তিন ভাগ হচ্ছে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলামের আসন

Send
এমরান হোসাইন শেখ
প্রকাশিত : ২২:৩৩, এপ্রিল ০১, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ০৮:৪৯, এপ্রিল ০২, ২০১৮

 

খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলামএকাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ৩৮টি সংসদীয় আসনের পরিবর্তন এনে গত ১৪ এপ্রিল এর খসড়া প্রকাশ করেছিল নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এতে ওই ৩৮টি আসনে কমবেশি পরিবর্তন করা হলেও ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামের নির্বাচনি এলাকা ঢাকা-২ আসনে। প্রস্তাবিত খসড়া পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ঢাকা-২ নির্বাচনি এলাকা তিনটি আসনের সঙ্গে বিলীন হয়ে গেছে। এই আসন বিন্যাসের ওপর আপত্তি জানিয়ে কমিশনে আপিল করেছেন ওই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম। তিনি আশা করছেন, তার নির্বাচনি এলাকা অপরিবর্তিত থাকবে।

রবিবার ছিল সীমানা পুনর্নির্ধারণের খসড়ার ওপর দাবি, আপত্তি ও পরামর্শের শেষ সময়। অ্যাডভোকেট কামরুলের মতো অনেকেই এই ধরনের দাবি-আপত্তি তুলেছেন। সীমানা পুনর্নির্ধারণের দাবি, আপত্তি ও পরামর্শ জমা দেওয়ার শেষ দিনেই প্রায় চারশ আবেদন জমা পড়েছে বলে জানা গেছে। এসব আবেদনের বেশিরভাগই প্রস্তাবিত সীমানায় অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। এ তালিকায় রয়েছেন সরকার দলীয় কয়েকজন মন্ত্রী-এমপিরাও।

সূত্র আরও জানায়, এসব দাবি আপত্তি একত্রিত করে কমিশন বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। ইসির সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে বিভাগ অনুযায়ী শুনানির জন্য নথি উপস্থাপনের প্রস্তুতি চলছে।

প্রসঙ্গত, আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গত ১৪ মার্চ ৩৮টি আসনের পরিবর্তন এনে ৩শ সংসদীয় আসনের খসড়া প্রকাশ করে ইসি। এর আগে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ২০১৩ সালে ৩০ জেলার ৭৫টি নির্বাচনি আসনের ওপর ৮৯৪টি দাবি, আপত্তি ও পরামর্শের আবেদন জমা পড়েছিল। ২০০৮ সালে সর্বোচ্চ প্রায় ৪ হাজার আপত্তি জমা পড়ে।

যে পরিবর্তনের প্রস্তাব এসেছে ঢাকা-২ আসনে

নির্বাচনি এলাকা ঢাকা-২ আসন থেকে পরপর দুই বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম। বিদ্যমান সীমনায় এই আসনটি ঢাকা সিটি করপোরেশনের তিনটি ওয়ার্ড (৫৫, ৫৬ ও ৫৭ নম্বর ওয়ার্ড), কেরানীগঞ্জ উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন (হজরতপুর, কলাতিয়া, তারানগর, শাক্তা, রুহিতপুর, বাস্তা ও কালিন্দী), সাভার উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন (আমিন বাজার তেতুলঝোড়া ও ভাকুর্তা) নিয়ে গঠিত। কিন্তু প্রস্তাবিত খসড়া সীমানায় পুরো কেরানীগঞ্জ উপজেলাটি এখন ঢাকা-২ আসনের মধ্যে পড়েছে (আগে উপজেলার মূল অংশ তথা আগানগর, জিনজিরা, তেঘরিয়া, কোন্ডা ও শুভাঢ্যা নিয়ে ছিলো ঢাকা-৩)। ফলে কামরুল ইসলামের নির্বাচনি এলাকার কেরানীগঞ্জ অংশটি ঢাকা-২-এর মধ্যে পড়েছে। প্রস্তাবিত খসড়ায় এই সংসদ সদস্যের নির্বাচনি এলাকার সাভারের অংশটি পড়েছে (আর আমিন বাজার তেতুলঝোড়া ও ভাকুর্তা ইউনিয়ন) ঢাকা-৩ আসনের মধ্যে। একইসঙ্গে ঢাকা ১৪ আসনের (কাউন্দিয়া ইউনিয়ন) ও সাভার পৌরসভা, সাভার, বিরুলিয়া ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত হয়েছে। এছাড়া আশুলিয়া থানার অন্তর্গত শিমুলিয়া, ধামসোনা, ইয়ারপুর, আশুলিয়া, পাথালিয়া ও সাভার ক্যান্টনমেন্ট নিয়ে গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে ঢাকা-১৯ আসনের।

নির্বাচনি আসনের এই পরিবর্তনের প্রস্তাবের বিষয়ে জানতে চাইলে কামরুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা কমিশনে আপিল করেছি। আশা করি কমিশন বিবেচনা করবে। আসনটি বর্তমানে যে অবস্থায় রয়েছে, সেটি বহাল থাকবে।’

কেরানীগঞ্জ উপজেলার মূল অংশ তথা আমিন বাজার তেতুলঝোড়া ও ভাকুর্তা এবং ঢাকা ১৪ আসনের অন্তর্গত কাউন্দিয়া ইউনিয়ন বাদে পুরো সাভার উপজেলা রয়েছে ঢাকা ১৯ আসনে।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, খসড়া সীমানায় পুরো কেরানীগঞ্জ উপজেলা এখন একটি নির্বাচনি আসন (ঢাকা-২), আর জাতীয় সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণের পক্ষে-বিপক্ষে ছয় শতাধিক দাবি-আপত্তি ও পরামর্শ ইসিতে জমা পড়েছে। রবিবার দাবি-আপত্তি জানানোর শেষদিনেই কয়েকশ’ আবেদন জমা পড়েছে। ইসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শিগগিরই জমা পড়া আবেদনের ওপর শুনানির দিনতারিখ ধার্য করা হবে। পুরো ইসি এ শুনানি করে সীমানা চূড়ান্ত করবে।  

 

/এমএনএইচ/

লাইভ

টপ