৯ দফা দাবি বাস্তবায়নে যতক্ষণ না পর্যন্ত সরকার কোনও লিখিত পদক্ষেপ নেবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার (৩ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর উত্তরা হাউজ বিল্ডিংয়ে নিরাপদ সড়কের দাবিতে এক মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা এসব কথা জানান।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘সরকার মৌখিকভাবে আমাদের ৯ দফা দাবি মেনে নিয়েছে, কিন্তু আমরা এর বাস্তবায়ন চাই। আমরা লিখিত পদক্ষেপ ও প্রজ্ঞাপন জারি চাই। কারণ, অতীতে সরকার ছাত্র সমাজের অনেক দাবি মেনে নিলেও তার কোনও বাস্তবায়ন হয়নি। সেজন্য আমরা লিখিত পদক্ষেপ চাই।’
শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি। কোনও ভাংচুর ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করিনি। আজ শুক্রবার জুমার নামাজ, তাই আমরা সড়ক অবরোধ করছি না। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে দাবি আদায়ের জন্য মানববন্ধন কর্মসূচি করছি।’
আশা ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী রাহাত বলেন, ‘আমরা আজ শুধু মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করছি। আজ কোনও শিক্ষার্থী সড়ক অবরোধ করছে না। তবে আমাদের দেওয়া দাবির লিখিত পদক্ষেপ না পাওযা পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়বো না। আগামীকাল (শনিবার) সকাল ৮ থেকে আবার আমরা সড়কে অবস্থান নেবো।’
তিনি আরও বলেন, ‘সড়কে পরিবহনের মালিকরা সরকারের এমপি-মন্ত্রীর পরিচয় দিয়ে চলাচল করছে। কেউ কিছু বলতে পারছে না। পরিবহনের মালিকরা মন্ত্রীর শ্যালক অথবা ভাই পরিচয় দিয়ে ব্যবসা করছে। তারা মানুষের ওপর জুলুম করছে, আমাদের ভাইবোনদের মেরে ফেলছে। এখন সময় এসেছে এসব খেলা বন্ধ করার।’
এ সময় শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন থেকে নৌমন্ত্রী শাজাহান খানের পদত্যাগ দাবি করেন।
এদিকে মানববন্ধনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অভিভাবকরাও দাঁড়িয়েছে। তারা বলছেন, আর কতদিন এভাবে সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষের প্রাণ যাবে? সরকার এগুলো মনিটরিং করছে না। পরিবহন চালকরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তাদের বেপরোয়া মনোভাব রুখতে আমরাও একমত হয়েছি।’
এদিকে শিক্ষার্থীরা মানববন্ধনে দাঁড়ানোর সময় পুলিশ সদস্যরা প্রত্যেকের আইডি কার্ড চেক করে। আইডি কার্ড ছাড়া কোনও শিক্ষার্থীকে মানববন্ধনে দাঁড়াতে অথবা সড়কে অবস্থান করতে নিষেধ করছে তারা।








