ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা ৫১ নম্বর ওয়ার্ডের মিরহাজীর বাগ মধ্যপাড়া। এ এলাকায় নতুন ড্রেনেজ লাইন স্থাপন করা হলেও অন্তত বিশটি ম্যানহোলের ঢাকনা নেই। বড় বড় ম্যানহোলগুলো ঝুঁকিপূর্ণ ও বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে। বুধবার সকাল এগারটায় সরেজমিনে এমন দৃশ্য দেখা গেছে।
এলাকার বাসিন্দা আবুল হোসেন বলেন, ‘মধ্যপাড়া গলির খোলা ম্যানহোলগুলো যেন দুর্ঘটনা ঘটানোর অপেক্ষায় আছে। বাসা থেকে শিশুরা বাইরে বের হলেই আতঙ্কে থাকি, কখন বিপদ নেমে আসে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর বিদ্যুতের লোডশেডিং হলে আমাদের আতঙ্ক বেড়ে যায়। এরই মধ্যে কিছু দুর্ঘটনা ঘটে গেছে।’ তিনি অভিযোগ করেন, ‘বিষয়টি সিটি করপোরেশনকে জানিয়েছি। তারা কোনও ব্যবস্থা নেয়নি।’
মেরামত ও সংস্কার কাজ নিয়ে কর্তৃপক্ষের এমন অবহেলার কারণে শুধু মিরহাজীর বাগই নয়, নগরীর আরও বেশ কিছু এলাকার রাস্তাও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এসব এলাকার মধ্যে দক্ষিণ যাত্রাবাড়ীর বিদ্যুৎ গলির ড্রেনেজ পাইপ স্থাপন ও ম্যানহোল নির্মাণ করা হলেও সড়কটি ঢালাই করা হয়নি। জুরাইন কবরস্থান রোডও করা মেরামত হয়নি। মসজিদ সংলগ্ন গলির ম্যানহোলের ঢাকনা নেই।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মিরপুরের সেনাপাড়া রোড ও শ্যাওড়াপাড়া শাপলা সরণীতে কয়েকটি ম্যানহোলের ঢাকনা নেই। পথচারীদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য স্থানীয় বাসিন্দারা ম্যানহোলে বাঁশ পুঁতে রেখেছেন। রূপনগর এলাকাতেও রয়েছে ঢাকনাবিহীন ম্যানহোল।
জানা গেছে, রাস্তা মেরামত ও সংস্কার কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশনা থাকলেও প্রভাবশালী ঠিকাদাররা তা মানছেন না। কর্তৃপক্ষও পারছে না এসব ঠিকাদারকে নিয়ন্ত্রণ করতে। সম্প্রতি ম্যানহোলে পড়ে মানুষ মারা গেলেও কর্তৃপক্ষের টনক নড়ছে না। তাই নগরবাসীর চলাচলও ঝুঁকিমুক্ত হচ্ছে না।
যোগাযোগ করা হলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মো. বিলাল বুধবার সন্ধ্যায় বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এমনিতে আমাদের কোনও ম্যানহোল এখন আর ঢাকনাবিহীন নেই। তবে মিরহাজীর বাগের কাজটা যেহেতু নতুন ড্রেন লাইনের, সেহেতু আমি এখনই সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীকে বলে দিচ্ছি যাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়।’ তিনি বলেন, ‘আরও যেখানে যেখানে এমন সমস্যা রয়েছে, সেগুলো দ্রুত সমাধান করে দেওয়া হবে।’
প্রসঙ্গত, গত ৬ মার্চ সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় রাজধানীর পুরানা পল্টনের কালভার্ট রোডে পল্টন টাওয়ারের সামনে একটি খোলা ম্যানহোলে পড়ে সানু মিয়া (৫৫) নামের এক ব্যক্তি মারা যান। এ ঘটনায় ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে (সিইও) হাইকোর্টে তলব করা হয়েছে। আগামী ১৯ মার্চ সকাল সাড়ে দশটায় আদালতে উপস্থিত হয়ে তাদের ব্যাখ্যা দিতে হবে। পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে বিচারপতি কাজী রেজাউল হক ও বিচারপতি মোহম্মদ উল্লাহর বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মঙ্গলবার এ আদেশ দিয়েছেন।
একই সঙ্গে কর্তব্যে অবহেলার কারণে দোষীদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, বা কেন ফৌজদারি আইনের আওতায় আনা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুলও জারি করা হয়েছে। এছাড়া মৃত ব্যক্তির পরিবারকে কেন ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।
এর আগে ২০১৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর শাজাহানপুর রেলওয়ে কলোনিতে গভীর নলকূপের পাইপে পড়ে জিহাদ নামের এক শিশু মারা যায়। ২০১৫ সালের ৮ ডিসেম্বর শ্যামপুরের পালপাড়ার বড়ইতলায় ম্যানহোলের গর্তে পড়ে মারা যায় আরেক শিশু নীরব।
/ওএফ/ এপিএইচ/








