জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ, শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ বন্ধ, প্রশ্নফাঁস, ঝরেপড়া রোধ ও দেশীয় সংস্কৃতির বিকাশে দেশে স্বীকৃতি পাওয়া কিন্তু বাস্তবে অস্তিত্বহীন স্কুল ও কলেজের তথ্যসহ তালিকা চেয়েছে সরকার। পাশাপাশি অনুমোদনহীন ও স্বীকৃতিহীন চলমান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তালিকাও চাওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) পরিচালক (প্রশাসন ও কলেজ) প্রফেসর মোহাম্মদ শামছুল হুদা বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য জানান।
অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, নামের স্বীকৃতি থাকলেও অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাস্তবে কোনও অস্তিত্ব নেই। আবার স্বীকৃতি বা পাঠদানের অনুমোদন না থাকলেও নিয়মিতই চলছে কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তাই মনিটরিংয়ের জন্যই জরুরিভাবে তথ্যসহ তালিকা চাওয়া হয়েছে মাঠ পর্যায় থেকে।
এ বিষয়ে প্রফেসর মোহাম্মদ শামছুল হুদা বলেন,‘অনুমোদন নিয়েও অনেক প্রতিষ্ঠান চালানো হচ্ছে না। বাস্তবে অস্তিত্বহীন এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামে অন্য কিছু করা হচ্ছে কিনা তা জানা দরকার। সরকারের নিয়ম-নীতির বাইরে কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে কিনা, এর মাধ্যমে জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ার মতো কোনও কিছু পরিচালিত হচ্ছে কিনা এবং বাণিজ্যের উদ্দেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চলছে কিনা তা মনিটরিং করা হবে। এছাড়া ঝরেপড়া রোধসহ বিভিন্ন কারণে তথ্যসহ তালিকা চাওয়া হয়েছে।‘
গত মঙ্গলবার (২৮ নভেম্বর) মাউশির পরিচালক প্রফেসর মোহাম্মদ শামছুল হুদা স্বাক্ষরিত এক আদেশে বলা হয়,এডুকেশনাল আইডেন্টিফিকেশন নম্বরধারী (ইআইএন) বাস্তবে অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠান এবং অনুমোদন ও স্বীকৃতি পাওয়া সব প্রতিষ্ঠানের তথ্যসহ তালিকা আগামী ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে মাউশিতে পাঠাতে হবে। ঢাকা, ময়মনসিংহ, বরিশাল, খুলনা, রাজশাহী, রংপুর, সিলেট,কুমিল্লা এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালকরা মাউশির সহকারী পরিচালক (একিউএ ইউনিট) বরাবর ইমেইলে সফট কপি পাঠাবেন। মাউশির এই পরিচালক স্বাক্ষরিত আরও একটি আদেশে বলা হয়, আগামী ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে তথ্যসহ এসব প্রতিষ্ঠানের তালিকা দেশের সব জেলা শিক্ষা অফিসাররা আঞ্চলিক কার্যালয়ে পাঠাবেন।
এসব বিষয়ে মোহাম্মদ শামছুল হুদা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি অনেক প্রতিষ্ঠান শিক্ষাকে পণ্য করেছে। স্যোশাল সার্ভিস দেওয়ার জন্য প্রতিষ্ঠান করা হচ্ছে না। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলো অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে। তারা সরকারের বিধি-বিধান কতখানি মানছে, কতখানি আস্থার জায়গায় আছে, তা জানতে তালিকা চেয়েছি।’
জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ বিষয়ে প্রফেসর মোহাম্মদ শামছুল হুদা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এসব প্রতিষ্ঠান যদি আমাদের বিধি-বিধান না মানে, নিয়ন্ত্রণে না থাকে, এতে যদি জঙ্গিবাদ তৈরি হয়, প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটে, তাহলে পুরো শিক্ষা ব্যবস্থাই প্রশ্নবিদ্ধ হবে। তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে পারবো না। এ ধরনের কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যদি বছরে পাঁচজন করে শিক্ষার্থীকে জঙ্গিবাদে ঠেলে দেয়, তাহলে পুরো বাংলাদেশ নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে পড়বে।’
ঝরেপড়া শিক্ষার্থীদের বিষয়ে প্রফেসর মোহাম্মদ শামছুল হুদা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রাথমিক থেকে শতভাগ শিক্ষার্থী উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আসছে। এদের যেকোনোভাবে নার্সিং করতে হবে। এসব শিক্ষার্থীদের মধ্যে যাদের জন্য শিক্ষা চ্যালেঞ্জিং―বিশেষ করে নারীদের অনেকেই উচ্চশিক্ষায় আসছে না। বাল্যবিয়ের শিকার হচ্ছে। তাদের শিক্ষায় ধরে রাখতে হবে।’
প্রতিষ্ঠান প্রধান ও গভর্নিং বডির ওপর নজরদারি করা হবে উল্লেখ করে মাউশির এই পরিচালক বলেন,‘প্রতিষ্ঠান প্রধানদের নির্দেশনা থাকবে- শিক্ষার পাইপলাইন থেকে মাঝপথে যেনও কেউ চলে না যায়। প্রাথমিকে ২১ শতাংশ ও মাধ্যমিকে ৪৫ শতাংশ ধরে রাখা যাচ্ছে না। কিন্তু এটি রোধ করা জরুরি।’
মোহাম্মদ শামছুল হুদা আরও বলেন, ‘হলি আর্টিজানে বেশি লোক মারা যায়নি। একটি বাস দুর্ঘটনাতেও এর চেয়ে অনেক বেশি লোক মারা যায়। কিন্তু এই একটি ঘটনা সারা বিশ্বকে আতঙ্কিত করেছে। জাতি হিসেবে আমরা কলঙ্কিত হতে যাচ্ছি। প্রশ্নের মুখোমুখি হচ্ছি। ঝরেপড়া এসব শিক্ষার্থীর এক শতাংশের সঙ্গেও যদি জঙ্গি কানেকটিভিটি তৈরি হয়, তাহলে আমরা জাতি হিসেবে কলঙ্কিত হবো।’








