই শুধু নয়, সারাদেশের মানুষই স্বাগত জানাবে।’
পূজা উদযাপন পরিষদের বিভাগীয় সম্পাদক শঙ্খ শুভ্র রায় বলেন, ‘‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অটুট থাকার জন্য আমাদের এই উদ্যোগ। শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের মুসলমান ভাইয়েরা তাদের নামাজ আদায় করতে পেরেছেন এজন্য খুব ভালো লাগছে।’
জানতে চাইলে মাওলানা তাফাজ্জুল হক হবিগঞ্জী বলেন, ‘মানুষের পাশে মানুষ দাঁড়াবে, সাহায্য করবে, এটা প্রশংসার। প্রশাসনকে তারা সহযোগিতা করেছে। এটা শহরের জন্য ভালো খবর।’
এসটিএস/এপিএইচ/







