রাজধানীর উত্তরায় নিজেদের ৫ বিঘা জমিতেই কার্যলয় তৈরি করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। বিষয়টি নিশ্চিত করে তাদের আইনজীবী ইশতিয়াক মইনুল ইসলাম জানিয়েছেন, ‘আগামী সাড়ে ছয় মাসের মধ্যেই সেটি সম্ভব হবে। আমরা উত্তরায় ৫ বিঘা জমি পেয়েছি, সেখানেই যাওয়া সম্ভব হবে।’
এর আগে রবিবার (১২ মার্চ) সকালে হাইকোর্টের আপিল নির্দেশ দেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে হাতিরঝিল থেকে অবৈধভাবে গড়ে তোলা ১৬ তলা ভবনটি ভেঙে সরিয়ে নিতে হবে। প্রধান বিচারপতির এসকে সিনহার নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
শুনানিকালে বিজিএমইএ ভবন হাতিরঝিল থেকে সরানোর জন্য তাদের আইনজীবী তিন বছর সময় চাইলে আদালত আইনজীবীর উদ্দেশে বলেন, ‘ভবন ভাঙতে এই দীর্ঘ সময় নেওয়ার আবেদন গ্রহণযোগ্য নয়। আপনারা তো অনেক সম্পদশালী। অফিস হিসেবে আপনারা হোটেল সোনারগাঁও অথবা শেরাটন ভাড়া নিতে পারেন।’
এ মামলায় অ্যামিকাস কিউরির দায়িত্ব পালন করেছেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। আদেশের পর বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘এই আদেশে আমরা সন্তুষ্ট। ছয় মাস কোনোভাবেই সাড়ে ছয় মাস হওয়ার কোনও সুযোগ নেই। এই আদেশের মধ্য দিয়ে প্রমাণ হলো কেউ আইনি প্রক্রিয়ার ঊর্ধ্বে নয়।'
এদিকে বিজিএমইএ’র আইনজীবী ইশতিয়াক মইনুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমরা উত্তরায় পাঁচ বিঘা জমি ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করেছি। সেখানে ভবন সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা সাড়ে ছয় মাসে করা সম্ভব হবে।’
এর আগে ৫ মার্চ বিজিএমইএ ভবন ভাঙতে কত সময় লাগবে, তা ৯ মার্চের মধ্যে জানিয়ে আবেদন করতে বলেছিলেন আপিল বিভাগ। ওইদিন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চ রিভিউ আবেদন খারিজ করে বিজিএমইএ ভবন ভাঙার রায় বহাল রাখেন। গত বছরের ৮ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ৩৫ পৃষ্ঠার রায় প্রকাশিত হওয়ার পর রিভিউ আবেদন করেছিল বিজিএমইএ।
২০১১ সালে হাইকোর্টের রায়ে ওই ভবনটিকে ‘হাতিরঝিল প্রকল্পে একটি ক্যানসারের মতো’ উল্লেখ করে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে ভেঙে ফেলতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করে বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ। এই লিভ টু আপিল খারিজ করে রায় ঘোষণা করেন আপিল বিভাগ।
পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়, জলাভূমিতে অবস্থিত ‘বিজিএমইএ কমপ্লেক্স’ নামের ভবনটি নিজ খরচে অবিলম্বে ভাঙতে আবেদনকারীকে নির্দেশ দেওয়া হলো। এতে ব্যর্থ হলে রায়ের কপি হাতে পাওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে ভবনটি ভেঙে ফেলতে নির্দেশ দেওয়া হলো। পরবর্তীতে এই রায়টি পুনর্বিবেচনা চেয়ে আবেদন করেছিল বিজিএমইএ।
/ইউআই/এফএস/
আরও পড়ুন-








