দশম জাতীয় সংসদের সাত অধিবেশনের বিভিন্ন আলোচনায় সংসদ সদস্যেরা ১৫ শতাংশ সময় ব্যয় করেছেন অসংসদীয় ভাষা ব্যবহারের মাধ্যমে। এই সময়ে তারা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রতি আক্রমণাত্মক, কটু ও অশ্লীল শব্দ ব্যবহার করেছেন। এসব তথ্য উঠে এসেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) এক প্রতিবেদনে।
রবিবার (৯ এপ্রিল) টিআইবি কার্যালয়ে ‘পার্লামেন্টওয়াচ- দশম জাতীয় সংসদ: সপ্তম থেকে ত্রয়োদশ অধিবেশন’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সংসদ কার্যক্রমের বিভিন্ন পর্বে সংসদ সদস্যরা সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বাইরে গিয়ে অসংসদীয় ভাষার (আক্রমণাত্মক, কটু ও অশ্লীল শব্দ) ব্যবহার হতে দেখা যায়। রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনা ও বাজেট আলোচনার ক্ষেত্রে সংসদের বাইরের ও ভেতরের প্রতিপক্ষ সম্পর্কে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিষয় উপস্থাপন ও বিগত সরকারের ব্যর্থতার বিবরণ দিতে এই অসংসদীয় ভাষার ব্যবহার করা হয়েছে। তবে অন্যান্য পর্বে সংসদ সদস্যদের জন্য বরাদ্দ সময় কম থাকায় সেখানে অসংসদীয় ভাষা ব্যবহারের সুযোগ তুলনামূলকভাবে কম হয়েছে।
সংসদ অধিবেশনে সংসদ সদস্যদের আচরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দশম সংসদের সপ্তম থেকে ত্রয়োদশ অধিবেশনে প্রধান বিরোধী দলসহ অন্যান্য বিরোধী সদস্যদের অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য। বিরোধী দলের সংসদ বজর্নের মতো ঘটনা দশম সংসদে ঘটেনি। কিন্তু কার্যপ্রণালী বিধি ২৭০-এর ৬ উপবিধি লঙ্ঘন করে সরকার ও বিরোধী দলীয় সদস্যরা অসংসদীয় ভাষা ব্যবহার করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে টিআইবির প্রতিবেদনে।
সরকারি ও বিরোধী উভয় দলের নেতা ও সদস্যরা সংসদের বাইরের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নিয়ে বিভিন্নভাবে কটাক্ষ করলেও স্পিকারকে নিরব ভূমিকা পালন করতে দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। সংসদীয় কার্যক্রমের বিভিন্ন পর্বের আলোচনায় সদস্যরা ৪শ ৩৩ বার সংসদের ভেতরের প্রতিপক্ষ এবং দুই হাজার ১১ বার সংসদের বাইরের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নিয়ে অসংসদীয় ভাষার ব্যবহার করেছেন।
অধিবেশন চলাকালে অসংসদীয় ভাষা ব্যবহারের পাশাপাশি গ্যালারিতে সংসদ সদস্যদের বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে দেখা গেছে বলেও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এমন আচরণের মধ্যে রয়েছে— সদস্যদের নিজ নিজ আসন ছেড়ে অন্য আসনে গিয়ে অন্য সদস্যদের সঙ্গে কথা বলা, অনেক সদস্যের ক্ষেত্রে নিজেদের মধ্যে দু’জন বা তিন-চার জনের ছোট ছোট গ্রুপে কথা বলা, সদস্যদের সংসদ কক্ষের ভেতর বিচ্ছিন্নভাবে চলাফেরা করা ও কোনও সদস্যের বক্তব্য চলাকালীন তার আশপাশের আসনের সদস্যদের নিজ আসনে বসেই নিজেদের মধ্যে কথা বলা। এসব আচরণ ২৬৭ বিধির ২, ৪, ৮ উপবিধির পরিপন্থী।
সংসদের বাইরের রাজনৈতিক জোটের প্রসঙ্গে সরকারি দল ও বিরোধী দলের সদস্যদের অসংসদীয় ভাষা ব্যবহারের প্রসঙ্গে স্পিকারের প্রত্যাশিত ভূমিকায় ঘাটতি দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, স্পিকারের দায়িত্ব অধিবেশন চলাকালে সংসদ গ্যালারিতে শৃঙ্খলা রক্ষা করা হলেও কোনও কোনও ক্ষেত্রে তার কার্যকর ভূমিকার ঘাটতি লক্ষণীয়।
প্রতিবেদনটিতে সংসদকে আরও কার্যকর করার জন্য টিআইবি’র পক্ষ থেকে কিছু সুপারিশও করা হয়েছে। এর একটি অংশে বলা হয়েছে, সংসদে আরও বেশি শৃঙ্খলা বজায় রাখাসহ সংসদ সদস্যদের অসংদীয় ভাষার ব্যবহার বন্ধে বিধি অনুযায়ী স্পিকারকে আরও জোরালো ভূমিকা নিতে হবে।
টিআইবির প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান, ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন অ্যাডভোকেট সুলতানা কামালসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন-
সংসদে কোরাম সংকটে অপচয় ৪৭ কোটি টাকা
/আরজে/টিআর/








