দেশের বন্যা দুর্গতের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে জাতীয় ঈদগাহে ঈদুল আজহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টায় জাতীয় ঈদগাহে অনুষ্ঠিত এই জামাতে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদসহ দেশের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যেই কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনি পার হয়ে সকাল থেকেই ঈদগাহ ময়দানে আসতে শুরু করেন মুসুল্লিরা। দীর্ঘ লাইন ধরে তারা ঈদগাহ ময়দানে প্রবেশ করেন। এ সময় স্থান সংকুলান না হওয়ায় নামাজ আদায় করতে মুসল্লিরা রাস্তায়ও দাঁড়িয়ে যান।
নামাজে ইমামতি করেন বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম মাওলানা মুহাম্মদ মিজানুর রহমান। এ সময় দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় বিশেষ মোনাজাত করেন। এসময় তিনি দেশের বন্যা দুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সমর্থ মুসলমানদের প্রতি আহ্বান জানান।
মোনাজাতের আগে তিনি বলেন, ‘আল্লাহর নির্দেশ রয়েছে গরীবদের পাশে দাঁড়ানোর, এবং মানবিক বিষয়টা আমাদের অন্তরে ধারণ করে আমাদের ত্যাগ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তা ধারণ করে আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াতে।’
ঈদ জামাতে রাষ্ট্রপতি ছাড়াও ছাড়া মন্ত্রী-সংসদ সদস্য, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন, বিচারপতি ও সচিব এবং বাংলাদেশে অবস্থানরত মুসলিম দেশের কূটনীতিকরাও উপস্থিত ছিলেন।
দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত ঈদের এ প্রধান জামাতে নারী ও বিদেশিদের নামাজ আদায়ে বিশেষ ব্যবস্থা ছাড়াও আগত মুসল্লিদের জন্য খাবার পানি ও মোবাইল টয়লেটেরও বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
অন্যদিকে, বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদে রাজধানীর দ্বিতীয় বৃহত্তম ঈদ জামাতের প্রথমটি অনুষ্ঠিত হয় সকাল ৭টায়। দ্বিতীয় জামাত সকাল ৮টা, তৃতীয় জামাত সকাল ৯টায় শেষ হয়। এছাড়া চতুর্থ জামাত সকাল ১০টা এবং পঞ্চম ও সর্বশেষ জামাত সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে।
এছাড়াও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের উদ্যোগে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় সকাল সাড়ে ৭টায় অনুষ্ঠিত ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য ও সংসদ সদস্যরাসহ সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারী, গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং এলাকার মানুষও অংশ নেন।
উল্লেখ্য যে, দুই সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে রাজধানীর ৪০৯টি স্থানে এবার পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঈদ জামাতের আয়োজন করা হয়। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের প্রধান জামাতসহ ঈদুল আজহার ২২৯টি এবং উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৮০টি জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
ছবি: সাজ্জাদ হোসেন







