
কোনও ধরনের জামানত গ্রহণ না করে অপরিশোধিত ভোজ্য তেল আমদানির জন্য বারবার নগদে এলসি স্থাপনের অনুমোদনে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন অগ্রণী ব্যাংকের ২২৫ কোটি ২৬ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। সরকারের নিরীক্ষা বিভাগের নিরীক্ষা আপত্তি থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সরকারি হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এ তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। পরে কমিটি জামানতবিহীন এলসি খোলার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে।
কমিটির সভাপতি মহীউদ্দীন খান আলমগীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটির সদস্য এ কে এম মাঈদুল ইসলাম, আবদুস শহীদ, শামসুল হক, মইন উদ্দীন খান বাদল ও রেবেকা মমিন উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া মহাহিসাব নিরীক্ষক মাসুদ আহমেদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির এবং নিরীক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকের কার্যপত্র থেকে জানা যায়, বৈঠকে অগ্রণী ব্যাংকের ২০০৯-১০ সালের ঋণ পুনঃতফসিল করা ও সুদ মওকুফ সম্পর্কিত ২৪টি নিরীক্ষা আপত্তি নিয়ে আলোচনা হয়। এর সঙ্গে জড়িত টাকার পরিমাণ ৬৮০ কোটি ৩১ লাখ টাকা।
বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে কমিটির সদস্য এ কে এম মাঈদুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, কমিটি মন্ত্রণালয়কে সহায়ক জামানত গ্রহণ ছাড়া এলসি খোলায় সহায়তাকারী ব্যাংক কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে বলেছে। এ ছাড়া ঋণ গ্রহণ করা কোম্পানিগুলো যাতে অন্য কোনও ব্যাংক থেকে ভিন্ন নামে এলসি খুলতে না পারে এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবির মাধ্যমে তদন্ত করে ১৫ দিনের মধ্যে তা সংসদীয় কমিটিকে জানাতে বলেছে।
অপর একটি নিরীক্ষা আপত্তিতে বলা হয়েছে, অগ্রণী ব্যাংক একটি প্রতিষ্ঠানের জমির দাম বাজার মূল্যের চেয়ে বেশি দেখিয়ে ঋণ দেওয়ায় এবং বারবার পুনঃতফসিল করার পরও সেই প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ঋণের টাকা আদায়ে ব্যর্থ হওয়ায় ব্যাংকটির ১৫০ কোটি ৮৩ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। অন্য একটি প্রতিষ্ঠান প্রকল্প ও সিসি হাইপো ঋণের দায় পরিশোধে ব্যর্থ হয়েছে। তা সত্ত্বেও ব্যাংক প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়নি। উল্টো অনিয়মিতভাবে ঋণ পুনঃতফসিল করেছে। যে কারণে ব্যাংকটির ৪৮ কোটি ১৭ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
/ইএইচএস/টিএন/







