চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ৬.৮ শতাংশ: বিশ্বব্যাংক

ললিত কে ঝা, যুক্তরাষ্ট্র
১১ জানুয়ারি ২০১৭, ০৫:৩৫আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০১৭, ০৯:৩৫

বিশ্বাব্যাংকের গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্ট শীর্ষক প্রতিবেদন চলতি (২০১৬-১৭) অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬.৮ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। আগের অর্থবছরে (২০১৫-১৬) এই প্রবৃদ্ধি ৭.১ শতাংশ হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছিল সংস্থাটি। বুধবার (১১ জানুয়ারি) বিশ্বব্যাংকের ‘গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্ট’ শিরোনামের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে রফতানি চাহিদা কম। বেসরকারি বিনিয়োগ সামান্য বেশি। অবকাঠামো খাতে বর্ধিত ব্যয় ও সরকারি খাতে বেতন বৃদ্ধি হলেও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের কারণে প্রবৃদ্ধি কমে যেতে পারে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, তেলসমৃদ্ধ উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্থনীতির গতি মন্থর হওয়ায় শ্রীলঙ্কার পাশাপাশি বাংলাদেশে প্রবৃদ্ধিও কমেছে। এটা বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের ব্যয় ও বিনিয়োগকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, রেমিট্যান্সের প্রবাহ ও খরচের পরিমাণ থাকায় ২০১৮-১৮ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৬.৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। পরের অর্থবছরেই এই প্রবৃদ্ধি ৬.৭ শতাংশ পর্যন্ত বাড়বে। তবে অবকাঠামো খাতে ব্যয় ও রফতানি বৃদ্ধির কারণে আগামী কয়েক বছরেই বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৭.০ শতাংশে পৌঁছে যেতে পারে বলে আভাস দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক।

দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটলে তা প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ ও বেসরকারি বিনিয়োগকে আকৃষ্ট করবে এমন আভাসা দিয়ে বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পদ্মা সেতু নির্মাণের মাধ্যমে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে বাকি অঞ্চলগুলোর যোগাযোগ তৈরি হলে এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ নিশ্চিত হলে তা মধ্যমেয়াদে অবকাঠামোগত প্রতিবন্ধকতা ও জ্বালানি সংকট দূর করবে। এরপরও বাড়তি খরচ, রাজস্ব ও জিডিপির অনুপাতে স্থবিরতা অবকাঠামোগত উন্নয়নের বরাদ্দে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারে।

অবকাঠামোগত মানের দিক থেকে এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশ পিছিয়ে রয়েছে উল্লেখ করে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ ঘাটতি ও দুর্বল যাতায়াত ব্যবস্থাও দেশে বিনিয়োগ ও উৎপাদনশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। সপ্তম পাঁচসালা পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নে প্রয়োজন হবে ৪১ হাজার কোটি ডলার বা প্রায় ৩২ লাখ কোটি টাকা, যা বাংলাদেশের ২০১৫ সালের জিডিপির দ্বিগুণ। এছাড়া, জনস্বাস্থ্যসেবা খাতেও বিনিয়োগ করতে হবে। এই খাতে ২০১০ সালে বরাদ্দ জিডিপির ১.১ শতাংশ ছিল। ২০১৪ সালে যা কমে হয়েছে ০.৭ শতাংশ।

 আরও পড়ুন: ২৪ জানুয়ারি নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা

/টিআর/এমএনএইচ/

 

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
শেষ মুহূর্তেও একে অপরকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছিলেন তারা
শেষ মুহূর্তেও একে অপরকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছিলেন তারা
ছোট ছেলে শ্বশুরবাড়ি, বড় ছেলের ঘরের মেঝে খুঁড়ে মায়ের লাশ উদ্ধার
ছোট ছেলে শ্বশুরবাড়ি, বড় ছেলের ঘরের মেঝে খুঁড়ে মায়ের লাশ উদ্ধার
‘শাহজালালে হাজিদের লাগেজ কেটে চুরির অভিযোগ সঠিক নয়’
‘শাহজালালে হাজিদের লাগেজ কেটে চুরির অভিযোগ সঠিক নয়’
৩০০ ফিটে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় চীনা নাগরিকের মৃত্যু
৩০০ ফিটে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় চীনা নাগরিকের মৃত্যু
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের